Facebook Google Plus Twiter YouTube

রাজ্য বাজেটে বঞ্চনার শিকার সাধারণ মানুষ, বরা্দ্দের ৯০শতাংশই যাচ্ছে কর্মচারি খাতে

দেবাশিস মজুমদার

সাংবিধানিক প্রথা মেনে প্রত্যেক রাজ্য কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারকে বিধানসভায় কিংবা সংসদে প্রতি এক বছরের জন্য আয় ব্যয়ের হিসেব পেশ করতে হয়৷ এই এক বছরে সরকার রাষ্ট্র কিংবা রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন দিকটিকে জোর দিতে চাইছে তা বাজেটের মধ্য দিয়েই প্রতিফলিত হয়ে থাকে৷ কিন্তু ত্রিপুরায় গত কয়েক দশক ধরে যে বাজেট পেশ হয়ে আসছে তার প্রকৃত দিশা “জনকল্যাণমুখী” নাকি “কর্মচারী কল্যাণমুখী” তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ রাজ্য বাজেটের প্রস্তাবিত আয়ের এবং ব্যায়ের আনুপুর্বিক বিশ্লেষণ থেকে উঠে এলো এই বিস্ময়কর তথ্য৷

সম্প্রতি রাজ্য সরকার কর্মচারীদের জন্য সপ্তমের হারে বেতনক্রম ঘোষণা করেছে৷এর ফলে চলতি অক্টোবর মাস থেকে ২.৫৭ হারে বেতনক্রম পাবেন রাজ্যের সোয়া দুইলক্ষেরও বেশী নিয়মিত, অনিয়মিত কর্মচারী ও পেনশনার৷ এর মধ্যে নিয়মিত, অনিয়মিত, কিংবা চুক্তিবদ্ধ কর্মরত সরকারি চাকরিজীবি রয়েছেন ১,৬১,৩৩৩১৷বাকি ৫৬,৪৪১ জন রয়েছেন পেনশনার৷ বলাবাহুল্য যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার যতটা না আন্তরিকতা ছিল, তার চেয়ে অনেক বড় বিষয় হয়ে উঠেছিল বাধ্যবাধকতা৷ বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল এই বেতনক্রম৷সেই অনুযায়ী নানান আর্থিক প্রতিকুলতার মধ্যেও প্রথম বাজেটেই ১হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখে নতুন সরকার৷সেইমত বেসিকের .৩২’র ফারাক ঘুচিয়ে সরকার রাজ্য্ কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় বেতনক্রমের সমতুল্য্ করার চেষ্টা করেছে৷কিন্তু পূর্ববর্তী এফেক্ট না দেওয়ায়, কিংবা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় স্বভাবতই খুশি হতে পারেননি অনেকে৷

অর্থদপ্তরের একটি বেসরকারী হিসেব অনুযায়ী ১-১-২০১৬ থেকে কার্যকর করতে গেলে এবং নয় শতাংশ বকেয়া মহার্ঘভাতাকে বেসিকের সঙ্গে জুড়ে অন্যান্য সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে অন্ততপক্ষে অতিরিক্ত আরো ১২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন৷ আর তা করতে গেলে বর্তমান অর্থবছরের বাজেটের সব টাকা কর্মচারীদের জন্য ব্যয় করলেও সম্ভব হবে না৷ তার একটি হিসেব ধরেই আলোচনা করা যাক৷ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য রাজ্য সরকার যে বাজেট বরাদ্দ পেশ করেছিল তার পরিমাণ ছিল ১৬,৩৮৭.২১কোটি টাকা৷ এই অর্থ ব্যয় হবে মোট ছয়টি খাতে৷

কিভাবে বাজেটের ৯০ শতাংশের ভাগিদার হয়ে উঠলেন কর্মচারীরা?

