Facebook Google Plus Twiter YouTube

অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সহায়তায় ঐতিহাসিক ‘আউট রিচ’ উদ্যোগ, ঋণের সুবিধা, সামাজিক নিরাপত্তা

PIB

 প্রধানমন্ত্রী মূল উদ্যোগের সূচনা করেছেন
 অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহজে ঋণদানের জন্য ৫৯ মিনিটে ঋণদানের পোর্টাল
 অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে ২৫
শতাংশ ক্রয় করতে হবে।
 কোম্পানি আইনের আওতায় ছোটখাটো অপরাধের জন্য সহজ ব্যবস্থার অধ্যাদেশ
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তাদানের জন্য ঐতিহাসিক ‘আউট রিচ’ উদ্যোগের সূচনা করেছেন। এর আওতায় অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে উন্নয়ন, বিস্তার ও সুবিধা প্রদানের জন্য ১২টি মূল উদ্যোগের সূচনা করেন তিনি। দেশের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুধিয়ানার হোসিয়ারি সামগ্রী কিংবা বারাণসীর শাড়ি ভারতের ইতিহাসে ক্ষুদ্র শিল্পের এক ঐতিহাসিক ধারা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কারের সাফল্য ভারত’কে চার বছরে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ র‍্যাঙ্কিং-এ ১৪২ থেকে ৭৭ ধাপে উন্নীত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদানের জন্য ৫টি মূল বিষয় রয়েছে, সেগুলি হ’ল – ঋণদান, বাজারজাতকরণ, প্রযুক্তির উন্নয়ন, বাণিজ্য সরলীকরণ এবং কর্মীদের নিরাপত্তাদান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যে ১২টি মূল উদ্যোগের ঘোষণা করলেন, তা এই ৫টি ক্ষেত্রেই সহায়তা প্রদান করবে। তাঁর এই ঘোষণা এই শিল্প ক্ষেত্রের জন্য দীপাবলীর উপহার।

ঋণের সুবিধা
প্রথম ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণের জন্য ৫৯ মিনিটের ঋণ পোর্টালের সূচনা করেন। তিনি বলেন, এই পোর্টালে মাত্র ৫৯ মিনিটে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যাবে। জিএসটি পোর্টালের মাধ্যমে এই পোর্টালের সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন যে, নতুন ভারতে কোনও ব্যক্তিকেই বারবার তাঁর ব্যাঙ্কের শাখায় যেতে বাধ্য করা হবে না।
দ্বিতীয় ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে যাঁরা জিএসটি-তে নথিভুক্ত করিয়েছেন,  তাঁদের নতুন ঋণ গ্রহণ বা ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুদের হারে ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। যে সকল রপ্তানিকারকরা প্রি-শিপমেন্ট ও পোস্ট শিপমেন্ট সময়ে ঋণ নেবেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সুদের হাঁরে অতিরিক্ত ৩ থেক ৫ শতাংশ ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছেন।
তৃতীয় ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কোম্পানির টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকার বেশি, তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে ই-ডিসকাউন্ট ব্যবস্থাপনা ট্রেড রিসিভেবলস্‌ - এ আনা হবে। এই পোর্টালে যোগদানের মাধ্যমে শিল্পপতিরা তাঁদের রিসিভেবলস্‌ - এর ওপর নির্ভর করে ঋণ নিতে পারবেন। এতে করে নগদ লেনদেনের সমস্যা থেকে তাঁরা মুক্ত হবেন।

 বাজারের সুবিধা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যোগপতিদের জন্য বাজারের সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর চতুর্থ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি কোম্পানিগুলিকে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্র থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২৫ শতাংশ সামগ্রী কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত এই হার ছিল ২০ শতাংশ।
 প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চম ঘোষণা ছিল, মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য। তিনি বলেন, বাধ্যতামূলকভাবে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্র থেকে যে ২৫ শতাংশ সামগ্রী ক্রয় করতে হবে, তার ৩ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি সরবরাহকারী ইতিমধ্যে জেম-এ নথিভুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০ হাজার অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্র। ১৪  হাজার কোটি টাকার বেশি জেম-এর মাধ্যমে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 ষষ্ঠ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন সব সরকারি ক্ষেত্রকে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে জেম-এর আওতাধীন হতে হবে। তাদের বিক্রেতাদেরও জেম-এর নথিভুক্ত হতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রযুক্তির উন্নয়ন
 
প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সামগ্রী নক্‌শার জন্য টুল রুম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সপ্তম ঘোষণায় তিনি বলেন, সারা দেশে ২০টি হাব তৈরি হবে এবং টুল রুম- এর আকারে ১০০টি স্পোক তথা কারিগরি গৃহ স্থাপন করা হবে।
 
বাণিজ্য সরলীকরণ
 
‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বা বাণিজ্য সরলীকরণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ওষুধ কোম্পানিগুলি সম্পর্কে তাঁর অষ্টম ঘোষণা করেন। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ওষুধ ক্ষেত্রে ক্লাস্টার স্থাপন করা হবে। এর ৭০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
 
সরকারি ব্যবস্থাপনার সরলীকরণ নিয়ে নবম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রমিক আইন এবং ১০টি কেন্দ্রীয় আইনের আওতায় রিটার্ন জমার ফর্ম এখন থেকে বছরে একবার পূরণ করতে হবে।
 
দশম ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিদর্শকের সফর এখন থেকে কম্প্যুটারে অবিরাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থির করা হয়।
 
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, একটি ইউনিট খুলতে গেলে কোনও উদ্যোগপতির দুটি ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে একটি পরিবেশগত এবং অন্যটি স্থপনা বিষয়ক। প্রধানমন্ত্রী তাঁর একাদশ ঘোষণায় বায়ু দূষণ ও জল দূষণ আইনের আওতায় এই দুটি ক্ষেত্রকেই এখন থেকে একীকরণ করে দিয়েছে। নিজের শংসাপত্রের মাধ্যমেই রিটার্ন গ্রহণ করা হবে।

দ্বাদশ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোপানি আইনের আওতায় ছোটখাটো অপরাধের জন্য অধ্যাদেশ আনা হয়েছে। এর ফলে, উদ্যোগপতিদের এখন থেকে আর আদালতে যেতে হবে না, সহজ উপায়েই তা সংশোধন করতে পারবেন।
 
অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কর্মীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা
 
প্রধানমন্ত্রী অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কর্মীদের যাতে জন ধন অ্যাকাউন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বিমা থাকে, তা নিশ্চিত করতে একটি মিশন চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলি দীর্ঘ মেয়াদী স্তরে ভারতের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করবে। আগামী ১০০ দিনে এই ‘আউট রিচ’ কর্মসূচির ব্যবহারিক দিক খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.