Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
পঞ্চম ভারত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবে ৪টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হতে চলেছে
Burue Report, 04/11/2019, Mumbai

পঞ্চম ভারত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসব আগামীকাল কলকাতায় শুরু হচ্ছে। চার দিনের এই উৎসবে অন্তত ৪টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পরিকল্পনা রয়েছে। 

আগামীকাল উৎসবের প্রথম দিন বৃহত্তম অ্যাস্ট্রোফিজিক্স শিক্ষণ এবং নভঃশ্চররা যে দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা স্পেকট্রোস্কোপ ব্যবহার করেন, তা নিয়ে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ১ হাজার ৭৫০ জনেরও বেশি পড়ুয়া অংশ নেবে। উল্লেখ করা যেতে পারে, পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কোনও বস্তুর তাপমাত্রা, রাসায়নিক গঠন প্রভৃতি বিশ্লেষণের জন্য স্পেকট্রোস্কোপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কার্ডবোর্ড দিয়ে বক্স বানিয়ে যে কেউ সহজেই আধুনিকতম স্পেকট্রোস্কোপের ক্ষুদ্র সংস্করণ নির্মাণ করতে পারে। স্পেকট্রোস্কোপের এই ক্ষুদ্র সংস্করণে একটি ছোট জানালা থাকবে, যেখান দিয়ে আলো ঢুকতে পারবে। স্পেকট্রোস্কোপের ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি করার এই উদ্যোগ প্রখ্যাত বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা ও সিভি রমণ-কে উৎসর্গ করা হ’ল। 

উৎসবের দ্বিতীয় দিন বুধবার ইলেক্ট্রনিক্স শিক্ষণ এবং অপ্টিক্যাল মিডিয়া কম্যুনিকেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ৯৫০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী অংশ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইনফ্রারেড সংকেত, যা ওয়্যারলেস ইনফ্রারেড যোগাযোগ হিসাবে পরিচিত, তা দিয়ে আলোক প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে যোগাযোগের ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসাবে নিকটবর্তী ইনফ্রারেড ব্র্যান্ডের সংযোগ স্থাপন করা হবে। ইনফ্রারেড ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে যোগাযোগ স্থাপনের এ ধরনের প্রয়াস বিশিষ্ট বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরমণ এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করা হচ্ছে। 

উৎসবের তৃতীয় দিন ৭ই নভেম্বর রেডিও সাজসরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বৈজ্ঞানিক উপায়ে একত্রীকরণের জন্য যে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, তাতে ৪০০-রও বেশি ছাত্রছাত্রী অংশ নেবে। বিভিন্ন তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের মতো রেডিও তরঙ্গও খালি জায়গায় আলোর গতিতে প্রবাহিত হয়। ট্রান্সমিটার থেকে কৃত্রিম উপায়ে রেডিও তরঙ্গ তৈরি হয়। এর পর, এই তরঙ্গ রেডিও বা বেতারের অ্যান্টেনায় ধরা পড়ে। এই কর্মসূচিকে প্রবাদপ্রতীম বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হবে। 

এই বিজ্ঞান উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ৮ই নভেম্বর মানব ক্রোমোজমের একটি সর্ববৃহৎ প্রতিবিম্ব গড়ে তোলার চেষ্টা হবে। এই উদ্যোগে ৪০০-রও বেশি ছাত্রছাত্রী যোগ দেবে। প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে একত্রিত হয়ে যে ডিএনএ মলিকিউল থাকে, তাকে ক্রোমোজম বলা হয়। ডিএনএ’র ওপর নির্ভর করেই প্রতিটি ক্রোমোজম তৈরি হয়। এই ক্রোমোজমগুলি ডিএনএ কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এ ধরনের প্রতিবিম্ব গড়ে তোলার উদ্দেশ্য হ’ল, তাদের নতুন আবিষ্কারের ব্যাপারে উৎসাহিত করা, যাতে তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই বিশ্বে নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারে।

পঞ্চম ভারত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজক শহর হিসাবে কলকাতার এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। এই শহর বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানমূলক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি, একাধিক খ্যাতনামা বিজ্ঞানীর কর্মক্ষেত্রও ছিল। এই বিজ্ঞানীরাই ভারতে বিজ্ঞান-সাধনাকে এক নতুন নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতের এই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসব বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান উৎসব হিসাবে পরিচিত। এ বছর এই উৎসবের মূল ভাবনা হ’ল ‘গবেষণা, উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেশকে আরও মজবুত করা’। 

উল্লেখ করা যেতে পারে, এবারের বিজ্ঞান উৎসব পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল। ২০১৫ সালে নতুন দিল্লিতে এই উৎসবের সূচনা হয়। দ্বিতীয়বারও নতুন দিল্লিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। তৃতীয়বার চেন্নাইতে এবং চতুর্থ তথা গত বছর লক্ষ্ণৌতে এই বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যগুলিকে তুলে ধরতেই কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক অন্যান্য মন্ত্রকের সহযোগিতায় বিগত পাঁচ বছর ধরে এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে। 

কলকাতায় আয়োজিত এবারের উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ১২ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন। উৎসবের দিনগুলিতে ২৮টি পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.