প্রথমটি হলো-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা৷ এই বাবদ রাজ্যের ১,৬১,৩৩১ জন কর্মচারীদের জন্য এক বছরের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৮৭.৯৪ কোটি টাকা৷

দ্বিতীয়টি হলো- পেনশন৷ ৫৬,৪৪১জন পেনশনারদের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০২৬ কোটি টাকা৷ বেতন ও পেনশন এই দুই খাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ৮৩১৩.৯৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশী৷ অর্থাৎ ৫০.৭৩ শতাংশ টাকা৷

তৃতীয়টি হলো- কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নিযুক্ত কর্মচারীদের বেতনভাতা৷ যে সকল কর্মচারী বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে নিযুক্ত রয়েছেন তাদের জন্য বেতন-ভাতা পৃথকভাবে বরাদ্দ রয়েছে বাজেটে৷ এই সকল কেন্দ্রীয় প্রকল্পসমূহে ব্যয়ের জন্য এবছর রেভিনিউ খাতে খরচের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৩৭১ কোটি টাকা৷ যদিও এই ক্ষেত্রে একটা অংশের টাকা নির্ধারিত প্রকল্পের জন্যেও ব্যয় করা হয়ে থাকে ৷ তবে সিংহভাগই খরচ হয় চুক্তিবদ্ধ কর্মচারীদের বেতনভাতা মেটাতে৷

প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এই তিন খাতের টাকা যোগ করলে কর্মচারী খাতে ব্যয়িত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৬৮৫.৫৮ কোটি টাকা৷ ফলে বাজেটের অবশিষ্ট রইল ৬৭০১.৬৩ কোটি টাকা৷ এখানেই শেষ নয়, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের ঘাড়ে যে দেনার দায় রয়েছে তাও মেটাতে হয় এই বাজেট থেকেই৷

চতুর্থ আবশ্যক ব্যয়টি হলো- সুদ৷ এ বছরেও দেনার জন্য সুদ মেটাতে হবে ১১৪৬.৮২ কোটি টাকা৷ পঞ্চম আব্যশিক ব্যয় হলো-ঋণ৷ এবারের বাজেটে ৫২০.৫০কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব পাশ হয়েছে বিধানসভায়৷ এসব মিটিয়ে বাজেটের বরাদ্দকৃত ১৬ হাজার ৩৮৭.২১ কোটি টাকার মধ্যে অবশিষ্ট রইল মাত্র ৫,০৩৪.৩১ কোটি টাকা৷ অর্থাৎ মোট বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশের মত টাকা খরচ হয়ে যায় শুধুমাত্র আব্যশিক ব্যয় নির্বাহ করতে৷

ষষ্টতঃ এর সঙ্গে যুক্ত হবে অফিস পরিচালনার খরচ, সরকারি অনুষ্ঠান, আতিথেয়তা, পরিবহণের মত অত্যাবশকীয় আরও একাধিক খরচ৷ যা সাকূল্যে যোগ করলে দেখা যাবে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশের ও বেশী টাকা শুধুমাত্র কর্মচারীদের বেতনভাতা ও অন্যান্য আব্যশিক খাতে খরচ হয়ে যাচ্ছে৷

অর্থ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের মতে, উন্নয়নখাতে বড়জোড় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার সুযোগ থাকছে৷ এরমধ্যে আবার রয়েছে একটা অংশের কর্মচারিদের দুর্নীতি৷ ফলে প্রতি বছরের বাজেট বরাদ্দের ১৫শতাংশ টাকাও জনগণের কাছে গিয়ে পৌঁছায় না৷ পৃথিবীর কোথাও কিংবা দেশের অন্য কোনো রাজ্যে এই চিত্র রয়েছে কি না তা জানা নেই কারোর৷

কি কারণে এই পরিস্থিতি তৈরী হলো রাজ্যের অর্থনীতির?

তথ্যবিজ্ঞমহলের মতে-এর কারণ দুটি৷ প্রথমটিই হলো-ত্রিপুরায় রেকর্ড পরিমাণ কর্মচারীর অস্তিত্ব৷ জনসংখ্যার অনুপাতিক হারের তুলনায় কর্মচারীদের সংখ্যা অনেক বেশী রাজ্যে৷ সংখ্যাতত্বের বিচারে বলা যায় দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা৷ এখানে কয়েকটি রাজ্যের কর্মচারীদের একটি হিসেব তুলে ধরা যাক৷

আমাদের পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমে প্রতি একশো জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে কর্মচারী রয়েছেন ১.৩৮ জন৷ উত্তর-পূর্বেরই অন্যতম আরেকটি রাজ্য মেঘালয়ে রয়েছে ২.২৯ শতাংশ৷ এবার ধার যাক বড় রাজ্যগুলির কিছু তথ্য৷ যেমন- উত্তর-প্রদেশে একশো জনের মধ্যে কর্মচারী রয়েছে এক শতাংশেরও কম অর্থাৎ মাত্র ০.৮৭ শতাংশ৷ তামিলনাড়ুতে রয়েছে ১.৬৬ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে কর্মচারি সংখ্যা আরও কম৷ মাত্র ০.৩৬ শতাংশ৷ আর ত্রিপুরায়?

