Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
ত্রিপুরাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, চট্রগ্রাম-আশুগঞ্জ বন্দর চালু হলে এই রাজ্য কমার্শিয়াল হাব হবে ঃ প্রধানমন্ত্রী
By Our Correspondent, 09/02/2019, Agartala

শনিবার ত্রিপুরায় এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ আগরতলায় এসে বিমানবন্দরে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদূরের একটি মর্মর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেছেন তিনি৷ এছাড়া, বিবেকানন্দ ময়দানে উপস্থিত লক্ষাধিক জনতার উপস্থিতিতে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নতুন কমপ্লেক্স ও গর্জি-বিলোনিয়া নতুন রেল লাইনেরও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ পরে জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন- ত্রিপুরাকে দক্ষিণ_পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে৷ একই সাথে তিনি বলেন, জলপথে বাংলাদেশের সাথে ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এই রাজ্য কমার্শিয়াল হাব হিসেবে গড়ে উঠবে৷ ত্রিপুরা দেশের মূল স্রোতের সাথে যুক্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷

ইটানগর ও গুয়াহাটি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান শনিবার বিকেলে অবতরণ করে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বিমানবন্দরে৷ এখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যপাল কাপ্তান সিং সোলাঙ্কি, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সমেত রাজ্য সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা৷ বিমানবন্দরে নেমে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান টার্মিনাল ভবনের সামনে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদূরের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন৷ এরপর সরাসরি চলে আসেন বিবেকানন্দ ময়দানে৷ এখানকার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদি নরসিংগড়স্থিত টিআইটি’র নতুন কমপ্লেক্স এবং গর্জি-বিলোনিয়া রেলের ফলক উন্মোচন করেন৷

বিবেকানন্দ ময়দানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার গত সাড়ে চার বছরে কোনো খামতি রাখেনি৷ কিন্তু বিগত রাজ্য সরকারের কারণে অনেক কিছুই হয়নি৷ তিনি বলেন, “এই প্রথমবার নূন্যতম সহায়ক মূল্যে রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে৷ এটা অত্যন্ত অবাক করার বিষয়৷ পূর্বতন সরকার শুধু বড় বড় কথা বলতো৷ অথচ ত্রিপুরার কৃষকদের জন্য কিছুই করেনি৷ গত এগারো মাস আগে ত্রিপুরায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর কৃষকদের কাছ থেকে নূন্যতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় কিংবা কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার মত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে৷’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা এখন জাতীয় স্রোতের সাথে যুক্ত হচ্ছে৷ এর আগে বিধানসভার নির্বাচনী সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হীরা (হাইওয়েজ, আইওয়েজ, রোডওয়েজ ও এয়ারওয়েজ) মডেলের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন৷ এদিন পুনরায় এই হীরা মডেলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “সাধারণতঃ অনেকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা ক্ষমতায় এসে ভুলে যান৷ কিন্তু ত্রিপুরায় এখন যা কাজ হচ্ছে সমস্ত প্রকল্পই হীরা মডেলের অংশ৷ এর মাধ্যমে রাজ্যে নুতন রোজগার যেমন আসবে তেমনি উদ্যোগপতিরাও আকৃষ্ট হবেন৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিটাগাং ও আশুগঞ্জ বন্দরকে কেন্দ্র করে গোমতী দিয়ে ত্রিপুরায় নিয়ে আসা হবে জাহাজ৷ গোমতী নদীর অবস্থান এর আগে থেকেই থাকলেও কখনো কোনো সরকার এই পরিকল্পনা নেয়নি৷ তিনি বলেন, আগরতলা-সাব্রুম রেলের অংশ হিসেবে গর্জি-বিলোনিয়া রেলের উদ্বোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে৷ অন্যদিকে, ফেনী নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে এবং গোমতী দিয়ে জাহাজ নিয়ে আসা সম্ভব হলে ত্রিপুরা কমার্শিয়াল হাব হয়ে যাবে৷ গোমতী নদীর খননের কাজও শীঘ্রই হাতে নেওয়া হবে বলে এদিন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন৷

ত্রিপুরায় ৬৫ হাজারের মত ভূয়ো সুবিধাভোগীদের সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ তেমনি সারা দেশ থেকে ৮ কোটি ভূয়ো সুবিধাভোগীদের সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এতদিন তারা আপনাদের প্রাপ্য লুট করে চলছিল৷ এই সুবিধাভোগী দালালদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য যারা  কাজ করে চলছিল এখন তারা স্বপ্ন দেখছে দিল্লিতে আসার৷ কলকাতায় কিংবা দেশের অন্যত্র হাতে হাত রেখে মহামিশ্রনের মজবুর সরকার গঠনের অঙ্গীকার করছে৷ তিনি বলেন, দেশের যুবক, গরিব, কৃষক এবং শ্রমিকরা মজবুর সরকার নয়, মজবুত সরকার চাইছেন৷

কমিউনিস্টরা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে শাসন ক্ষমতায় থেকে এমনকি দিল্লিতে সরকারের অংশীদার হয়েও শ্রমিকদের জন্য কিছুই করেনি৷ প্রধানমন্ত্রীর মতে, তাদের মন পরিস্কার ছিল না৷ এই সরকার শ্রমিকদের জন্য “শ্রমযোগী মানধন যোজনা” নামে প্রকল্প ঘোষণা করেছে, যাতে অসংগঠিত শ্রমিকরা ৬০ বছর বয়সের পর নূনত্যম মাসে তিন হাজার টাকা করে পেনশন পেতে পারেন৷ তেমনি কৃষক, পশুপালক ও মৎসজীবীদের জন্যও সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে৷ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেটে কৃষক পরিবারের জন্য তিন ধাপে বছরে ৬ হাজার টাকার অনুদান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই টাকা পৌঁছে দেওয়া চাই৷

প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদি বলেন, মৎসজীবীদের জন্য পৃথক দপ্তর খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তেমনি পুরনো প্রকল্প আয়ূস্মান ভারতের অধীনে ত্রিপুরার ৫ লক্ষ পরিবারকে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে, যারা বছরে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ পেতে পারেন৷ উজ্জ্বলা যোজনায় গত ১১ মাসে বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে ত্রিপুরায় ২ লক্ষ পরিবারের কাছে রান্নার গ্যাসের সংযোগ তুলে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ এছাড়া, যাদের ঘর নেই, শৌচালয় নেই এমন ২০ হাজার পরিবারকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় বাজেটে জনজাতিদের জন্যও বরাদ্দ এবার বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্ব-শাসিত জেলা পরিষদকে শুধু আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে চাইছে না, এই পরিষদগুলিকে শক্তিশালীও করে তুলতে চাইছে৷ এরজন্য জনজাতিদের হাতে অধিকার তুলে দেওয়া হয়েছে৷

ত্রিপুরার পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে সরকারি চাকরিতে একটি দলের সমর্থকদেরই নেওয়া হতো৷ এই পরম্পরা এখন শেষ হয়ে গেছে৷ যাদের যোগ্যতা আছে কেবল তাদেরকেই চাকরিতে নেওয়া হবে৷ কেন্দ্র এবং রাজ্যে “ডবল ইঞ্জিন” চালু রয়েছে একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্যকে ভারতের অন্যতম স্থান হিসাবে গড়ে তোলা হবে৷ বিগত ১১ মাসে ত্রিপুরাকে যেভাবে দ্রুত সামনের সারিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার তারজন্য মুখ্যমন্ত্রী, উপ মুখ্যমন্ত্রী ও মন্তি্রসভার অন্যান্য সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.