Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
আগরতলা থেকে ধর্মনগর ও সাব্রুম পর্যন্ত দু'টি ডেমু ট্রেন চালু, ১৭১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কৈলাশহরকে রেল পরিষেবার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সম্ভব হবে : মুখ্যমন্ত্রী
By Our Correspondent, 03/10/2019, Agartala
 

রাজ্যে বর্তমানে সিঙ্গেল ট্র্যাক থাকার কারণে এক্সপ্রেস ট্রেন গুলি প্রতিদিন চলাচল করতে পারছেনা। ধর্মনগর কৈলাশহর পেচারথলের এর মধ্যে ৪১.৭৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষার কাজ চলছে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর রেল ট্র‍্যাকের কাজ শুরু হবে। এর জন্য ব্যয় হবে ১৭১৩ কোটি টাকা। এই রেলপথের মাধ্যমে কৈলাশহরকে রেল পরিষেবার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার আগরতলা রেল স্টেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পতাকা নেড়ে আগরতলা, সাব্রুম এবং আগরতলা ধর্মনগর ডেমু পরিষেবার সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।

তিনি বলেন, ধর্মনগর,পেচারথল,খোয়াই, আগরতলা বিলোনিয়া পর্যন্ত বিকল্প রেলপথ নির্মানের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ২০২০ সালের মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হলে রেল ট্র‍্যাকের কাজ শুরু হবে। বিকল্প এই রেলপথটি তৈরি হলে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিকে আরো বেশি করে চালানো যাবে। বিকল্প রেলপথ নির্মাণে ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।তাতে রাজ্যের জিডিপি বাড়বে, রোজগার সৃষ্টি হবে, পরিকাঠামো তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধকের ভাষনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, রাজ্য সরকার যাত্রীদের সুবিধার্থে দুর্গাপুজার আগেই রেল পরিষেবা চালু করার অঙ্গীকার করেছিল। আজ এই কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, ও রাজ্যের পরিবহন দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে যে সকল কাজ করেছে তাতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ত্রিপুরা। এই সময়ের মধ্যেই রাজ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, কাঞ্চনজঙ্ঘা, দেওঘর, রাজধানী সহ মোট ৬ টি এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যে এখন কোন কিছুর জন্য আন্দোলন করতে হয় না। বিনা আন্দোলনেই প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের জন্য সব ব্যবস্থা করে দেন। বাংলাদেশ থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত গোমতী নদীর জলপথকে ব্যবহার করার জন্য দিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধাণমন্ত্রী মিলিত হবেন। এই জলপথটি ইন্টারন্যাশনাল প্রটোকল রোড হিসাবে ঘোষিত হলে, রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে। এছাড়াও বাংলাদেশের চিটাগাং বন্দর খুলে দেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। তাতে ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তিনি বলেন সম্প্রতি নর্থইস্ট কাউন্সিলের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে দেশের শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজ্য সরকারও ত্রিপুরাকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

দর্শনার্থীরা যাতে স্বাচ্ছন্দে দুর্গাপূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সেজন্য পূজার দিন সারারাত রেল পরিষেবা প্রদানের জন্য উত্তর পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজারকে প্রয়াস নেওয়ার জন্য আবেদন রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন অনুষ্ঠানে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শ্রীমতী প্রতিমা ভৌমিক, পরিবহণমন্ত্রী শ্রী প্রনজিত সিংহ রায়, বিধায়ক শ্রী রতন চক্রবর্তী, শ্রী রামপ্রসাদ পাল, শ্রীমতি মিমি মজুমদার, শ্রী প্রভাত চৌধুরী, মুখ্যসচিব শ্রী ভেঙ্কটেশ্বরেলু এবং পরিবহন দপ্তরের প্রধান সচিব শ্রী এল এইচ ডার্লং সহ অন্যান্যরা।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.