Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
রিয়াং শরণার্থীদের আন্দোলন চলছেই, আজ এলাকায় যাচ্ছেন তিন মন্ত্রী, প্যাকেজ ও শিবির ছেড়ে শরণার্থীরা রাজ্যে থাকতে চাইলেও আপত্তি নেই সরকারের
By Our Correspondent, 06/11/2019, Agartala
 

পুনরায় রেশন চালু করা সহ কয়েকদফা নতুন দাবিকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে কাঞ্চনপুর রিয়াং শরণার্থীরা টানা পথ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন ৷ ১৪৪ ধারা অমান্য করেও এই সমস্ত শরণার্থীরা একত্রিত হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে৷ এরফলে তীব্র সংকটে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় জনগণকে৷ এই পরিস্থিতিতে সমস্যা মেটাতে আগামীকাল রাজ্য সরকারের একটি উচ্চস্থরীয় প্রতিনিধিদল শরণার্থীদের সাথে কথা বলতে কাঞ্চনপুর যাচ্ছেন৷ প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে থাকবেন উপ মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ৷ রাজ্য সরকার চাইছে চুক্তি মোতাবেক ৩১ নভেম্বরের মধ্যেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান৷ অন্যতায় রিয়াং শরণার্থীরা এখানে থাকতে চাইলেও রাজ্য সরকারের আপত্তি নেই৷ তবে এক্ষেত্রে রাজ্যের জনজাতি নাগরিকরা যে অধিকার নিয়ে বসবাস করছে তাদেরকেও সমান অধিকার নিয়েই থাকতে হবে৷ এমনটাই অবস্থান নিয়েছে সরকার৷


বলাবাহুল্য যে, রিয়াং শরণার্থীরা এখন একটা অংশের রিয়াং নেতাদের কাছে পণ্য হয়ে উঠেছেন৷ তাদেরকে সামনে রেখে প্রত্যেক মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা করে রোজগার করছেন৷ সমস্যার সুরাহা হয়ে গেলে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়বে এই আশঙ্কায় একাধিকবার চুক্তিতে সই করেও রাতারাতি অবস্থান বদল করেছেন৷ তাদের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বশেষ চুক্তিটি হয়েছিল গত বছরের ২রা জুলাই৷ এই চুক্তিতে রিয়াং শরণার্থীদের জন্য যে প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে তা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বাধিক৷ চুক্তিতে যে সমস্ত বিষয় রয়েছে সেগুলির মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো- প্রত্যেকটা পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট করে৷ মিজোরাম ফিরে গেলে তাদের জন্য জমি দেবে মিজোরাম সরকার৷ প্রত্যেকটা এলাকায় যাতে নূন্যতম ৫০টি পরিবার থাকতে পারে এমন জায়গাতেই তাদেরকে জমি দেওয়া হবে৷ এই এলাকায় তাদের নিরাপত্তার জন্য থাকবে ৪ জন এসপিও৷ জমিতে ঘর তৈরি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যেক পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা দেবে৷ এই পরিবারগুলির ভরন পোষণের জন্য প্রত্যেক মাসে নগদ ৫ হাজার টাকা করে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ আগামী ২ বছর পর্যন্ত এই টাকা দেওয়া হবে৷ সেই সাথে দুই বছরের জন্য দেওয়া হবে বিনামূল্যে রেশন৷ এই পরিবারগুলি যাতে জুম চাষ করতে পারে তারজন্য অন্যান্য গ্রামবাসীদের মত জমির ব্যবস্থা করা হবে৷ এমনকি তাদের জন্য মিজোরাম সরকার ও নিতি আয়োগের উদ্যোগে একটি নতুন প্রকল্প এনএলইউপি চালু করা হবে৷ এছাড়া টয়লেট ও গবাদি পশুর জন্য পৃথক জমি ও ঘর, বিভিন্ন সরকারি সার্টিফিকেট, স্পেশাল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার জন্যে প্রত্যেকটি পুনর্বাসন দেওয়া গ্রামে একটি করে আবাসিক একলব্য স্কুল ইত্যাদি৷ এরমধ্যে অন্যতম একটি রয়েছে পুনর্বাসনের পর বিশেষ আর্থ সামাজিক সমীক্ষা, যাতে করে সরকারি সমস্ত প্রকল্পের সুবিধাও ভোগ করতে পারে৷


আকর্ষণীয় এই প্যাকেজে তখন রিয়াং শরণার্থী নেতাদের হয়ে সই করেছিলেন তাদের সংগঠন এমবিডিপিএফের সভাপতি এ স্বাইবুঙ্গা৷ এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সই করেছিলেন বিশেষ সচিব রিমা মিত্র, মিজোরামের প্রধান সচিব লালথানওয়ালা চুয়াঙ্গু এবং ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যসচিব সঞ্জীব রঞ্জন৷ কিন্তু এবারও সই করেই নিজেদের অবস্থান থেকে সড়ে আসেন রিয়াং নেতারা৷ ২০০৯ সাল থেকে অন্তত আফ ডজন বার এমন সই করে বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছেন রিয়াং নেতারা৷ চুক্তি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এক হাজার রিয়াং পরিবার ইতোমধ্যে মিজোরাম ফিরে গেছেন এবং তারা সরকারি সমস্ত সুবিধা নিয়ে ভাল রয়েছেন৷ কিন্তু অধিকাংশ পরিবার এখনেো শরণার্থী নেতাদের কূটচালের শিকার হয়ে শিবিরে মানবেতর জীবনধারণ করে চলেছেন৷ সর্বশেষ ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল চলতি বছরের ৩রা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে শরণার্থীরা মিজোরাম ফিরে যাবেন এবং ৩১ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে৷ কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত এই যাত্রায় মাত্র দেড়শো পরিবার মিজোরাম গেলেও কয়েক হাজার পরিবার এখনো ত্রিপুরায় রয়ে গেছে৷ এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারও এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে_ যদি এই পরিবারগুলি মিজোরাম ফিরে যেতে না চায় তবে তাদেরকে ত্রিপুরাতেই থাকার জন্য অনুমতি দেও্য়া হতে পারে৷ কিন্তু রাজ্যের জনজাতি পরিবারগুলি যে অধিকার এবং সরকারি সুবিধা নিয়ে থাকছে তাদেরকেও সমপরিমাণ সুবিধাই দেওয়া হবে৷ অতিরিক্ত কিছু সম্ভব হবে না৷ এরফলে প্যাকেজের কোনো সুবিধা যেমন পাবেন না তেমনি তাদেরকে শিবির ছেড়ে দিতে হবে৷ আগামীকাল উপ মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে টিমটি কাঞ্চনপুর যাবে তারা এমন প্রস্তাব রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ উল্লেখ্য, প্রতিনিধিদলটিতে থাকবেন উপ মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ, রাজস্ব মন্ত্রী এনসি দেববর্মা, শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শান্তনা চাকমা৷ বলাবাহুল্য যে, এদিন মহারাজা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মণ এই পরিবারগুলিকে জমি প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন৷ ফলে রাজ্য সরকারের জন্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আরও সুবিধাজনক হবে৷

 

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.