Facebook Google Plus Twiter YouTube

দাড়ির প্যাঁচ

অরিন্দম নাথ

তিনি ছিলেন এক অকৃতদার বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতা ৷ দীর্ঘ দিন বেঁচেছিলেন ৷ প্রশাসক হিসাবেও সুনাম অর্জন করেছিলেন ৷ পদের বিচারেও অনেক শিখরে পৌঁছেছিলেন ৷ তাঁর প্রতিপক্ষরাও তাঁকে সমাদর করত ৷ আব্রাহাম লিঙ্কনের মত তিনি দাড়ি রাখতেন ৷ লিঙ্কন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে ভোটে দাঁড়াবার আগে, একটি বাচ্চা মেয়ের পরামর্শে দাড়ি রেখেছিলেন ৷ মেয়েটি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিল, লিঙ্কন দাড়ি রাখলেই ভোটে জয়ী হতে পারবেন ৷ ধর্মীয় কারণ ছাড়া একটি লোক যখন দাড়ি রাখে, আমি মনে মনে কারণ খুঁজার চেষ্টা করি ৷ এর হয়তো কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই ৷ তবে কেন জানি আমার মনে হয়, প্রেমে দাগা খেলে ছেলেরা দাড়ি রাখে ৷ এই আঘাৎ কাটিয়ে উঠলে, সাধারণত এই দাড়ি লোপ পায় ৷

এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়তো দাড়ি রাখতেন নিষ্কাম প্রেম থেকে ৷ নিষ্কাম প্রেমেরও একটি গল্প আছে ৷ খানিকটা অশ্লীল ৷ অনেকেই ইচ্ছে করলে এই অর্ধ-বিঘৎ প্যারাটি না পড়লেও পারেন ৷ অনেক অনেক দিন আগের কথা ৷ এক হরিজন মহিলা এক রাজবাড়িতে কাজ করতেন ৷ রোজ গিয়ে রানীর টয়লেট থেকে মলের বালতি নিয়ে আসতেন ৷ একদিন মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়লেন ৷ সেদিন তাঁর বর গেল রাজবাড়িতে ৷ মলের বালতি নিয়ে আসতে ৷ ঘটনাচক্রে বেচারা যখন মলের বালতি পাল্টাতে গিয়েছে, তখন রানীমা প্রাকৃতিক কাজ সারছেন ৷ রানীর উন্মুক্ত পাছা দেখে সে কামার্ত হয়ে পড়ল ৷ তার মনে একই ভাবনা ৷ যার পাছা এত সুন্দর, তাঁর চেহাড়া না জানি কি সুন্দর ৷ এই চিন্তা থেকে সে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিল ৷ কোনো কাজও করে না ৷ সারাক্ষণ এই চিন্তাতেই তার মন কুরে কুরে খায় ৷ তার বৌ বেচারিও কিছু বুঝে উঠতে পারে না ৷ শেষ পর্যন্ত লোকটি পাগলপ্রায় হয়ে রাস্তার পাশে এক গাছতলায় বসে পড়ে ৷ আপন মনে হাসে ৷ ইচ্ছে হলে খায়, ঘুমায় ৷ গাছ তলাতেই ৷ লোকজন তার মধ্যে আধ্যাত্মিক লক্ষণ খুঁজে পায় ৷ লোকজনের, বিশেষ করে মহিলাদের ভিড় লেগে থাকে ৷ ফলমূল দিয়ে প্রণাম করে ৷ প্রথম প্রথম সে তাকিয়ে দেখত, কে এল ? এক সময় সে, এ-ও ভুলে যায় ৷ একদিন রানীমাও আসেন ৷ অন্য দর্শনানার্থীদের মত ৷ পা ছুঁয়ে তাকে প্রণাম করেন ৷ সে তাকিয়েও দেখে না ৷ তার কামনা, নিষ্কাম রূপ প্রাপ্তি করেছিল ৷

এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত্বের কাছে তাঁর দাড়ি ছিল খুবই প্রিয় ৷ যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছে, তারা দাঁড়িতে হাত বুলানো দেখলেই তাঁর মনের অবস্থা বুঝতে পারত ৷ চিন্তাগ্রস্ত হলে, তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে দাড়ি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরাতেন ৷ আর বা-হাত দিয়ে ঘড়ির সুই বরাবর দাড়ি মুচর দিলে বুঝতে হবে তিনি খুব রেগে আছেন ৷ কারো উপর খাঁড়া নেমে আসবে ৷ আর উপর থেকে দাড়ির ডগা পর্যন্ত মাটির সমান্তরালে হাত নেমে আসলে বুঝতে হবে খুশিতে ডগমগ অবস্থা ৷ এটা বিশ্বজনীন সত্য যে মানুষ খুব রেগে গেলে নিজের দাড়ি নিজে ছিঁড়ে ৷

প্রথমবার যখন তিনি ভোটে হেরে যান, তখন তার এই মুড ছিল ৷ রঙ্গিন লুঙ্গি-পাজ্ঞাবী পরিহিত অবস্থায় তিনি তাঁঁর দাড়ি ছিঁড়তে ছিঁড়তে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন ৷ তারপর একটি রিক্সাতে চেপে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন ৷ রিক্সায় বসে তিনি শুধু একটি উক্তিই করেছিলেন, ‘কুত্তার বাচ্চা জনগণ, বুঝলি না তো আপনজন ৷’

পরদিন সিকি-আধুলি নেতারা, তাঁর বাড়িতে ভিড় করল ৷ তারা প্রত্যেকে তাঁর হারের কারণ ব্যাখ্যা করছিল ৷ আর তিনি বা-হাত দিয়ে ঘড়ির কাঁটা বরাবর দাড়িতে হাত বুলাচ্ছিলেন ৷ যতক্ষণ দলের নেতারা কথা বলছিল, তিনি চুপচাপ ছিলেন ৷ ওদের কথা বলা শেষ হলে, ড্রয়ার থেকে একশো টাকা নোটের একটি বান্ডিল, উপস্থিত একজন নেতাকে গুনতে দিলেন ৷ লোকটি প্রথমে একবার এক থেকে একশো পর্যন্ত একশটি নোট গুনল ৷ তখন টাকার নোটে, জাতির জনকের ছবি নিচ দিকে ৷ বান্ডিলটি উল্টে আবার গুনল ৷ তখন মহাত্মা গান্ধীর ছবি উপর দিকে ৷ আবারো একশো হল ৷ টাকার বান্ডিলটি নিয়ে, তিনি যথাস্থানে রেখে দিলেন ৷

এবার যে লোকটি টাকা গুনছিল তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুই টাকা দুইবার গনছত কেন ?’
- নিশ্চিত হইবার জন্য ৷
- যেখানে তর ডান-হাত, বাম-হাতকে বিশ্বাস করে না, আমি তরার রিপোর্ট বিশ্বাস করব কেন ? কালা-ধলা যে-ই হওনা কেন, আসতে পার !

আমি আমার হারের কারণ নিজে বের করব ৷

(A translated story from my book ' I Adore'


 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.