Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
রাজ্যে ৯৪৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে, মিলেনি পজিটিভ কাউকে, মনিপুরের মেয়ের সহযাত্রীরাও নিরাপদ, জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করলেন মুখ্যসচিব
By Our Correspondent, 25/03/2020, Agartala

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে সারা রাজ্যে প্রায় সাড়ে নয়শো মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে৷এরমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোয়েরাইন্টানে রাখা হয়েছে ৫০ জনকে৷ তবে এখন পর্যন্ত কাউকে পজিটিভ পাওয়া যায়নি৷ মহাকরণে এ নিয়ে আজ টাস্ক ফোর্সের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে মুখ্যসচিবের পৌরহিত্যে৷ সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে৷

স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব দেবাশিস বসু সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান- বিকেল চারটায় মুখ্যসচিব সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও সিএমওদের সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন৷ বৈঠকে লক ডাউন কার্ফ্যুর প্রথম দিনে যে সমস্ত দুর্বলতা কিংবা ঘাটতিগুলি উঠে এসেছে সেগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

স্বাস্থ্যসচিব শ্রী বসু জানিয়েছেন- অনেকগুলি বিষয় এদিন উঠে এসেছে৷ এরমধ্যে পুলিশ যেভাবে বিভিন্ন স্থানে বাড়াবাড়ি করেছে সেগুলি নিয়েও আলোচনা হয়েছে৷ সরকারি ভাবেই অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রির বিভিন্ন দোকান, হাসপাতাল, মিডিয়া হাউজ কিংবা গ্যাস এজেন্সি খোলা রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ কিন্তু পুলিশ এসবের বালাই না করে গড়ে পথচারি যাকে যেখানে পেয়েছে সেখানেই লাঠি পেটা করেছে৷ এমনকি বাদ যায়নি অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সাথে যুক্ত সরকারি কর্মচারীরাও৷এ ব্যপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন- বিষয়টা আমাদের নজরেও এসেছে৷ এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ প্রথম দিনে ত্রুটি দুর্বলতা যেগুলি ধরা পড়েছে সেগুলি কাটিয়ে তোলা হবে৷ লক্ষ্যণীয় ঘটনা হলো- সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও অনেকে রেহাই পায়নি পুলিশের হয়রানি থেকে৷ আগরতলা শহরে পুলিশের বাড়বাড়ন্ত দেখা গেলেও মহকুমায় বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অবশ্য ছিল ভিন্ন চিত্র৷ সেখানে অনেকেই একত্রিত হয়ে গল্প করেছেন৷ সোস্যাল ডিসটেন্স মানা হচ্ছে না রাজ্যের সর্বত্র৷ বিশেষ করে বাজার এবং দোকানগুলিতে৷

স্বাস্থ্যসচিব জানিয়েছেন- বিকেল ৪ট পর্যন্ত ৯৪৮ জনকে কোয়েরান্টাইনে রাখা হয়েছে৷ এদের মধ্যে ৫০ জন রয়েছেন সরকারি বিভিন্ন কোয়েরাইন্টান সেন্টারে৷ বাকিরা সকলেই হোম কোয়ারেন্টাইনে৷ তিনি জানিয়েছেন- এয়ার এশিয়ার বিমানে যে ১১ জন এসেছিলেন তাদের মধ্যে একজনকে আাগেই নেগেটিভ বলে জানানো হয়েছিল৷ এদিন ১০ জনের রিপোর্ট রাতের মধ্যে চলে এসেছে৷ তাদের রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে।  করোনা নিয়ে রাজ্যভিত্তিক একটি কন্টে্াল রুম খোলা হয়েছে৷ এছাড়া ১১২ এবং ১০২ নম্বরে ফোন করে যে কেউ এ সম্পর্কে জানাতে পারবেন৷

বাজারগুলিতে যাতে পণ্য সংকট দেখা না দেয় তারজন্য সব কয়টি বাজারে একজন করে নোডাল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যিনি বাজারে গিয়ে কোনো জিনিষ কিংবা ওষুধের সংকট রয়েছে কি না তার খোঁজ নেবেন এবং না থাকলে তা দপ্তরকে জানাবেন৷ এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ বাজার সাধারণ নিয়মেই খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছুনো সম্ভব হয়নি বলে মেনে নিয়ে স্বাস্থ্যসচিব জানিয়েছেন, আগামীকাল কলকাতা থেকে হেলিকপ্টার করে প্রায় সাড়ে তিনশো কিলোগ্রাম মাস্ক সহ অন্যান্য সামগ্রি নিয়ে আসা হচ্ছে৷ এছাড়া গুয়াহাটি ত্রিপুরা ভবনকেও বলা হয়েছে সেখান থেকে কিছু ব্যবস্থা করতে৷ রাজ্য সরকার প্রায় পাঁচ লক্ষ পরিবারকে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রি প্রদানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.