Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
গান্ধীজির স্বরোজগারের ভাবনাকে পাথেয় করেই উন্নয়নের পথে রাজ্যঃ মুখ্যমন্ত্রী
By Our Correspondent, 02/10/2019, Agartala

গান্ধীজীর গ্রাম স্বরাজের চিন্তনকে গুরুত্ব না দিয়ে সমাজবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেই দেশ স্বনির্ভর হতে পারেনি। অথচ সমাজবাদ আজ গোটা বিশ্বে গ্রহণ যোগ্য নয়। ঐ সময়ে দেশের নীতি নির্ধারকরা ভুল পথে চালিত করছিল দেশকে। এখন দেশ প্রকৃত অর্থে গান্ধীবাদকে পাথেয় করে এগুচ্ছে।
গান্ধীজির গ্রামস্বরাজের ভাবনাকে মাথায় রেখে কাজ করে চলেছে সরকার। রাজ্যেও সেই গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থাকে মজবুত করার জন্য বাঁশের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

"শিক্ষাকে চাকরি প্রাপ্তির ব্যবস্থা না ভেবে স্বাবলম্বনের পথ হিসেবে তৈরি করতে পারলেই রাষ্ট্র স্বনির্ভর হবে", বুধবার রবীন্দ্র ভবনে গান্ধীজির জন্ম সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গান্ধীজীর এই উক্তিটিকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন ,আজ থেকে 70 বছর আগে অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় গান্ধীজী স্বাবলম্বী গ্ৰাম, স্বাবলম্বী দেশ তৈরির করার কল্পনা করেছিলেন। যা 2014 সালে মোদিজীর সরকার আসার পর থেকে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে। শ্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, গান্ধীজীর গ্রাম স্বরাজকে বাস্তবায়িত করতে পারলেই ঘরে ঘরে রোজগারের ব্যবস্থা সম্ভব হবে। 2019 সালে এমএসএমই দ্বারা ক্ষুদ্র শিল্পকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সরলীকরণ, উৎসাহ প্রদান এবং ঋন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অনুষ্ঠানে গান্ধীবাদে বিশ্বাসী সমাজসেবক স্বর্গীয় চিত্তরঞ্জন দেবকে মরণোত্তর সম্মান প্রদান করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গান্ধীজীর গ্রাম স্বরাজ ভাবনায় মোদিজীর স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ভারতকে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। গান্ধীজীর স্বচ্ছতার আর্দশকে সামনে রেখে মোদী সরকারের স্বচ্ছ ভারত মিশন সবচাইতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ভারতবর্ষের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের মানুষ বর্তমানে গান্ধীবাদ এবং একাত্ম মানববাদে বিশ্বাসী। এর আগে এই মতাদর্শ ভারতে ঠিক মত মানা হয় নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান সরকার শক্তিশালী গ্রামের মাধ্যমে শক্তিশালী দেশ গঠনের পথে হাটছে।

তিনি বলেন ,গত 30 সেপ্টেম্বর ব্যাম্বু মিশন দ্বারা রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে, রাজ্যে এই প্রথমবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যেমন চেন্নাই, কলকাতা ,ব্যাঙ্গালোর ইত্যাদি এবং সুইডেনের একটি এফএসসি সার্টিফাইড কোম্পানির 13 জন প্রতিনিধিরা এসেছেন বিনিয়োগ করতে, যা ত্রিপুরার বুকে ইতিহাস রচনা করেছে। এ কথা অনেকেই জানেন না যে ত্রিপুরাতে এফএসসি সার্টিফাইড ব্যাম্বু প্লান্ট রয়েছে।কিছু দিন আগে রাজ্যের এই সম্পদের প্রকৃত গুনমান উন্মোচিত হল। তিনি আরও বলেন, এই বাঁশকে ব্যবহার করে আগামী দু'মাসের মধ্যে রাজ্যে ধূপকাঠির শলা তৈরির কারখানা স্থাপন করা হবে। যা অনেকের রোজগারের পথ সুগম করবে। এরই মধ্যে ধুপকাঠির শলা আমদানিতে কেন্দ্রের আরোপিত বিধিনিষেধ, রাজ্যের ক্ষুদ্র উদ্যোগীদের আরো উৎসাহিত করবে। ত্রিপুরায় 17 হাজার হেক্টর ব্যাম্বু সেক্টর রয়েছে, যেখানে সুইডেনের কোম্পানি একশ থেকে দেড়শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে তৈরি। রাজ্যের রাবার গাছের কাঠ দিয়ে বিভিন্ন রকমের আসবাবপত্র তৈরি করা হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বরোজগারী হিসাবে আমাদের তৈরি করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি আগামীকাল দিল্লি যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক জলপথ প্রটোকলের জন্য স্বাক্ষর এবং অন্যান্য তেরোটি উপকরণের রপ্তানির অনুমতি গ্রহনের জন্য। এর মাধ্যমে রাজ্যে আন্তর্জাতিক বানিজ্য বাড়বে, উন্নত হবে চা শিল্প।a

তিনি বলেন ,গান্ধীজীর জন্মদিনে তাঁর কর্মকুশলতা, বিচারধারা ,চিন্তাধারা, একাত্ম মানববাদ সবার মধ্যে নিয়ে আসতে পারলেই ত্রিপুরাকে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী শ্রী রতন লাল নাথ, রাজস্ব মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা, মুখ্য সচিব শ্রী ইউ ভেঙ্কটেশ্বরালু , পুলিশ মহানির্দেশক শ্রী একে শুক্লা, শিক্ষা দপ্তরের সচিব শ্রীমতি সৌম্যা গুপ্তা, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব শ্রী এন ডারলং সহ অন্যান্যরা।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.