Facebook Google Plus Twiter YouTube

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন- এটা কি নৈতিক ? এটা কি সাংবিধানিক ? না, তা উভয়ই !

ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃত

ছোট্ট “নাগরিকতা’ জন্মেছিল নতুনদিল্লির যমুনা নদীর তীরবর্তী মজনুকাটিলা শরণার্থী শিবিরের জরাজীর্ণ কলোনিতে ৷ পাকিস্তানের অত্যাচার থেকে পালিয়ে তার বাবা মা পৌঁছেছিল এই শহরে৷ নাগরিকত্ব বিল কার্যকর করার পরে তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সম্ভাবনার কথা ভেবে তারা তাদের শিশুর নাম রেখেছিল নাগরিকতা৷ এই দম্পতির জন্য নাগরিকত্ব বিল রাজ্য লাভের একটি আশার পুনরুদ্ধার- তাদের পিতামাতার দেশের উপর একটি অধিকার যা দীর্ঘকাল উপেক্ষিত ছিল৷

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) হওয়ার পর থেকে যে গুজব-উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রকাশিত হয়েছে, এই পটভূমিতে বেশ কয়েকটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন লিপিবদ্ধ হয়েছে: এক,  নির্দিষ্ট কিছু দেশে বিশেষতঃ ধর্মের নামে নিপীড়ন  কি বাস্তব ? না কি না? দ্বিতীয়তঃ, বৈষম্যের শিকার মানুষের বেদনা প্রশমন করতে ভারতের মত একটি সমৃদ্ধ সভ্যতার নীতিমালা সম্পন্ন দেশের কি করা উচিত?  সবশেষে সাংবিধানিক বিধানের বায়না, সিএএ আকারে কোনটি সূচনা করা হয়েছে? যদি উত্তরটি হ্যাঁ সূচক হয় তারপরে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে তা কেবল রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত৷

ভারতীয় সংসদ যখন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) নিয়ে বিতর্ক করছিল, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি প্রতিবেদনে তখন পাকিস্তানকে এমন একটি দেশ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল যে দেশটি “ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন” করছে।  যৌথ সংসদীয় কমিটির সামনে নাগরিকত্ব সম্পর্কিত সরকারি সাক্ষ্যদানগুলি জবানবন্দির অংশ করে, যা ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে উভয় সভায় প্রতিবেদন জমা দেয়। এছাড়াও  ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট সম্প্রতি পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে মহিলা ও সংখ্যালঘুদের দুর্দশার কথা উল্লেখ রয়েছে৷ এদের মধ্যে অনেকেই, বিশেষ করে হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় নিতে পালিয়ে এসেছে৷ বিষয়টা হারিয়ে ফেললে চলবে না যে সিএএ”র অন্তর্গত এই তিনটি রাষ্ট্রই হলো ইসলামিক রাষ্ট্র৷

এবার আসছি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে, যদি ভারতের মাটিতে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয় কেউ তবে তাদের কাছে কি উপায় রয়েছে? সিএএতে রয়েছে উন্নয়নের সাধনা, যা ১৯৫০ সালে শ্যামা প্রসাদ মূখার্জী হবেসিয়ানের উপমা দিয়ে বলেছিলেন- “পাকিস্তান সংখ্যালঘুদের জন্য খারাপ, নৃশংস এবং সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে৷ শিখ ধর্ম, জৈন ধর্ম এবং বৌদ্ধধর্মের মতো কয়েকটি মহান ধর্মের জন্মস্থান হল ভারত। ভারতীয় রীতি ধর্ম, সম্প্রদায় এবং ঐতিহ্যের বিভিন্ন স্রোতকে একীভূত করেছে  এই দেশ৷

অবশেষে, নাগরিকত্বের স্থায়ী আইনের কার্যসূচী সংসদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ এবার প্রশ্ন উঠছে, সিএএ অনুচ্ছেদ ১৪তে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলিকে পূরণ করে কি না৷ সংক্ষেপে বলা যায়, অনুচ্ছেদ ১৪ বলেছে যে " রাষ্ট্র হিসাবে ভারত ভূখণ্ডের অন্তর্গত কোনও অংশের নাগরিকদের আইনের সমতা এবং সমান সুরক্ষাকে অস্বীকার করবে না’ এবং অনুচ্ছেদ ১৪ এর যে কোনও অবজ্ঞা বিশেষ শ্রেণিবদ্ধকরণের মাধ্যমে "যুক্তিসঙ্গত এবং বোধগম্য পার্থক্য" এবং "লক্ষ্য অর্জনের দুটি চেষ্টাকে’ যুক্ত করা হয়েছে৷ বিচারব্যবস্থার ঘোষণার পরম্পরা বৈষম্যমূলক আচরণ  বিবিধ প্রক্রিয়ায় সহজে নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়া ধরে রেখেছে যা সংবিধানের চেতনা লঙ্ঘন করে না বলে প্রমাণিত হয়েছে৷

সিএএ’র উদ্দেশ্য এবং কারণ স্পষ্ট করেই রেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ ভারতের সীমান্তবর্তী সাতটি দেশের মধ্যে মাত্র তিনটি রাষ্ট্র ধর্মকে সংবিধানে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ ফলে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হয়নি৷ ঐতিহাসিকভাবেই ভারত এবং পাকিস্তান, আফগানিস্থান ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত দেশান্তরী হবার ঘটনা ঘটে চলেছে৷ ধর্মের কারণে নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়া সম্প্রদায়গুলি তাদের ভ্রমণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বা অসম্পূর্ণ বা কোনও দলিল ছাড়াই আশ্রয় চেয়ে ভারতে চলে এসেছে৷ মোদী সরকার তার প্রথম কার্যকালের মেয়াদেই এই অভিবাসনকারীদের পাসপোর্ট অ্যাক্ট (ভারতে প্রবেশের),১৯২০ এর বিভিন্ন ধারা ও ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ এবং ২০১৬ এর বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে ও তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা প্রদান করা হয়েছে৷ সিএএ শুধুমাত্র এই সমস্ত নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য বৈধ করে দেবে৷

সিএএ অনুচ্ছেদ ২৫কে অবজ্ঞা করছে কি না তা নিয়েও বিতর্ক চলছে৷ অনুচ্ছেদ ২৫ সমস্ত ধর্মের সকল মানুষকে সমানভাবে প্রচার, অনুশীলনের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে৷ সিএএ কোনো ধারাকে অবজ্ঞা করেনি যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, এবং নিশ্চয়তা দিয়েছেন সিএবির মাধ্যমে না সংখ্যালঘুদের অধিকারকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, না ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ 

যারা প্রজন্ম ধরে ভুগছিলেন তাদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ৷ রাজপথে হিংস্রতা ও অশান্তি জাগিয়ে তুলতে থাকা রূপালী চামচ নেতাদের প্রতি সন্তোষজনক আবেদন হিসাবে  স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বিখ্যাত ধর্মীয় সংসদের ভাষণে ১৮৮৩ সালে যা বলেছিলেন তা মনে রাখা দরকার ঃ “আমি এমন একটি জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে গর্ববোধ করি যেটি নির্যাতিত এবং সমস্ত ধর্ম এবং পৃথিবীর সমস্ত জাতির শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে৷” সিএএ বিভিন্ন দিক থেকেই এই প্রত্যাশা পূরণ করছে৷


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.