Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
চুরি হয়ে গেছে রাফায়েল বিমান চুক্তির নথি, সর্বোচ্চ আদালতে জানাল কেন্দ্র
Burue Report, 06/03/2019, New Delhi
 

খোদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অফিস থেকে রাফাল চুক্তির নথিই চুরি গিয়েছে!  বুধবার রাফাল শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে এমনই তথ্য জানাল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে এমন স্পর্শকাতর নথি চুরির খবর সামনে আসতেই বিস্মিত সংশ্লিষ্ট সব মহল। অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি, বিরোধীরা এই চুরি যাওয়া নথিকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছে, যা ফৌজদারি অপরাধের সমান। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রের সওয়াল, ‘‘পাকিস্তানের এফ-১৬ মোকাবিলা করতে এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখতেই রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন।’’ মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ মার্চ।

ফ্রান্সের সংস্থা দাসো এভিয়েশনের সঙ্গে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই চুক্তিতেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে তদন্তের দাবিতে একাধিক মামলা দায়ের হয় শীর্ষ আদালতে। সেই মামলায় গত ১৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রকে ক্লিনচিট দেয় সুপ্রিম কোর্ট। মামলাকারীদের সব কটি আর্জিই খারিজ হয়ে যায়। এর পর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে ফের মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলাতেই বুধবার নতুন করে শুনানি শুরু হয়েছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বেঞ্চে।

শুনানিতে বুধবার কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল আদালতে বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দফতর থেকে রাফালের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি গিয়েছে। কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কোনও কর্মী চুরির সঙ্গে যুক্ত। এই গোপনীয় নথি প্রকাশ্যে আসতে পারে না। অথচ সেই নথিই আদালতে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছে মামলাকারীরা। এটা আদালত অবমাননা এবং অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের পরিপন্থী। প্রধান বিচারপতি তখন জানতে চান, এর বিরুদ্ধে সরকার কী পদক্ষেপ করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

অন্যতম মামলাকারী প্রশান্ত ভূষণ পাল্টা যুক্তি দেন, কয়লা কেলেঙ্কারি, টুজি কেলেঙ্কারির মতো মামলায় এমন বহু নথি আদালতে পেশ হয়েছে, যেগুলি বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া সরকারি নথি। সেগুলিও গোপন নথি ছিল। অথচ আদালতে পেশ হলেও তখন কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। প্রধান বিচারপতিও প্রশ্ন তোলেন, কোনও মারাত্মক অপরাধ হলেও তখন কি জাতীয় নিরপত্তার ছাতার তলায় আশ্রয় নেওয়া যায়?

বিরোধী এবং মামলাকারীরা যে এই সব করে আসলে রাফাল যুদ্ধবিমান হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়াকেই বিলম্বিত করে দিচ্ছে, সেটা আদালতকে বোঝাতে চেয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তাঁর যুক্তি, ‘‘জরুরি প্রয়োজনের কথা ভেবেই রাফাল নিয়ে দর কষাকষি শুরু হয়েছিল। প্রথম ব্যাচ সেপ্টেম্বরেই হাতে পাওয়া যেত। তার জন্য ৫২ জন পাইলটকে ফ্রান্সে পাঠানো  হবে দু’-তিন মাসের প্রশিক্ষণের জন্য। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই এত কিছু করা হচ্ছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.