Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
সুপ্রিম কোর্টের রায় অপ্রত্যাশিত : মানিক
দেবাশিস মজুমদার, আগরতলা , 05/04/2017, Agartala

সুপ্রিম রায়ে বাতিল হয়ে যাওয়া ১০,৩২৩ শিক্ষকের চাকরি নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। বুধবার রাজ্য কেবিনেটে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সাংবাদিকদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া- 'এই রায় অপ্রত্যাশিত। রাজ্য সরকার আদালতের রায়ে চাকরি হারানো শিক্ষকদের জীবনের নিশ্চয়তা ফিরিয়ে দিতে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করবে।' তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় রাজ্য সরকার অমান্য করবে না বলেও এদিন জানিয়েছেন তিনি।

 

গত  ২৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ হাই কোর্টের রায় অপরিবর্তিত রেখে ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের নিযুক্তি অবৈধ বলে ঘোষণা করে. ওই রায়ে আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে- ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নতুন নিয়োগনীতি চালু করতে এবং ৩১ মে'র মধ্যে ওই শিক্ষকদের শুন্যপদগুলি পূরণের জন্য বিজ্ঞাপন দিতে। ৩১ ডিসেম্বর এর মধ্যে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

এই যোগ্যতা নির্ণায়ক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে আদালতের রায়ে বাতিল শিক্ষকরাও। তবে এক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী পাওয়া না গেলে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অনুমতিক্রমে রাজ্য সরকার নিয়োগনীতি পরিবর্তন করতে পারবে।

 

সুপ্রিম কোর্ট যখন এই রায় দেয় তখন দলীয় কর্মসূচিতে তামিলনাড়ু অবস্থান করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। আগরতলায় ফিরে পরদিনই রাজ্য কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সবিস্তারে আলোচনা করে পার্টিলাইন ঠিক করেন। এরপর আজ বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রায় দলীয় অবস্থানের সাথে তাল রেখে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের সান্তনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর দুই সদস্য তথা শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তী ও তথ্যমন্ত্রী ভানুলাল সাহাকে সাথে নিয়ে মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। শিক্ষক মামলার প্ৰেক্ষাপট বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী আদালতের রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন- এই রায় অপ্রত্যাশিত। এরফলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হবে. সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অপ্রত্যাশিত বললেও রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন- 'আমরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা কার্যকর করবো। ইতোমধ্যে শিক্ষা দপ্তরকে বলা হয়েছে সেই মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। শিক্ষামন্ত্রী গোটা প্রক্রিয়া দেখভাল করবেন।' সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে যাতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায অনিশ্চয়তা তৈরি না হয় তারজন্য চাকরিচ্যুত শিক্ষক সহ সকল অংশের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

১০,৩২৩ জন শিক্ষকদের সান্তনা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন- 'আমরা তাঁদের ফেঁসে দিতে পারি না. এই রায়ের ফলে তাঁদের জীবনে  অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই অনিশ্চয়তার হাত থেকে তাঁদের রক্ষা করতে সরকার সবরকমের ব্যবস্থা নেবে। যারা যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না তাঁদের অন্য দপ্তরে নিযুক্তি করা হবে কি না, করলে নিয়োগনীতি পরিবর্তন করা হবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন- সমস্থ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শুরু থেকেই শাসকদল সিপিএম আদালতের রায়কে অমানবিক বলে আখ্যায়িত করে আসছিলো। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে রায়কে 'অপ্রত্যাশিত' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার কিংবা শাসকদল আদালতের নির্দেশে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পাশে থাকার কথা বললেও অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ফিরে না আসা পর্যন্ত যে তাঁদের জন্য কিছু করা সম্ভব না তা বলাইবাহুল্য। কেননা ৩১ ডিসেম্বর ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর দুই মাসের মধ্যেই ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা.

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.