Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
সংসদের পেশ করা অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে কৃষকদের জন্য বৃহৎ প্রকল্প প্রকল্প ঘোষণা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আয়করে সুবিধা
Burue Report, 02/02/2019, New Delhi
 

সংসদে আজ ২০১৯-২০ সালের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা রেল, কর্পোরেট ও কয়লা মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল৷ বাজেটে কৃষক এব্য ব্যবসায়ীদের জন্য বৃহৎ প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে দেশের ১২ কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন৷

এদিনের বাজেটে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োজিত ১০ কোটির মত অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন পেনশন প্রদানের উদ্যোগ৷ এছাড়া, বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় প্রদানকারীদের আয়কর থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ সংস্কার ব্যবস্থায় আনা হয়েছে স্টাম্প ডিউটিকে৷ প্রতিরক্ষা খাতে সর্বকালীন ৩ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য রেকর্ড ৫৮,১৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাব, হরিয়ানার জন্য এইমস, ফিল্ম মেকারদের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম চালু করা, সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামোর ও এসটি, এসসিদের সহ সমাজের দুর্বলতর শ্রেণীর জন্য, ১.৫ কোটি মৎসজীবীদের জন্য পৃথক মৎস দপ্তর চালু করা ইত্যাদির ঘোষণা দিয়েছেন এদিন অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল৷

বৃহৎ প্রকল্পসমূহঃ-

“প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (পিএম কিষাণ)” নামে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে যার মাধ্যমে দুই হেক্টর পর্যন্ত চাষযোগ্য জমি রয়েছে এমন কৃষকদের বছরে ৬,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে৷ অর্থ, রেল, কর্পোরেট ও কয়লা মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, আমাদের সরকার কৃষকদের জন্য ঐতিহাসিক পিএম কিষাণ প্রকল্প চালু করতে চলেছে৷ এরজন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭৫,০০০ কোটি টাকা এবং চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের জন্য রাখা হচ্ছে ২০,০০০ কোটি টাকা৷ ভারত সরকারের এই প্রকল্পের অধীনে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক একাউন্টে ২,০০০ টাকা করে কিস্তিতে জমা করা হবে৷ দেশের মোট ১২ কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের অ্যাকাউন্টে বছরে মোট তিনটি কিস্তিতে এই টাকা জমা হবে৷ প্রকল্পটি চালু হবে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে এবং ৩১শে মার্চ ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকা এবছরেই মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ, কর্পোরেট, রেল ও কয়লা মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল৷

তিনি জানান, মৎসদপ্তরের স্থায়ী উন্নয়নের দিকে নজর দিতে ভারত সরকার “ডিপার্টমেন্ট অব ফিসারী’ নামে নতুন দপ্তর চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে মৎস দপ্তরে যে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি রয়েছে তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের ১.৪৫ কোটি মৎসজীবীকে এই দপ্তরের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তুলতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

অর্থমন্ত্রী বলেন, পশুপালন ও মৎসচাষের জন্য যারা কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নেবেন তাদের জন্য সুদের ২ শতাংশ অর্থসাহায্য করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে৷ যদি ঋণগ্রহীতা সময়ের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন তবে অতিরিক্ত তাদের জন্য সুদের উপর আরও ৩ শতাংশ অর্থ সাহায্য করা হবে৷

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গোকূল মিশন প্রকল্প এবছরই চালু করা হয়েছে এবং এরজন্য বাজেটে ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার “রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ’ গঠন করেছে যার মাধ্যমে গরুর প্রজন্মের উন্নতি, উৎপাদন ও উৎপাদশীলতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ গরুর উন্নয়নে যে সমস্ত প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তার কল্যাণ ও আইনগত বিষয়গুলিও দেখবে এই আয়োগ৷

অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছে দেশের অন্ততঃ ১০ কোটি শ্রমিক ও কর্মচারী৷ তাঁদের জন্য পেনশন চালু করতে কেন্দ্রীয় সরকার “প্রধানমন্ত্রী শ্রম-যোগি মানধন’ নামে একটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করেছে বাজেটে৷ অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পেনশন প্রকল্প হতে চলেছে এটি৷ এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে৷ শ্রী গোয়েল বলেছেন, এরজন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে আরও টাকা দেওয়া হবে৷ চলতি অর্থবছর থেকেই এই প্রকল্পটি চালু হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

 

