Facebook Google Plus Twiter YouTube

ত্রিপুরার নির্বাচনে এবার চাণক্যের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন অসমের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা ?

দেবাশিস মজুমদার,

সম্প্রতি ত্রিপুরা সফর করে প্রদেশ বিজেপিকে আরেক দফায় অক্মিজেন জুগিয়ে গেলেন অসমের অর্থমন্ত্রী তথা নেডার নেয়া্রম্যান ডঃ হেমন্ত বিশ্বশর্মা৷ দুই দিনের সফরে এসে প্রদেশ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করে পরিষদীয় দলনেতায় সিলমোহর দিয়ে গেছেন৷ সেই সাথে ভোটার তালিকার প্রত্যেকটি পৃষ্টার জন্য একজন করে পৃষ্টাপ্রমুখ করার জন্য প্রদেশ কমিটিকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন৷ যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে বিজেপির প্রথম কোনো উদ্যোগ৷ সব কিছু মিলিয়ে ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে অসমের এই তরুণ তুর্কি নেতার উপরেই ভরসা করে এগোতে চাইছেন তা আরো একবার প্রমাণিত হলো৷

ত্রিপুরায় প্রধান বিরোধী হিসাবে উঠে আসা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন, বামশাসিত ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসতে গেলে প্রধান কাজটি হবে বাম বিরোধী ভোট বিভাজন রোখা৷ তার প্রথম প্রচেষ্টা হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় বিধায়ককে ইতোমধ্যে বিজেপির পতাকাতলে নিয়ে আসা হয়েছে৷ বলাবাহুল্য যে, যার মধ্যস্থতায় এই  অসাধ্য সাধন হয়েছে তিনি হলেন অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা৷ ব্যক্তিগত সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরার বিরোধী বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের সহ অন্য পাঁচ বিধায়ককে তিনি বিজেপির পতাকাতলে সামিল করতে সক্ষম হয়েছেন৷ এই পর্বটি অনেকদিন আগে সম্পন্ন হলেও বিধানসভায় বিধায়কদলের নেতা কে হবেন তা চূড়ান্ত করেও ঘোষণা দিতে পারছিল না প্রদেশ নেতৃত্ব৷ অবশেষে হেমন্ত বিশ্বশর্মার সাম্প্রতিক ত্রিপুরা সফরে তার সিলমোহর পড়েছে৷ উপজাতি বিধায়ক দিবাচন্দ্র রাঙ্খলকে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে৷

ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে এখন বিজেপির কাছে দ্বিতীয় প্রধান হার্ডল হলো উপজাতি ভোট বিভাজন রোখা৷ রাজ্যের ২০টি উপজাতি সংরক্ষিত আসনে বিজেপি দল এই সময়ের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হলেও বামেদের বিরুদ্ধে বহুমুখী প্রতিদ্বন্ধিতার মুখে জেতার জন্য তা যথেষ্ট নয়৷ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সময়ের মধ্যে বিষয়টা যথেষ্ট উপলদ্ধি করতে পেরেছেন৷ এই পরিস্থিতিতে বাম বিরোধী প্রধান উপজাতি রাজনৈতিক দল ইন্ডিজেনাস পিপলস্ ফ্রন্ট অব তুইপ্রা তথা আইপিএফটিকে বাগে আনার দায়িত্বও এবার সঁপা হয়েছে অসমের এই তুরুণ তুর্কি নেতার উপর৷ তার কারণ< বিজেপির প্রদেশ নেতৃত্বে সাথে আইপিএফটি নেতাদের কোনো ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রায় নেই বললেই চলে৷ কিন্তু নেডার চেয়ারম্যান হিসাবে এই রাজ্যের বাম বিরোধী উপজাতি রাজনৈতিক দলগুলির সাথে একটা সম্পর্ক রয়েছে অর্থমন্ত্রীর৷ তাই আইপিএফটির সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলা কিংবা সমন্বয় রক্ষার দায়িত্বও  হেমন্ত বিশ্বশর্মার উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷

প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ্য করা আবশ্যক যে, দুইদিনের ত্রিপুরা সফরে এসে হেমন্ত বিশ্বশর্মা এই কাজটিও নীরবে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছেন৷ এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটির সাথে প্রকাশ্যে কোনো বৈঠক না করলেও ভোটের আগে জোটের পথ প্রশস্ত করার জন্য যা করার তা করে গেছেন৷ যথারীতি আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলন করে হেমন্ত বিশ্বশর্মা তেমন একটা ইঙ্গিতও দিয়ে গেছেন৷ তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর পরেই আঁতাতের ব্যপারে সমস্ত কিছু প্রকাশ্যে আনা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে৷

ভোট বিভাজন রুখতে হেমন্ত’র উপরে ভরসা করা ছাড়াও নির্বাচনি রণকৌশল ঠিক করার ব্যাপারেও বিজেপি এখন তাঁর উপরেই বেশি নির্ভর করছে৷ হেমন্ত বিশ্বশর্মার উপস্থিতিতে ঠিক হয়েছে সারা রাজ্যে ৪ হাজার ৭শ পৃষ্ঠাপ্রমুখ নিয়োগ করার৷ অর্থমন্ত্রী শ্রী শর্মা এখানে জানিয়েছেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ত্রিপুরাতে প্রথম বিজেপি ভোটার তালিকার প্রত্যেকটি পৃষ্ঠা ধরে এগোবে৷ সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী ত্রিপুরাতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৫ লক্ষ ৫ হাজার ৯৯৭ জন৷ ভোটার তালিকার মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা হলো ৪৭০০টি৷ সেইমত বিজেপি এখন প্রত্যেকটি পাতার জন্য একজন করে পৃষ্ঠাপ্রমুখ নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এই পৃষ্ঠাপ্রমুখের কাজ হবে পাতায় যাদের নাম রয়েছে তাঁরা বৈধ কি অবৈধ তা চিহ্ণিত করা৷ সেইসাথে প্রত্যেকটি ভোটারের সাথে দলীয় কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা৷ উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বরে ত্রিপুরায় আসবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ তাঁর উপস্থিতিতে পৃষ্ঠাপ্রমুখেদের নিয়ে বৈঠক হবে৷ অমিত শাহর সফরের আগে পৃষ্ঠাপ্রমুখদের নিয়োগ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় নেতৃত্বকে পরামর্শ দিয়ে গেছেন হেমন্ত৷


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.