রীতিমতো অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এই রাজ্যে প্রতি একশোজন নাগরিকের মধ্যে কর্মচারী রয়েছেন ৪.৩৯ জন! যা ভৌগলিক কিংবা জনসংখ্যার তুলনায় বেশিই নয়, অত্যধিক বলা চলে৷ সঙ্গত কারণেই এই ৪.৩৯—শতাংশ কর্মচারীর জন্য রাজ্য সরকারকে প্রতি বছর ব্যয় করতে হচ্ছে ৮০ শতাংশের ও বেশী টাকা৷

বলা সঙ্গত যে, রাজ্যের বাকি ৯৫.৬১ শতাংশ যারা বেসরকারি কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত তাদের জন্য খরচ হচ্ছে মাত্র ১৫-২০ শতাংশ টাকা৷ উপরন্তু রেগা কিংবা সামাজিক পেনশনের কথা  বাদ দিলে উন্নয়ন খাতে ব্যয়িত অর্থেরও প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাগিদার থাকছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাও৷ সে দিক বিচার করলে রাজ্য বাজেটের মাত্র ১০ শতাংশ টাকাই ব্যয় হয়ে থাকে সাধারণ জনতার জন্য৷

এই বিশ্লেষণ সাপেক্ষে এটা বলা সঙ্গত যে রাজ্য সরকার কর্তৃক পেশ করা বাজেট আখেড়ে কার স্বার্থে? কর্মচারী স্বার্থে, না কি সাধারণ জনতার স্বার্থে – তা এই বিশ্লেষ্ণ থেকেই স্পষ্ট৷ অথচ ট্র্যাজেডি হলো- রাজ্যের সরকারি অফিসগুলিতে অধিক সংখ্যক কর্মচারি থাকা সত্বে্ও কর্মসংস্কৃতির মান দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক নিম্নমানের৷

এই পরিস্থিতির জন্য দায় কার ?

 উপরোক্ত আলোচনা থেকে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসে যে এই পরিস্থিতির জন্য দায় কার ? এ বছর রাজ্য সরকার বাজেটে ১৬ হাজার ৩৮৭ কোটি ২১ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করেছে৷  এরমধ্যে রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব এবং করবিহীন রাজস্ব মিলে মোট আয় হাজার কোটি টাকারও কম৷ এমতাবস্থায় বাকি ১৪ হাজার কোটি টাকার জন্য নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয় কেন্দ্রীয় সরকার এবং ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলির উপর৷ বাজেট তৈরীর ক্ষেত্রে সম্পুর্ণ কেন্দে্র উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠার জন্য শুধুমাত্র কর্মচারীরাই দায়ি তা মোটেই নয়৷ এর জন্য বিগত সরকারগুলির পশ্চাদবর্তী মানসিকতাও কম দায়ি নয়৷ শুধুমাত্র সস্তা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে গিয়ে রাজ্যকে সয়ম্ভর করে তোলার কিংবা নিজস্ব কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করার কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি৷ মানব সম্পদে পরিপুর্ণ থাকা সত্বেও রাজ্যের সাড়ে সাত লক্ষ বেকারের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের জন্য কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি৷ না করা হয়েছে বৃহৎ কিংবা মাঝারি শিল্পকারখানা, না তৈরী করা হয়েছে ছোট উদ্যোগপতি৷ ফলে রাজ্যের জিডিপি হয়ে পড়েছে নিছক সরকারী কর্মচারী কেন্দ্রীক৷ যে কারণে একটা অংশের মধ্যে বৈভব বাড়লেও নীচুতলার একটা বড় অংশকে শুধুমা্ত্র সরকারি আনুকল্য নির্ভর হয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে৷

ত্রিপুরার জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কতটা বাস্তবোচিত?

