Facebook Google Plus Twiter YouTube

৩৯ আসন নিয়ে ত্রিপুরায় সরকার গঠনের সম্ভাবনা বিজেপি’র, অষ্টম বাম সরকার গঠনে সিপিএমের প্রধান ভরসা কংগ্রেস’ই

বিশেষ প্রতিবেদক

শেষ হলো বিধানসভা নির্বাচনের সরব প্রচার ৷ এবার শুরু হয়ে গেছে কাউন্ট ডাউন৷ ত্রিপুরার রাজনীতির ভাগ্যাকাশে কি লেখা হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে চারদিকে চলছে জোর জল্পনা৷ পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন- এই দুই শব্দবন্দেই যেন চর্চা সকলের৷ তবে স্থানীয় সূত্র কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে আসছে তা গত আড়াই দশক ধরে শাসন ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টের পক্ষে মোটেও সুখের নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷

বলাবাহুল্য যে, গত দুই দশকে এমন শক্ত প্রতিদ্বন্ধিতার মুখে কখনোই পড়তে হয়নি সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে৷কয়েক মাসে অবস্থা হয়েছে ছেঁড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির মত৷ সরব প্রচার শেষ হতে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কেউ কেউ৷ কিন্তু সমীক্ষা রিপোর্টে অনেকেরই শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে উঠছে৷

৬০ আসন বিশিষ্ট ত্রিপুরা বিধানসভার যে দল ৩১টি আসন পাবে তারাই জয়ের মালা গলায় পড়বে৷ এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে এবার ভোট হচ্ছে ৫৯টিতে৷ ফলে যে দল ৩০টি আসনে জয়লাভ করবে সেই দলই সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। সেই মত আসন গুলির অবস্থা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ত্রিপুরায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বরাবরই বড় ভূমিকা নিয়ে আসছে ২০টি উপজাতি সংরক্ষিত আসন ৷ আর এই উপজাতি সংরক্ষিত আসনগুলির উপর এতদিন একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বামেদেরই৷ বর্তমান বিধানসভা অধিবেশনের কথাই ধরা যাক৷ ১টি ছাড়া বাকি ১৯টি আসনই রয়েছে বামেদের দখলে৷ কিন্তু চিরাচরিত এই ভোটব্যাঙ্কের হাল এবার অত্যন্ত করুন শাসক দলের৷ আর তার দুটি কারণ৷ এক পাহাড়ে বিরোধী আইপিএফটির আধিপত্য বিস্তার, আর দুই নির্বাচনে শাসক দলের অনুগত সংগঠন গণমুক্তি পরিষদের নিষ্ক্রীয়তা৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ২০টি আসনের মধ্যে বড়জোর এবার ৮টি আসন পেতে পারে সিপিএম। এই আসনগুলি হলো সিমনা, গোলাঘাঁটি, ;চড়িলাম, রামচন্দ্রঘাট, আশারামবাড়ি, জোলাইবাড়ি, মনু, করবুক। অন্যদিকে ১২টি আসনই চলে যেতে পারে বাম বিরোধী বিজেপি-আইপিএফটি জোটের দখলে৷ এই আসনগুলি হলো- মান্দাইবাজার, টাকারজলা, কৃষ্ণপুর, বাগমা , শান্তিরবাজার, অম্পিনগর, রাইমাভেলি, আমবাসা, কারমছড়া, ছাওমনু, পেঁচারতল ও কাঞ্চনপুর৷

রাজ্যের বাকি ৪০টি আসনের মধ্যে ১০টি আসন তফশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। বর্তমানে এই আসনগুলিতেও রয়েছে বামফ্রন্টের আধিপত্য৷ আসনগুলি হলো- বামুটিয়া, বড়জলা, প্রতাপগড়, বাঁধারঘাট, নলছড়, কাকড়াবন-শালগড়, রাজনগর, সুরমা, পাবিয়াছড়া ও ফটিকরায়৷ বর্তমানে ১০টি তপশিলী জাতি সংরক্ষিত আসনেও শাসক দলের অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে। বামুটিয়া, বড়জলা, বাধারঘাট, সুরমা, পাবিয়াছড়া, ও ফটিকরায় এই ছয়টি আসনেই এবার বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।  বাকি চারটি আসন রাজনগর, কাঁকড়াবন, প্রতাপগড় ও নলচড় এই চারটি আসন থেকে যেতে পারে বামেদের।

৩০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে যেখানে বর্তমানে বিধানসভায় একটি মাত্র আসন রয়েছে বিরোধীদের দখলে সেখানে ২০১৮র নির্বাচনে বিজেপি-আইপিএফটি জোটের অনুকূলে যেতে পারে ১৮টি আসন৷

