Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
রাজ্যে বাড়ছে দুগ্ধ উৎপাদন, আমদানি কমিয়ে রাজ্যের আর্থিক প্রবৃদ্ধি সরকারের লক্ষ্যঃ মুখ্যমন্ত্রী
By Our Correspondent, 02/10/2019, Agartala

গত এক বছরে এরাজ্যে ৯২৬০ মেট্রিক টন দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন দুগ্ধ উৎপাদন হয়েছিল, পরের বছরই তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন। দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় দ্রব্যের আমদানিতে রাজ্যের বহু টাকা বহির্রাজ্যে চলে যাচ্ছে। তা ক্রমশ বন্ধ করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্যে ছোট ছোট শিল্পের মাধ্যমে এই অর্থ রাজ্যের বাজারে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আগরতলার হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ডেয়ারি উন্নয়ন মেলা ২০১৯ এর উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।

তিনি বলেন রাজ্যকে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি ডেয়ারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোকেও অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গাভী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার জন্য প্রচুর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে যে সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ত্রিপুরাকে স্বনির্ভর করার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোন কাজই ছোট কিংবা বড় নয়। যে, যে স্থানে থেকে কাজ করছেন সেই কাজটাই মুখ্য বলে ধরতে হবে। তিনি গাভী ক্রয় করার পাশাপাশি তার পরিচর্যা করার ওপর জোর দেন। তবেই সুবিধাভোগীরা দুগ্ধ উৎপাদন স্বনির্ভরতার পথে পা বাড়াবে।

তিনি বলেন ত্রিপুরায় ১ লক্ষ ৫৭ হাজার সংকর প্রজাতির গাভী রয়েছে। রাজ্যের ২৫ টি ব্লক, আগরতলা পৌরনিগম এবং উদয়পুর পুর পরিষদ এলাকায় এইগুলি রয়েছে। এই ২৭টি ব্লক ও পুর সংস্থাকে চিহ্নিত করে ব্যাংক ঋণ প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে উপস্থিত ব্যাংক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। এই শিল্পের বিকাশে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর এর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জানান, ত্রিপুরা ভেটেরিনারি কলেজকে, ভেটেরিনারি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া স্থায়ী স্বীকৃতি দিয়েছে। যা বহুদিন উপেক্ষিত ছিল। ত্রিপুরা ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ইন্টার্নশিপ অ্যালাউন্স ১৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮০০০ টাকা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন রুদ্রসাগরে চলতি বছরের ৭৩৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ১৪ হাজার ৬৮০ টি হাঁস বন্টন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুলি রূপায়িত হচ্ছে তার পর্যবেক্ষণ নিয়মিত করতে বলেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। তবেই ত্রিপুরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শক্তিশালী এবং মডেল রাজ্য হিসাবে পরিণত হবে। রাজ্যের সার্বিক কল্যাণে বর্তমান রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার প্রতিফলন রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে রাজস্ব আয় বেড়ে ২৬ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত সরকারের সময়ে ছিল ৯.৮ শতাংশ ছিল। সিডি রেশিও ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৬ শতাংশ।

শ্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, বিশ্বে যখন মন্দা চলছে তখন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার কর্পোরেট ট্যাক্স হ্রাস করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এই সিদ্ধান্তে ৭ থেকে ৮ লক্ষ কোটি টাকা ভারতের বাজারে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে এন ই সি প্রকল্পে উন্নত প্রজাতির শংকর জাতীয় গাভী ৫০ জন নির্বাচিত সুবিধাভোগীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়। ৩৬ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গো প্রজনন কর্মীদের মধ্যে কৃত্রিম প্রজননের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ডেয়ারি এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভলপমেন্ট প্রকল্পে ঋণ পাওয়ার আবেদনপত্র গ্রহণ এবং ঋণ প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সুবিধাভোগীদের হাতে এই সুবিধাগুলি তুলে দেন।


ডেয়ারি উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব রাজ্য পরিকল্পনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আর কে মাথুর সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগন বিভিন্ন ডেয়ারী শিল্পের সাথে যুক্ত সংস্থা এবং বিভিন্ন ব্যাংক এর প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।
 

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.