Facebook Google Plus Twiter YouTube

ভারতীয় সাংবাদিকতা বিদেশি ছাঁচে পড়ে গেছে। বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা পালটে দেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে,এ লক্ষণ মোটেও শুভ নয়

By Our Special Correspondent

সাম্প্রকিককালে বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে পালটে দেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। দালালগোছের বুদ্ধিজীবীতে ভরে গেছে দেশ। এককথায় বুদ্ধিজীবী মহলকে গ্রাস করেছে দালালরাজ।  রবিবার গুয়াহাটির মাছখোয়ায় প্রাগজ্যোতিষ সাংস্কৃতিক প্রকল্প মিলনায়তনে ‘দেবর্ষি নারদ জয়ন্তী’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদাত্ত বক্তব্য পেশ করছিলেন অধ্যাপক সিনহা।

বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র গুয়াহাটি কর্তৃক আয়োজিত ঠাসা শ্রোতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিক্ষা, আইন এবং গুয়াহাটি মহানগর উন্নয়নমন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য পেশ করেছেন। বৈদিক যুগ থেকে সাম্প্রতিককালের সাংবাদিকতার কার্যপদ্ধতি ভাবধারা, সমাজ তথা দেশের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে নির্মোহ তথ্য সংবলিত ব্যাখা করেছেন তিনি। বলেন, আজকালকার সাংবাদিকতা পাশ্চাত্য চিন্তাধারার কবলে পড়েছে। এ থেকে বেরিয়ে এসে কী করে ইতিবাচক, সমাজ-হিতকর সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠিত করা যায় তার বিশ্লেষণ করেছেন বক্তা। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বপ্রথম সাংবাদিক দেবর্ষি নারদ স্বর্গ ও মর্ত্যের সঙ্গে কী রকম যোগসূত্র স্থাপন করেছিলেন তার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি।

অধ্যাপক বলেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক স্বর্ণময় ইতিহাস রয়েছে। মূলত পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী চিন্তাধারার পুরোপুরি বিপরীত মেরুতে ভারতীয় সাংবাদিকতার অবস্থান ছিল। এখন ভারতীয় সাংবাদিকতা বিদেশি ছাঁচে পড়ে গেছে। এ লক্ষণ মোটেও শুভ নয়। অতএব পাশ্চাত্য ও পুঁজিবাদী মতবাদ ছেড়ে ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসকে সামনে রেখে সাংবাদিকতা যেদিন এ দেশে প্রবর্তন হবে, সেদিন সমাজে সুস্থ পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে মনে করেন অধ্যাপক রাকেশ সিনহা। বলেন সমাজের পরিবর্তন ও সর্বাঙ্গীন বিকাশে যে বৌদ্ধিক কাজে আসে না সে ধরনের বৌদ্ধিকতার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। তিনি ভারতের সর্বাঙ্গীন বিকাশে এবং সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক, রাষ্ট্রবাদী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে তার সাবলীল বিশ্লেষণ করেছেন। রাষ্ট্রবাদীর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি প্রাক-স্বাধীন যুগে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে মৃত্যু এবং নিশ্চিত কারাবাস অবধারিত জেনেও বিভিন্ন সংবাদপত্রে সম্পাদকীয় লেখার লাইন পড়ে যেত, সে কাহিনীও শুনিয়েছেন শ্রোতাদের।

অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে তিনি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্রিটিশ ভাবধারায় রচিত ইতিহাসের বদলে ভারতীয় ইতিহাসপাঠের প্রচলন করার অুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতি কৌশলে দেশের ইতিহাস সংকুচিত করা হয়েছে। নাম ধরে কয়েকজন ‘তথাকথিত ঐতিহাসিক’ ব্যক্তির জীবনকাহিনি ও ছবি সরিয়ে অসমের বীরাঙ্গণা কনকলতা, মণিরাম দেওয়ান প্রমুখের নাম ও তাঁদের কীর্তি ইতিহাসপাঠে সংযোজন করা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভাবতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন রেখেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিনহা।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সাহিত্যিক-সাংবাদিক শশী ফুকনকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। গত পাঁচ দশক ধরে অসমে সাংবাদিকতা এবং সাহিত্যজগতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্রের তরফ থেকে তাঁর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকার চেক, চেলেং-চাদর, শরাই, মানপত্র এবং দেবর্ষি নারদের একটি প্রতিমূর্তি তুলে দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে ‘বীণা-বাণী’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য ও কার্যবিবরণী বর্ণনা করে বক্তব্য পেশ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের উত্তর অসম প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ শংকরদাস কলিতা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংঘের অখিল ভারতীয় কার্যনির্বাহী সমিতির সদস্য গৌরীশংকর ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন পদাধিকারী, দেবৰ্ষি নারদ জয়ন্তী উদযাপন সমিতির সভাপতি ড. পরিমল ভট্টাচার্য, সম্পাদক বিজু দত্ত এবং বিশিষ্ট নাগরিকবর্গ।


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.