কর সুবিধা

বাজেট উল্লেখ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করেন এমন কাউকে এখন থেকে আর আয়কর দিতে হবে না৷ তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় যদি ৬.৫০ লক্ষ টাকা থাকে আর তিনি যদি এই টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড, সুনির্দিষ্ট সেভিংস কিংবা ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি করেন তবে তাকেও আয়কর দিতে হবে না৷ তিনি জানান, অতিরিক্ত হিসাবে গৃহ ঋণের ক্ষেত্রে ২ টাকা পর্যন্ত সুদ মকুব, শিক্ষা ঋণ, ন্যাশনাল পেনশন স্কীম, মেডিক্যাল ইন্সুরেন্স, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচের বিষয়ও এই অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে রাখা হয়েছে৷ দেশের ৩ কোটি মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র আয়ীদের জন্য ট্যাক্সের সুবিধা দিতে বাজেটে ১৮,৫০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

বেতনভুক কর্মচারীদের করের সীমা ৪০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০,০০০ টাকা৷ এরফলে এমন ৩ কোটি বেতনভূক আয়ী ও পেনশনারের ৪,৭০০ কোটি টাকা লাভ হবে৷ ক্ষুদ্র করদাতাদের নিস্তার দিতে ভাড়ার উপর করের পরিমাণ ১,৮০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২,৪০,০০০ টাকা৷

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবসায়ীদের উপর থেকে জিএসটি’র চাপ কমাতে চায় সরকার৷ এরজন্য মন্ত্রীদের নিয়ে জিএসটি কাউন্সিল একটি কমিটি গঠন করেছে৷ এই বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে৷ তিনি জানান, ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জিএসটি প্রদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে৷

 

মুদ্রাস্ফীতি

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকার সাফল্যের সাথে গত পাঁচ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৪.৬ শতাংশ নীচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, বিগত যে কোনো সরকারের সময়কালের তুলনায় কম ছিল৷ ডিসেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতি নেমে হয়েছিল ২.১৯ শতাংশ৷ তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে গড়ে মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে ১০.১ শতাংশ৷

রাজস্ব ঘাটতি

গত সাত বছরের মধ্যে রাজস্ব ঘাটতি ৩.৪ শতাংশে নেমেছে যা  ২০১৮-১৯ রিভাইজড এস্টিমেট এর সময়কালে ছিল ৬ শতাংশ৷

বৃদ্ধি এবং এফডিআই

অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, উচ্চ বৃদ্ধির দশকের পর্যায় শীঘ্রই আসছে৷ গত পাঁচ বছরে জিএসটি এবং অন্যান্য কর ব্যবস্থার সংশোধন পরবর্তী প্রজন্মকে গঠনমূলক সংশোধনীর পথে নিয়ে যাবে৷ অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ সালে যেখানে  ভারতবর্ষ ছিল বিশ্বের ১১ তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ সেখানে বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি এখন বিশ্বের ষষ্ট বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসাবে উঠে
এসেছে৷

বৃহৎ প্রকল্পসমূহের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ

২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য এমজিএনরেগায় ৬০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ প্রয়োজনে এই প্রকল্পে আরও অতিরিক্ত অর্থবরাদ্দ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনায় (পিএমজিএসওয়াই) প্রকল্পে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ১৫,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ তিনি জানিযেছেন, ২০১৪-১৮ সময়কালের মধ্যে দেশে ১.৫৩ কোটি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায়৷

শ্রী গোয়েল বাজেট ভাষণে উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সমস্ত বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে বিদ্যুতের সংযোগ৷ এখন পর্যন্ত ১৪৩ কোটি এলইডি বাল্ব সরবরাহ করা হয়েছে যারফলে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ৫০,০০০ কোটি টাকা সঞ্চয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা আয়ুস্মান ভারত চালু করা হয়েছে৷ যার ফলে দেশের ৫০ কোটি মানুষ চিকিৎসার সুবিধা পাবেন৷ ইতোমধ্যে ১০ লক্ষ রোগী এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন৷ শ্রী গোয়েল জানান, ২১টির মধ্যে ১৪টি এইমস স্থাপিত হয়েছে দেশে৷ হরিয়ানায় ২২তম এইমস হাসপাতাল চালু করারও ঘোষণা দেন এদিন তিনি৷

তিনি বলেন, আইসিডিএস প্রকল্পে বাজেটের পরিমাণ ২৩,৩৫৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৭,৫৬৪ কোটি টাকা৷ এছাড়া, এসসি, এসটিদের উন্নয়নের জন্য বাজেটে ৫৬,৬১৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২,৪৭৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.