Facebook Google Plus Twiter YouTube

এই নিরাপত্তাহীনতায় আর কতদিন পেশাগত দায়বদ্ধতা পালন করে যাবে ত্রিপুরার সাংবাদিকরা?

দেবাশিস মজুমদার

সাংবাদিকতা ও রাজনীতি, একে অপরের পরিপূরক বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে না৷ সাংবাদিকরা সমাজ সমস্যা নিয়ে ভাবেন, আর রাজনীতি ভাবে সমাজের উন্নয়ন নিয়ে৷ সেদিক থেকে রাজনীতি ও সাংবাদিকতা পরস্পরের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে বলা যায়৷ যদিও রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থের বিষয়টি সুপ্ত তথা অন্তর্নিহিত অবস্থায় থাকে৷ বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিগত দিক থেকে বললে বলা যায়- কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে রাজনীতির নেপথ্যে একটা মতাদর্শ প্রতিষ্টার তাগিদ থাকতে পারে৷ কিন্তু সাংবাদিকদের অতটা না করলেও চলে৷ কেননা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে যতই সখ্যতা থাকুক না কেন বর্তমান সমাজব্যবস্থায় সাংবাদিকতা পুরোদস্তুর একটা পেশা৷ যার সাথে জড়িয়ে রয়েছে জীবন জীবিকার বাধ্যবাধকতা৷ আর এই পেশাগত সম্পর্কের টানে সমাজের অন্যান্য পেশার পাশাপাশি রাজনৈতিক পেশায় যুক্ত লোকদের সাথেও সম্পর্ক রেখে চলতে হয়৷* হালে রাজনীতিকেও পেশা বলছি এই কারণে যে, রাষ্ট্রপতি থেকে মন্ত্রী সকলেই বিনিময়ে সরকারি বেতন গ্রহণ করে থাকেন৷ যারা সরকারি মাসোহারা পান না তারা দল থেকে হলেও পেয়ে থাকেন৷ এক শতাংশ নিবেদিত মানুষের কথা বাদ দিয়ে বলা যায়, যারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর জন্য রাজনীতি করেন, তারাও কোনো না কোনো উপায়ে উপার্জনের রাস্তাটা খুঁজে নেন এই রাজনীতির ছত্রছায়ায় থেকে৷*

 পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে যেমন রাজনীতির লোকদের সাথে সাংবাদিকদের একটা যোগাযোগ থাকে তেমনি অন্য একটা কারণও থেকে যায়৷ সামাজিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে হলো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবস্থান৷ সে কারণে কোনো কোনো সাংবাদিক কোনো কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথেও একটা অদৃশ্য কারণে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন৷ সেটা যেমন ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক লাভালাভের কারণে হয়ে থাকে, তেমনি কখনো মতাদর্শগত কারণেও হয়ে যায়৷ কিন্তু এই ভাবনা যখন পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রভাব সৃষ্টি করে তখন বলা হয় বিচ্যুতি৷ কেননা, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার যতই থাকুক না কেন, পাঠকের দরবারে নিরপেক্ষ সংবাদ উপস্থাপনের জন্য সে ততটাই দায়িত্বশীল৷ কিন্তু পেশার প্রতি দায়বদ্ধতাকে ভুলে সাংবাদিকদের কেউ কেউ অনেক সময়েই সংকীর্ণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কাছে আত্মসমর্পণ করে চলেছে৷ এই প্রবণতা যেন পেশাদারিত্বের দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলে তেমনি পাঠকের কাছে সাংবাদিক হিসাবে নিজেকে অবিশ্বাস্য করে তুলতে পারে৷ দুর্ভাগ্যের ঘটনা হলো, রাজনৈতিক মেরুকরণের এই প্রবণতা  ত্রিপুরাতে ক্রমশঃ প্রকট হয়ে উঠছে৷ সম্প্রতি শান্তনু ভৌমিক হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে এই মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল৷ এবার সুদীপ দত্ত ভৌমিকের মৃত্যু নিয়েও যে রাজনীতি সাংবাদিকদের ঐক্য ভাঙতে সক্রিয় হয়ে উঠবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷

এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শান্তনু ইস্যুতে রাজ্যের সাংবাদিক মহল কার্যতঃ তিনভাগে বিভক্ত হয়ে আছে৷ যা ইতোপূর্বে কখনো ঘটেনি৷ একটা অংশ এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সিট তদন্তের পক্ষে রয়েছেন৷ আরেকটা অংশ আছেন যারা সিবিআই তদন্তের দাবিতে সোচ্চার কিংবা আন্দোলনরত রয়েছেন৷ এর বাইরে আরেকটা বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজ রয়েছে যারা না সিট না সিবিআই কোনো তদন্তকেই সমর্থন করতে পারছে৷ কেননা, যারা সিটের তদন্তের পক্ষে তারা বামপন্থী আর যারা সিবিআই তদন্তের পক্ষে তাদের বিজেপি পন্থী সাংবাদিক হিসাবে চিহ্ণিত করা হচ্ছে৷ বলার অপেক্ষা রাখে না যে এবার সুদীপ ইস্যুতেও একই ফর্মুলায় সাংবাদিক ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা চলবে৷ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাজ্যের কর্মরত সাংবাদিকরা কীভাবে পেশাগত দায়বদ্ধতা পালন করে যাবেন? এ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভাবনা চিন্তা করা উচিত৷ অন্যদিকে, রাজ্যের কর্মরত সাংবাদিকদের উচিত রাজনৈতিক সংকীর্ণতার বাইরে বেড়িয়ে মুক্ত চিন্তার দিশারি হওয়া৷ নিজেদের পেশাগত দায়বদ্ধতার তাগিদ থেকেই চোখের ছানি থেকে রাজনীতির রঙকে দূরে সড়িয়ে রাখা উচিত৷ অন্ততঃ ভবিষৎতের প্রয়োজনে হলেও৷ শান্তনু ইস্যুতে রাজ্য সরকারের অবস্থান যাই হোক না কেন সুদীপের হত্যার ঘটনা যেভাবে পুলিশের ব্যারাকে হয়েছে সেখানে এই পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রত্যাশা করা অন্যায় হবে৷ তাই রাজ্য সরকারের উচিত নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া৷


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.