Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
দেড় শতাধিক গ্রেনেডের বিস্ফোরণে কৈলাশহরে চৌচির ৭টি বাড়ির দেয়াল
দেবাশিস দত্ত, 19/05/2017, Kailasahar

 


 দেড় শতাধিক গ্রেনেড এক যোগে বিস্ফোরণ করানোর জের। বিকট শব্দে ফেটে গেছে কৈলাশহরের গৌরনগর এলাকার সাতটি বাড়ির দেয়াল। গ্রামবাসীদের তরফে নিষেধ করা সত্ত্বেও এই গ্রেনেডগুলি ফাটানো হয়েছে জানাবাসতিপূর্ণ এই এলাকায়। যার জেরে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামের লোকজন।

গত ৭ মে  কৈলাশহরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কাছে মাটি কাটার সময়ে  পাওয়া গিয়েছিলো এই গ্রেনেডগুলি।  প্রথম পর্যায়ে সেখান  থেকে মোট ১২৭টি গ্রেনেড উদ্ধার হয়। পরবর্তী সময়ে আরো ২৪টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্বারকৃত গ্রেনেডের সংখ্যা ছিল ১৫১টি। বোমা বিশেষজ্ঞরা এসেও কিছু না করেই চলে যান। এরপর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার অকুস্থলে আসে সেনা বাহিনীর একদল বোমা বিশেষজ্ঞ।

 গ্রেনেড গুলি তাজা ছিল, নাকি নিষ্ক্রিয়, তা জানতে উদগ্রীব ছিলেন এলাকার লোকজন। কারণ রাস্তার পাশে এভাবে দীর্ঘদিন পরে থাকায় ঘরের ছেলে মেয়েদের বাজারে কিংবা স্কুলে এমনকি খেলাধুলা করতে পর্যন্ত করতে দিতে পারছিলেন না অভিবাবকরা । এলাকাবাসীদের মনে হয়েছিল এখনো তাজা রয়েছে গ্রেনেড গুলি। কিন্তু পুলিশের একাংশ গ্রামের মানুষদের আস্বস্থ করছিলেন যে-গ্রেনেডগুলি নিষ্ক্রিয়। বলাবাহুল্য যে, এতো দিন ধরে যে আশঙ্কাটি এলাকাবাসীদের তারা করে বেড়াচ্ছিল শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই  সত্যি হলো।

শুক্রবার  সেনা জওয়ানরা গ্রামেই কিছুটা দূরত্ত রেখে পাঁচ ফুট করে মাটির নিচে দুটি গর্ত করেন। এরপর এই গর্তে আরো অনেক কিছু চাপা দেয়ার পর টাইমার সহ মাটি চাপা দেয়া হয়। এরপর পাঁচশো মিটার দূরে থেকে সেনা জওয়ানরা পরপর দুটি গর্তে বিস্ফোরণ ঘটান। এতো কিছু দিয়ে চাপা দেবার পরেও এলাকায় প্রচন্ড শব্দ এবং কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল , যা দুই কিলোমিটার দূরে থেকেও সুনা গেছে।

 এদিন সকাল থেকেই মাইকিং করা হচ্ছিলো যাতে কেউ সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাড়িতে না থাকেন। ফলে গোটা এলাকার মানুষ চলে গিয়েছিলেন অন্যত্র। এরফলে সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বাড়ি ফিরে অনেকে দেখেন বাড়িঘর আগের মত নেই।  পরেশ মালাকার, চিন্ময় নাথ কিংবা নিরু শব্দকরদের কারুর ইটের দেয়াল আবার কারুর মাটির দেয়ালে ফাটল ধরে গেছে।

এলাকাবাসী তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আর এই ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে তখন সেখান থেকে তড়িঘড়ি কেটে পড়েন স্থানীয় পুলিশের আধিকারিকরা। এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব দেবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তার বক্তব্য -বাড়িগুলি অনেক পুরুনো। তাই এই ফাটল আগেরই ছিল। প্রায় একই বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার অজিত প্রতাপ সিং। এলাকাবাসীদের বক্তব্য ছিল-গ্রেনেড গুলি অন্যত্র নিয়ে নিষ্ক্রিয় কিংবা ফাটানো হোক। কিন্তু তাদের কথা আমল না দিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফাটানো হয়েছে। যার পরিণতি দেখা গেলো এদিন।

 উল্লেক্ষ , গ্রেনেডগুলির উপর ১৯৬৮ এবং ১৯৭১ লেখা রয়েছে। ফলে মনে করা হচ্ছে  এগুলি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য আনা হয়েছিল।  এই স্থানে আরো অনেক অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ মজুত থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।মাটি খুঁড়ে তা বের করতে বলা হলেও প্রশাসন শুনছে না বলে অভিযোগ।

 

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.