Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
ইস্টবেঙ্গল চনমনে, মোহনবাগানে সবাই গম্ভীর
By Our Correspondent, 09/04/2017, Kolkata

ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান৷ দেখুন, দেখুন, দেখুন….! টিকিট একশো, দুশো, পাঁচশো….! আর দেরি নয়৷ এ সুযোগ হারাবেন না!

চারপাশে বড় বড় বাড়ির কংক্রিটের জঙ্গল না থাকলে মনে হত, কোনও গ্রাম বাংলায় চলে এসেছি বুঝি! 'ইস্ট-মোহনের মহারণ'---এর সুর বদলে যেটাকে অনায়াসে করে দেওয়া যায়, 'স্বামীর রক্তে সিঁথির সিঁদুর…! আসুন, দেখুন, অশ্রী-সজল পালা৷ টিকিট….!'

এই পর্যন্ত পড়ে কী ভাবলেন? রবিবারের ইস্ট-মোহন নিয়ে উত্তাল শিলিগুড়ি?

তা হলে ধাক্কা খেতে হবে৷ খুব সোজা বাংলায় লিখলে যা দাঁড়ায়, ডার্বির দু'দিন আগে শহর শিলিগুড়ি এখনও সে ভাবে তাতেনি৷ অন্তত ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে যাওয়া প্রথম ডার্বির তুলনায় তো নয়ই৷ অথচ, এমন হওয়ার কথা ছিল না৷ কারণ, এই ডার্বিতেই আই লিগের ফয়সালা হয়ে যেতে পারে অনেকটাই৷ তা হলে সেই উত্তেজনা গেল কোথায়?

কোথায় পথ হারাল আবেগ, সেই আলোচনায় পরে আসা যাবে৷ আপাতত একটা কথা বলা যেতেই পারে, রবিবারের ডার্বি শুধু দুটো টিমের নয়, দুই বাঙালি ফুটবলারের জীবনের গল্পটাও বদলে দিতে পারে!

প্রথমজন অর্ণব মণ্ডল৷ যিনি এই প্রথম কোন ডার্বিতে কুড়ি জনের টিম থেকেই বাদ পড়ে গেলেন! শুক্রবার সকালে কলকাতায় প্র্যাক্টিসের আগেই কোচ ট্রেভর মর্গ্যান অর্ণবকে ডেকে বলে দেন, তাঁকে টিমে রাখা হচ্ছে না৷ তাঁর পারফরম্যান্স কোচের না পসন্দ৷ দেশকে সদ্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১০১-এ তুলে আনা টিমের অন্যতম সদস্য অর্ণবের নিশ্চয়ই এই ধাক্কা সামলাতে কষ্টই হচ্ছে৷ মুখে যদিও বললেন, 'টিম জিতুক, আমি সেটাই চাই৷'

মর্গ্যানকেও অর্ণবের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন শুনতে হল শিলিগুড়িতে এসে৷ যা শুনেই সাহেব কোচের উত্তর, 'আপনারা শুধু অর্ণব নিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন কেন? রফিক, কেভিন লোবোর কথা তো বলছেন না? ওদেরও তো রাখিনি?' তারপরই জুড়ে দিলেন, 'সেরা টিমই এনেছি৷'

দ্বিতীয়জনের নাম মেহতাব হোসেন৷ তিনি টিমে আছেন৷ খেলবেনও৷ কিন্ত্ত তাঁর গল্প অন্য জায়গায়৷ আই লিগে শুরুর আগে বলে দিয়েছিলেন, এ বার না চ্যাম্পিয়ন হলে এটাই তাঁর শেষ আই লিগ৷ ইস্টবেঙ্গলে খেলবেন না৷ অন্য ক্লাবেও নয়৷

শিলিগুড়ি ডার্বির দু'দিন আগেও একই মেজাজে পাওয়া গেল মেহতাবকে৷ হোটেলে দাঁড়িয়ে বলে দিলেন, 'এ বার যদি চ্যাম্পিয়ন হতে না পারি, তা হলে এটাই আমার শেষ ডার্বি৷'

এই নিয়ে ৫৪ টি ডার্বি খেলবেন মেহতাব৷ দুই টিমেই তাঁর চেয়ে অভিজ্ঞ কেউ নেই৷ সেই অভিজ্ঞতা থেকে মেহতাব বলে দিলেন, 'দায়বদ্ধতাই আসল৷ আমি ইয়াকুবু-ব্যারেটো-ভাইচুংকে দেখেছি৷ বড় ম্যাচে অসম্ভব দায়বদ্ধ৷ যে টিমে এই জিনিসটা বেশি থাকবে, তারাই জিতবে৷'

ইস্টবেঙ্গল কলকাতায় ক্লোজড ডোরে থাকলেও শিলিগুড়িতে অনেক প্রাণখোলা৷ কোচ মর্গ্যান মন খুলে কথা বললেন৷ ফুটবলারদেরও কথা বলতে বাধা নেই৷ মোহনবাগানে সেখানে উল্টো ছবি৷ গম্ভীর মুখে হোটেলে এলেন সবাই৷ কোচ সঞ্জয় সেন তো আরও গম্ভীর৷ এসেই সব ঘরের দরজা বন্ধ৷ এত চাপ কেন? কে জানে?

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.