Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
জলপথে যুক্ত হলো এবার উত্তর পূর্বাঞ্চল, সোনামুড়া-দাউদকান্দি জলপথ যুক্ত হবে ৯ ও ১০ নম্বর রুটে, পোর্ট অন কল হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সোনামুড়াকে
By Our Correspondent, 04/11/2019, Agartala
 

অবশেষে জলপথে যুক্ত হতে চললো উত্তর পূর্বাঞ্চল৷ গত ৪ নভেম্বর পণ্যবাহী জাহাজ এমভি মহেশ্বরী জলপথে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স(এইচডিসি) থেকে গুয়াহাটির পান্ডুতে ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই)টার্মিনালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে৷ এই কনসাইনমেন্ট এসে পৌঁছুতে সময় লাগবে ১২-১৫ দিন৷ সবকিছু ঠিকঠাক চললে ত্রিপুরার সোনামুড়াও এই জলপথে যুক্ত হতে চলেছে৷ এই জলপথের নম্বর হয়েছে ৯ ও ১০৷ এছাড়া পোর্ট অন কল হিসাবে ইতোমধ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সোনামুড়াকে৷

অভ্যন্তরীণ জাহাজ মন্ত্রকের (শিপিং) সচিব শ্রী গোপাল কৃষ্ণ এমভি মহেশ্বরী নামে পেট্রোকেমিক্যালস, ভোজ্যতেল এবং পানীয় ইত্যাদির ৫৩টি টিইইউ (ধারক) সমন্বিত এই কার্গোটিকে রওয়ানা করছেন৷ ১৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে কনটেইনারটি এসে পৌঁছুতে লাগবে ১২-১৫ দিন৷ যাত্রা পথে পড়বে জাতীয় জলপথ -১ (গঙ্গা নদী), এনডাব্লু-৯৭ (সুন্দরবন), ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল (আইবিপি) রুট এবং এনডব্লু -২ (ব্রহ্মপুত্র নদ)৷ অভ্যন্তরীণ  জল পরিবহন রুটে এটিই হচ্ছে প্রথমবারের মতো কোনো কার্গো চলাচল। ভারত সরকারের মতে, আইডব্লিউটি এর লক্ষ্য হলো উত্তর পূর্বাঞ্চলের শিল্প বিকাশের জন্য বিকল্প রুট খোলার মাধ্যমে কাঁচামাল এবং তৈরি পণ্য এই অঞ্চলে সরবরাহ করা। ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী প্রথম জাতীয় জলপথ গঙ্গা-ভগিরথ-হুগলি চালু করেছিলেন৷
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন ও বাণিজ্য প্রটোকল (পিআইডব্লিউটিটি) অনুযায়ী পারস্পরিক স্বার্থে উভয় দেশ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথ ব্যবহার করতে সম্মত হয়েছে৷ আইবিপি রুটটি সম্প্রসারিত রয়েছে কলকাতা এনডাব্লু-১ থেকে অসমের শিলঘাট জাতীয় জলপথ-২ ব্রহ্মপুত্র নদী এবং করিমগঞ্জ জলপথ-১৬ অর্থাৎ বরাক নদী পর্যন্ত৷ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের দু'টি প্রান্ত যেমন- সিরাজগঞ্জ- দাইখোয়া ও আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ আইবিপি রুট দুটিকে উন্নত করা হচ্ছে৷ এরজন্য মোট ৩০৫.৮৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। ৮০:২০ হারে এই ব্যয় ভার বহন করছে যথাক্রমে ভারত এবং বাংলাদেশ৷ দুই প্রান্তের উন্নয়নের ফলে আইবিপি রুটের মাধ্যমে নৌপথ দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে বিরামবিহীন নৌচালনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই প্রান্তে প্রয়োজনীয় গভীরতার জন্য ড্রেজিং করতে এবং এই গভীরতা বজায় রাখার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও, সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশ জলপথ ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে৷ এরমধ্যে রয়েছে পিআইডব্লিউটিএন্ডটি’র অধীনে ভারতের কোলাঘাট, ধূলিয়ান, মাইয়া, সোনামুড়া এবং বাংলাদেশের ছিলমারি, রাজশাহী, সুলতানগঞ্জ, দাউদকান্দিকে অতিরিক্ত পোর্ট অন কল হিসাবে ঘোষণার চুক্তি৷ দুটি দেশ আরও কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়েছে৷ এগুলো হলো- করিমগঞ্জের বদরপুর ও আশুগঞ্জের ঘোড়াশালকে পোর্ট অন কল হিসাবে সম্প্রসারণ৷ কলকাতার ত্রিবেণী ও বাংলাদেশের মুক্তাপুরকে পোর্ট অন কল হিসাবে সম্প্রসারণ৷ রাজশাহী- গোদাগরি, ধূলিয়ান প্রোটোকল রুট নং ৫ ও ৬ কে বাংলাদেশের আরিচা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা এবং গোমতী নদীর দাউদকান্দি-সোনামুড়া নদীকে রুট নং ৯ ও ১০ হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা৷ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারতে পণ্য পরিবহণের সুবিধার্থে গত ৫ অক্টোবর ২০১৮ এই দুই দেশ একটি এসওপি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস পাবে এবং বাণিজ্য প্রতিযোগিতা আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.