Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
বর্জ্য নিষ্কাশনীকে সুসংহত ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে পুর নিগম ও জিবি হাসপাতালে জারি কঠোর নির্দেশিকা জারি
By Our Correspondent, 10/06/2019, Agartala

আগরতলা পুর নিগম এলাকার বর্জ্য নিষ্কশনী ব্যবস্থার মান মোটেও ভাল নয়৷ গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল থেকে নির্দেশিকা আসার পরেও এই কাজে কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি আগরতলা নিগম৷ গত ৩১ মার্চ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ট্রাইব্যুনাল থেকে৷

কিন্তু এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ ঘুমেই রেখে দেওয়া হয়েছিল৷ ট্রাইব্যুনালের কড়া অবস্থানের মুখে  রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে জানতে পারে৷ তখন সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো আর্জি রাখলে ট্রাইব্যুনাল তাতে সম্মতি দেয়৷

সেই মত আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আগরতলা পুরনিগম এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ সেই মত এদিন আগরতলা জিবি হাসপাতালকেও কঠোর নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে৷ বর্তমানে আগরতলা শহরে বাড়ি বাড়ি থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়৷ কিন্তু এই বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ভাবে৷ পচনশীল এবং অপচনশীল সমস্ত কিছুই একসাথে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তা পুনরায় ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে৷ যারফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ৷ এছাড়া, ক্রমে এই আবর্জনার বিস্তৃতি ঘটছে সর্বত্র৷

প্রায় সারা দেশেই এই অব্যবস্থা চলছে৷ এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেয়_ বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উপর৷ এরজন্য প্রয়োজন বর্জ্য পৃথকীকরণের৷ কিন্তু পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ কোথাও সেই অর্থে পৃথকীকরণ হচ্ছে না দেখে ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল সমস্ত রাজ্যকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়৷ সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আগরতলায় তেমন কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি৷

অবশেষে ট্রাইব্যুনাল এই ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিতে গেলে বিষয়টা সম্পর্কে জ্ঞাত হয় রাজ্য সরকার৷ যথারীতি আবেদন জানানো হয় যাতে কিছুটা সময়সীমা দেওয়া হয়৷ সেই মত চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়৷ এই সময়ের মধ্যে বর্জ্য পৃথকীকরণের বিষয়ে রাজ্য সরকার আগরতলা পুর নিগমকে কড়া নির্দেশ জারি করে৷ রাজ্য সরকারের চাপে নিগম এখন পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং করে বেড়াচ্ছে৷ অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের কাছে খবর আসে যে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিতে শব ব্যবচ্ছেদের ফলে যে বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে তাও নিকটবর্তী চুল্লীতে না জ্বালিয়ে তা নিগমের ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে৷

এরফলে বিভিন্ন রোগ এবং সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়৷ এমনকি হাসপাতালে ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন এর সিরিঞ্জও নষ্ট না করে কন্টেইনারে ফেলা হচ্ছে৷ এরফলে তাও পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ থেকে যায়< যা থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে৷ রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব কুমার অলক এদিন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনা বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস ২০১৬ এর অবজ্ঞা বলে উল্লেখ করা হয়৷ অনতিবিলম্বে তা বন্ধ করতে স্বাস্থ্য দপ্তরের সিনিয়র আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.