Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
বাম সরকারের ব্যর্থতায় চতুর্দশ অর্থ কমিশন থেকে ১৯,২৮৭ কোটি টাকা কম পেল ত্রিপুরা, বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২৬ শতাংশ!
By Our Correspondent, 06/01/2019, Agartala
 

চতুর্দশ অর্থ কমিশন থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ কম পেয়েছে ত্রিপুরা৷ মূলতঃ বিগত বাম সরকারের ব্যর্থতা আর অবহেলার কারণেই এই বিশাল অঙ্কের শেয়ার থেকে বঞ্চিত হয়েছে রাজ্য৷ উত্তর পূর্বেরই অন্যতম রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ যেখানে কেন্দ্রীয় করের শেয়ার ৩১৮ শতাংশ বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে সেখানে ত্রিপুরার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ! মূলতঃ এই কারণেই বিগত প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ত্রিপুরা প্রচন্ড আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তথ্যভিজ্ঞ মহল৷

ত্রয়োদশ অর্থ কমিশন থেকেই কেন্দ্রীয় করে শেয়ার নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একের পর এক ব্যর্থতার নজির রেখে আসছিল বাম সরকার৷ কোনো অনিয়মিত কিংবা চুক্তিবদ্ধ কর্মচারীর বেতন অর্থ কমিশন থেকে বরাদ্দ করা হয় না৷ তা জানার পরেও এই নীতির বদল ঘটায়নি সরকার৷ যার ফলশ্রুতিতে নতুন চাকরিপ্রাপ্তদের যেমন পাঁচ বছর সময়কাল বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে, অন্যদিকে এই টাকার দায়ভার রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে৷ আর এভাবে রাজ্য বাজেটের ৭০ শতাংশেরও বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন পেনসন খাতে৷ এছাড়া, ঋণ মেটানো কিংবা প্রশাসনিক খরচ মিলে বাজেটের ৮০ শতাংশেরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে৷ মাত্র ২০ শতাংশ টাকা দিয়ে চলছে তথাকথিত উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ! বিষয়টি প্রথম স্যন্দনে এই প্রতিবেদকের কলমেই উঠে এসেছিল৷ মূলতঃ এরপর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে আলোড়ন উঠে৷ হিসেব কষে যে তথ্য উঠে আসে তাতে বর্তমান সরকারের চোখ ছানাবড়া হবার জোগার হয়৷ এবার উঠে এল আরেকটা অর্থনৈতিক ব্যর্থতার চিত্র৷

চতুর্দশ অর্থ কমিশনের মেয়াদ শুরু হয়েছিল ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে৷ এর আগে ত্রয়োদশ অর্থ কমিশনের বঞ্চনা নিয়ে তখন মাঠঘাট গরম করলেও যে কারণে রাজ্যকে আর্থিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল তা থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি বিগত সরকার৷ যার ফলশ্রুতিতে একই বঞ্চনার বোঝা বইতে হলো চলমান চতুর্দশ অর্থ কমিশনের মেয়াদকালেও৷ সমস্ত কিছু হিসেব নিকেষ করে তৎকালীন বাম সরকার এই চতুর্দশ অর্থ কমিশনের কাছে পাঁচ বছরের জন্য রেভিনিও রিসিপ্ট হিসাবে দাবি করেছিল ৪৮,২৯১.৭১ কোটি টাকা৷ কিন্তু কমিশন তা কমিয়ে করে ৩০,৫০০ কোটি টাকা৷ একই ভাবে শেয়ার অব সেন্ট্রাল ট্যাক্স থেকে রাজ্যের দাবি ছিল ১২,৯৯৩ কোটি টাকা৷ কিন্তু কমিশন বরাদ্দ দেয় ১১,৪৯৭.৭২ কোটি টাকা৷ এই দুটি খাতে কমিশন থেকে আগেভাগেই কমিয়ে দেওয়া হয় ১৯,২৮৬.৯৯ কোটি টাকা৷

লক্ষ্যণীয় ঘটনা হলো- উত্তর-পূর্বের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় ত্রিপুরার জিডিপির অবস্থা সেই আমলে অনেকটাই ভাল ছিল৷ এমনকি দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্য থেকেও ভাল ছিল৷ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোথায় রাজ্য সরকার নিজেদের দাবির স্বপক্ষে অর্থ কমিশন থেকে দাবির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করবে! তা না করে অন্য সবার তুলনায় ত্রয়োদশের তুলনায় বৃদ্ধির হার প্রায় সর্বনিম্ন অবস্থায় গিয়ে ঠেকে৷ যেমন, নাগাল্যান্ড এই সময়ের মধ্যে  আর্থিক বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল ৫৯ শতাংশ, মিজোরাম ৭১ শতাংশ, মেঘালয় ৫৭ শতাংশ এমনকি সকলকে অবাক করে অরুণাচল প্রদেশ কেন্দ্রীয় অংশীদারিত্ব ৩১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল৷ অথচ এই সময়ে ত্রিপুরার বৃদ্ধির হার ছিল অত্যন্ত নগন্য মাত্র ২৬ শতাংশ! অর্থ কমিশনের সাথে নিয়মিত আলোচনা করে, বিভিন্ন প্রকল্পে কিংবা কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ করে, সপ্তম বেতনক্রম দিয়ে এই ১৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অনায়াসে রাজ্য সরকার আনতে পারতো বলে অভিমত তথ্যভিজ্ঞমহলের৷

আগামী ১৬-১৭ জানুয়ারি রাজ্য সফরে আসতে চলেছেন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রতিনিধিরা৷ উপলক্ষে প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়৷ আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের অর্থনৈতিক চাহিদা কি হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে অর্থ কমিশনের প্রতিনিধিরা৷ নিয়ে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যসচিব সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা৷ তখন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.