Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
ভারতের প্রগতির সাক্ষী হবে নয়া দশক ঃ কোবিন্দ
Burue Report, 25/01/2020, New Delhi
 

একুশ শতকের তৃতীয় দশক হবে নতুন ভারত ও নতুন ভারতীয় প্রজন্মের উত্থানের দশক৷ প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখতে গিয়ে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ এদিন জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা দেশের জনগণ সংবিধানের আদর্শের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে সাধারণতন্ত্র যাত্রা শুরু করেছি। আর তখন থেকেই প্রতি বছর ২৬শে জানুয়ারি আমরা সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণকে নিয়েই রাষ্ট্র  তৈরি হয়। ‘আমরা জনগণ’-ই এই সাধারণতন্ত্রের সঞ্চালক। আমাদের ওপরই বর্তেছে দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রকৃত শক্তি। সংবিধান  স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের কিছু অধিকার দিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে  কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেছে৷ সরকারের জনকল্যাণকামী কিছু প্রকল্প সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’, সৌভাগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’র কথা তুলে ধরেছেন৷ তিনি বলেন, আয়ুষ্মান ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ জন-স্বাস্থ্য যোজনা হয়ে উঠেছে৷ ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ এর মতো ‘জল জীবন মিশন’ও জনআন্দোলনের রূপ পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন৷

রাষ্ট্রপতি জানান- জি-এস-টি চালু হওয়ার পর ‘এক দেশ, এক কর, এক বাজার’-- এই ধারণা ক্রমশ বাস্তবায়িত হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে, ই-নাম যোজনা-র মধ্যে দিয়েও ‘এক রাষ্ট্রের জন্য এক বাজার’ গঠনের প্রক্রিয়া শক্তিলাভ করছে৷ দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা-ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে, সরকার অনেক বাস্তব পদক্ষেপ  গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

তিনি বলেন, ভারতে, সবসময়ই, ক্ষমতা, খ্যাতি ও বিত্তের চেয়ে জ্ঞানকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়৷ তাই সরকারের এখন প্রচেষ্টা হল যাতে দেশের কোনো শিশু বা যুবা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। ইসরো-র কাজে গর্ববোধ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মিশন গগনায়ন-এ ইসরো আরো অগ্রগতি ঘটিয়েছে এবং  এ বছর দেশবাসী উৎসাহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে ‘ভারতীয় মানব অন্তরিক্ষ যান পরিকল্পনা’র আরো দৃঢ় গতিতে এগিয়ে যাওয়ার দিকে।

দেশের একতা, অখণ্ডতা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, অর্ধসৈনিক বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বাহিনীর  প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের আত্মোৎসর্গ, সাহস ও অনুশাসন এক অদ্বিতীয় বীরগাথা রচনা করেছে। আমাদের কৃষক, ডাক্তার ও নার্স, মূল্যবোধ ও বিদ্যা দানকারী শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ার, সতর্ক ও সক্রিয় যুবা, কলকারাখানার শ্রমিক বন্ধুরা, উদ্যোগী, শিল্পী, সেবাপ্রদানকারী ক্ষেত্রের পেশাজীবী সবাই আমাদের জাতির গৌরব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিঃশব্দে কাজ করেছেন এমন কয়েকজনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন যারা তাঁদের আদর্শ ও কর্মকুশলতা দিয়ে সমাজে অসাধারণ কাজ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একুশ শতকের তৃতীয় দশকে আমরা প্রবেশ করেছি। এই দশক হবে নতুন ভারত ও নতুন ভারতীয় প্রজন্মের উত্থানের দশক। এই শতকে জন্ম এমন তরুণরা আরো বেশি করে জাতীয় বিচার-প্রবাহে অংশগ্রহণ করছেন। এই যুবাদের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন ভারতের আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করছি।

গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী পক্ষ, উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করার পাশাপাশি, দেশের সামগ্রিক বিকাশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, দুই পক্ষেরই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন। তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান আমাদের দেশ ও আমরা সব ভারতবাসী বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যাতে আমাদের নিজেদের ও সমগ্র মানবতার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। একাত্তরতম সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশে ও বিদেশের প্রবাসী ভারতীয়দের আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি৷

 

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.