দেশের সমস্ত কর্মচারীদের একই হারে বেতন পাওয়ার অধিকার একটা ন্যায্য দাবি৷ রাজ্য কর্মচারীদের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত বক্তব্য রয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা যে বাজার থেকে সামগ্রি ক্রয় করেন, তাদেরকেও এই বাজার থেকেই সামগ্রি ক্রয় করতে হয়৷   কথাটি সর্বাংশে সত্য৷ সেই সাথে এটাও অনস্বীকার্য যে< যে বাজার থেকে কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্য সরকারের কর্মচারীরাই বাজার করেন সেই বাজার থেকেই সামগ্রি ক্রয় করতে হয় সাধারণ মানুষকেও, যাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ৷ অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্য কর্মচারী মিলে ৫ শতাংশ কর্মচারীকে যে টাকায় পণ্য ক্রয় করতে হয় একই বাজার থেকে বাকি ৯৫ শতাংশ সাধারণ মানুষকে একই দামে সেই সব পণ্য সামগ্রি ক্রয় করতে হয়৷ অতএব বাজারের দোয়াই দেখিয়ে কেন্দ্র রাজ্যের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের এই প্রয়াস অযৌক্তিক বলা চলে৷

তা সত্বেও কেউ কেউ বলতেই পারেন সমান কাজে কেন সমান বেতন মিলবে না৷ এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরটা কঠিন হতে পারে৷ কিন্তু ভারতীয় হিসেবে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এটাও মানতে হবে যে কেন্দ্র রাজ্যের সমহারে বেতন সংবিধান স্বীকৃত নয়৷ সংবিধানপ্রণেতারাও নিশ্চয়ই এই বিষয়টাও উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন ৷ কিন্তু সে ব্যাপারে কোনো আইনি সংস্থান রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করেননি৷ তার কারণ তাঁরাও উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন দেশের সর্বত্র কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সমহারে বেতনক্রম দেওয়া যেমন যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না, তেমনি সম্ভবপরও নয়৷ কেননা, প্রত্যেকটা রাজ্যের অর্থনীতি নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের ভৌগলিক কিংবা প্রাকৃতিক অবস্থান ও সম্পদের উপর ভিত্তি করে৷

একথা সকলেই মানবেন যে দেশের বহু রাজ্যে এখনো সপ্তম বেতন কমিশন হুবুহু কার্যকর করা সম্ভব হয়নি৷ অথচ ত্রিপুরার তুলনায় ওই রাজ্যগুলিতে কর্মচারী সংখ্যা কয়েকশো গুন কম৷ আয়ের দিক থেকেও বলা যায় স্বয়ংসম্পুর্ণ৷ তা সত্বেও সম্ভব হচ্ছে না কারণ বৃহৎ জনগোষ্ঠির আয়ের সঙ্গে তা মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠছে না৷ অনেকের যুক্তি, রাজ্য কর্মচারীদের হাতে টাকা আসা মানে বাজার চাঙ্গা হওয়া৷ এই বক্তব্যও সঙ্গতিপুর্ণ হতে পারে না৷ কেননা অতিরিক্ত টাকা পেলে কর্মচারীরা দুইবেলা অতিরিক্ত ভোজন করবেন কিংবা অতিরিক্ত টাকা অ্যাকাউন্টে না রেখে অপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাবেন তা মোটেও মেনে নেওয়া যায় না৷ তবে বিভিন্ন উপায়ে এই বাড়তির অর্থের হয়তো একটা সীমিত অংশই বাজারে আসবে৷

রাজ্য সরকারের কি করা উচিত?

এই মূহূর্তে রাজ্যের অর্থনীতি উল্টো পিরামিডের ভূমিকায়৷ যা একটা রাষ্ট্র কিংবা রাজ্যের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক কিংবা কল্যাণকর হতে পারে না৷ একটা ক্ষুদ্র অংশের নাগরিকের আয় বাজার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে ত্রিপুরায়৷ সরকারের উচিত এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে বের করে নিয়ে আসা৷ এরজন্য কর্মচারীদের সংখ্যা কমানোটা সবচেয়ে বেশি জরুরি কাজ৷ দ্বিতীয়ত হলো- পরিকাঠামোর উন্নয়ন করে বৃহৎ না হোক অন্তত মাঝারি কিংবা ছোটো আকারের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা৷ এভাবে সরকারি বেতন বহির্ভূত সাধারণ মানুষের মাথাপিছু গড় আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সবচেয়ে জরুরি৷ এরজন্য দেশের বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের দিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরী করা যেতে পারে৷ অন্যথায় ত্রিপুরার বাজেট আর উন্নয়ন কার্যত কেন্দ্র আর কর্মচারী কেন্দ্রীক হয়েই থাকবে৷


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.