অন্যদিকে, সাধারণ ক্যাটাগরিভুক্ত যে ৩০টি আসন রয়েছে তারমধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় রয়েছে সাতটি আসন৷ এই সাতটি আসনের মধ্যে মাত্র ১টি আসনেই বামফ্রন্টের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে৷ এই আসনটি হলো মজলিশপুর৷ বাকি ছয়টি আসনেই জয়ী হতে পারেন বিরোধী বিজেপি প্রার্থীরা৷ এই আসন ছয়টি হলো- মোহনপুর, খয়েরপুর, আগরতলা, রামনগর, টাউন বড়দোয়ালী ও বনমালীপুর৷ বলাবাহুল্য যে, আগরতলা শহর এবং শহরতলীর অন্তর্গত এই আসনগুলি বরাবরই বাম বিরোধী বলে পরিচিত৷ বর্তমানে চারজন বিরোধী বিধায়ক রয়েছেন এই ছয়টি আসনের মধ্যে৷

সিপাহিজলা জেলার অধীনে অসংরক্ষিত আসন রয়েছে ৬টি৷ এই জেলায় তুলনামূলকভাবে বামেদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি-আইপিএফটি জোট৷ অংরক্ষিত এই ছয়টি আসনের মধ্যে ২টি আসন বিজেপি জোটের পক্ষে আসতে পারে৷ এই আসন দুটি হলো- সূর্যমণিনগর ও সোনামুড়া৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র ধনপুর, বক্সনগর, বিশালগড় ও কমলাসাগর এই চারটি আসনে এগিয়ে রয়েছেন বাম প্রার্থীরা৷

খোয়াই জেলার অধীনে অসংরক্ষিত আসন রয়েছে তিনটি৷ এই তিনটি আসনের মধ্যে খোয়াই আসনটিতে বামপ্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে৷ বাকি তেলিয়ামুড়া ও কল্যাণপুর-প্রমোদনগরে বিরোধী বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি৷

গোমতী জেলার অধীনে অংসরিক্ষত আসন রয়েছে তিনটি মাতাবাড়ি ও রাধাকিশোরপুর৷ এই তিনটি আসনেই বিরোধী প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি৷ দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় বিরোধী জোটের সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণ৷ মূলতঃ এটা ভেবেই প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত দক্ষিণ জেলার নির্বাচনী সমাবেশটি সড়িয়ে নেওয়া হয়েছিল সোনামুড়ায়৷ যদিও শেষ পর্যন্ত এই জেলার দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আসতে হয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর শান্তিরবাজার এবং সাব্রুম এই দুটি আসনে জয়ের আশা করছে বিরোধী জোট৷ অন্যদিকে বিলোনীয়া এবং ঋষ্যমুখ এই দুটি আসনে জয়ী হতে পারেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা৷ ধলাই জেলায় একমাত্র অসংরিক্ষত কমলপুর আসনটিতেও জয়ের প্রবল সম্ভাবনা বিরোধী জোটের৷ ঊনকোটি জেলায় অসংরিক্ষত আসন রয়েছে দুটি কৈলাসহর এবং চন্ডীপুর৷ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহার গড় কৈলাসহর৷ শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি রাজ্য সফরে এসে একটি মাত্র আসন কৈলাসহরে এসে প্রচার করে গেছেন৷ ফলে এই আসনে ভোট বিজেপি এবং কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটিতে শাসক দল সিপিএমের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি৷ অন্যদিকে, সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্ধিতা হতে পারে চন্ডীপুর আসনটিতে৷যদিও এই আসনটিতেও জয়ের সম্ভাবনা বেশি বর্তমান মন্তি্রসভার সদস্য তপন চক্রবর্তীরই৷

তবে ঊনকোটি জেলায় সামগ্রিকভাবে বিজেপি জোট পিছিয়ে থাকলেও একতরফা বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার পাঁচটি অসংরিক্ষত আসন কদমতলা-কূর্তি, বাগবাসা, ধর্মনগর, যুবরাজনগর ও পানিসাগরে৷

সব মিলিয়ে ৬০ আসন বিশিষ্ট ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনে এবার বিজেপি-আইপিএফটি জোটের অনুকূলে যেতে পারে ৩৯টির মত আসন৷ শাসক দল সিপিএম তথা বামফ্রন্ট পেতে পারে ২১টির মত আসন৷ তবে বিধানসভায় কংগ্রেস কিংবা তৃণমূলক কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব শূণ্যে নেমে আসতে পারে ৷ যদিও এবারের নির্বাচনে বামেদের সরকার গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে কংগ্রেস কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের উপর৷ এই দুই দল যত বেশি অবাম ভোটে ভাগ বসাতে পারবে বিজেপি জোটের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা ততটাই ক্ষীণ হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত৷


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.