Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দিলো সুপ্রিম কোর্ট
By Our Correspondent, 09/04/2017, Agartala

তাত্পর্যন্তপূর্ণ ১০,৩২৩ শিক্ষক মামলায় সর্বোচ্চ আদালতেও উচট খেল ত্রিপুরা সরকার। এই মামলায় হাই কোর্টের রায়-ই বহাল রাখলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০১৪ সালের ৭মে'র এমনই এক বুধবারে ত্রিপুরার  ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের জীবনে নেমে এসেছিলো ঘোর আঁধার। উচ্চ আদালত এক রায়ে সব কয়জনের নিয়োগ অবৈধ বলে বাতিল করে দিয়েছিলো। রাজ্জ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করায় মাঝের  কয়েকটা দিন একটু স্বস্তিতে কেটেছিল যদিও উদ্বেগ কিংবা উত্কন্ঠা ছিলই। অবশেষে সেই বুধবারই নতুন করে অনিশ্চয়তা নিয়ে এলো ১০,৩২৩জন শিক্ষকের জীবনে। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ত্রিপুরা হাই কোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে- আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর আর তাঁদের চাকরির থাকছে না। আর এই খবর রাজ্যে এসে পৌঁছতেই চাকরি প্রাপক শিক্ষকদের পরিবারে চলছে শোকের বন্যা। মোবাইল ফোন অফ করে রেখেছেন মন্ত্রী থেকে পার্টির সিঁকি নেতারা। গোটা ঘটনার জন্য সরকার তথা শাসক দলের গোয়ার্তুমিকেই দায়ি করছেন সকলে। 

২০০৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও অস্নাতক স্তরে এই ১০,৩২৩ জন শিক্ষককে নিয়োগ করেছিল ত্রিপুরা সরকার। নিয়োগের নির্ণায়ক ছিলো - মেধা , সিনিয়রিটি ও প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু কিছু বঞ্চিত বেকার সরকারের এই নিয়োগ নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে জানান - রাজ্জ্য সরকার এই নীতি মেনে নিয়োগ করছে না। ২০১০ সালে হাই কোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ এই মামলায় রাজ্য সরকারকে একটি নির্দেশ দিয়ে বলেছিলো - এই ইস্যুতে একটি কমিটি ঘটন করে নিয়োগের প্রক্রিয়া যথাযথ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে।  কিন্তু রাজ্জ্য সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাবার পর ২০১৪ সালের ৭ মার্চ প্রধান বিচারপতি দীপক গুপ্তার নেতৃত্বে ত্রিপুরা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেন। আদালত তখন রাজ্য সরকারকে দুই মাসের সময় দিয়ে সমস্থ নিয়োগ বাতিল বলে ঘোষণা দেয়। উচ্চ আদালত এখানেই থেমে থাকেনি।  শিক্ষক নিয়োগের জন্যে পদ্বতি কি হবে তাও বলে দিয়েছিলেন দীর্ঘ রায়ে। ওই রায়ের পর থেকেই নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষককদের পরিবারে নেমে আসে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তার ঘোর। বুধবারে তার যবনিকা ঘটলো। হাই কোর্টের  এই এক্তিয়ার নিয়ে তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন শাসক দল সিপিএম -র অনেক নেতা। কিন্তু এভাবে উচ্চ আদালতের রায়-ই বহাল থাকবে সর্বোচ্চ আদালতে তা কল্পনাও করেননি কেও।

 সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েল ও বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত এর ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল শুনানি। তা চলে ২৯ মার্চ দুপুর পর্যন্ত। শুনানি শেষে এ দিন মামলার রায় দিতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে - ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০,৩২৩ জন শিক্ষক চাকরি করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে সরকারকে নুতন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শিক্ষক নিয়োগের যে নিয়ম রয়েছে তা শিথিল করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করতে বলা হয়েছে।  বেকারদের পক্ষে এই মামলার সওয়াল করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট আইনজীবী সলমন খুরশিদ ও আইনজীবী ইমতিয়াজ উদ্দিন।

গত কয়েকদিন ধরেই এই মামলার রায় নিয়ে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন। বুধবারও তার ব্যতিক্রম ছিলোনা। রায়ের খবর এসে পৌঁছুতেই যেন সুখে মুহ্যমান হয়ে পারে গোটা রাজ্য। এর ফলে প্রায় এক লক্ষ লোকের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়লো বলে মনে করছেন অনেকে। দলীয় কাজে রাজ্যের'বাইরে অবস্থান করছেন মুখ্যমন্ত্রী।  ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রী তথা আইন মন্ত্রী তপন চক্রবর্তীও ফোন ধরছেন না। শাসক দল সিপিএম নেতারাও কেও ফোন ধরছেন না , আবার কেও প্রতিক্রিয়া দিতে চাইছেন না। বিরোধী বিজেপি , তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস অবশ্য এই ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারের একরোখা মনোভাবকেই দায়ী করছেন। বলাবাহুল্য যে , এই চাকরি মামলা ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি আগামী দিনে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে চলেছে। কেননা, হরিয়ানার পর একযোগে এতজন শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেবার ঘটনা আর কোথাও হয়নি.

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.