Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
আদালত অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় বন্ধ হয়ে পড়েছে গ্রামোন্নয়নের কাজ
By Our Correspondent, 08/05/2017, Agartala

অর্থ দপ্তরের নিয়ম অমান্য করে কোনো টেন্ডার না করে কাজ করে যাচ্ছে গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের হলে সরকারকে বলা হয়েছিল নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যাতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার করে গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। যথারীতি সব চলছিল আগের মতো করেই। অগত্যা বিষয়টি আদালতের গোচরে আসতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, গ্রামোন্নয়ন সচিব ও জেলাশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে উচ্চ আদালত। আর এই মামলার জেরে গ্ৰামোন্নয়নের কাজ বন্ধ করে রেখেছে দপ্তর। যা নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধী কংগ্রেস দলের বিধায়ক রতন লাল নাথ।

মঙ্গলবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আহুত সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রী নাথ অভিযোগ করেন - গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে। অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা পর্যন্ত শুনছেন না দপ্তরের কর্তারা। এই গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধীনে কোটি কোটি টাকার কাজ হয়, কিন্তু কোনো একটি কাজেরও দরপত্র আহ্বান করা হয় না। দপ্তর নিজেরাই করে নেয়। এতে করে আধিকারিকদের মাধ্যমে দুর্নীতির রাস্তা সুগম করে দেয়া হয়েছে।

শ্রী নাথ বলেন -অর্থ দপ্তর থেকে গত ১৯-০৫-২০১৬ তারিখে স্পষ্ট সার্কুলার দিয়ে বলা হয়েছিল- সরকারি যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে কতগুলি নির্দেশিকা মেনে চলতে।  এগুলি হলো জেনারেল ফিনান্সিয়াল রুলস (জিএফআর), ডেলিগেশন অফ ফিনান্সিয়াল পাওয়ার রুলস অফ ত্রিপুরা (ডিএফপিআরটি), সিপিডব্লিউডি রুলস এবং ওয়ার্ক ম্যানুয়াল। পূর্ত দপ্তর এই নিয়ম মেনে কাজ করলেও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সেই নির্দেশিকা মানেনি। তখন ০১-০৩-২০১৭ তারিখে জনৈক সন্তোষ দে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে একটি মামলা করেন। আদালত তখন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যাতে নিয়ম মেনে কাজ করানো হয়। ওই নির্দেশকেও কলাপাতা ভেবে দপ্তর নিজেদের নিয়ম মেনেই কাজ করে চলছিল।

ঘটনাটি আদালতের গোচরে এলে হাইকোর্ট এই মামলায় মুখ্যসচিব, গ্রামোন্নয়ন সচিব ও জেলাশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে। এই অভিযোগের শুনানি এখনো হয়নি। এরই মধ্যে জেলা শাসক গত ৩১-০৩-২০১৭ তারিখে একটি চিঠি দিয়ে বিডিওদের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরফলে ১ এপ্রিল থেকে ত্রিপুরার কোনো গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না।  কেবলমাত্র মনরেগার শ্রমদিবসের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শ্রী নাথের বক্তব্য -আদালত কখনো বলেনি কাজ বন্ধ করে দিতে। শুধু নির্দেশ দিয়েছে নিয়ম মেনে কাজ করতে। কিন্তু আদালতের উপর দায় চাপিয়ে দপ্তর কাজই বন্ধ করে দিয়েছে। এরফলে দেড় মাস ধরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না গ্রামে। এরজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করে তিনি বলেন- উন্নয়ন কাজ থেমে আছে অথচ তিনি ব্যস্ত মিটিং নিয়ে। আর সিপিএম দল ব্যস্ত কোথায় কে কি বলে গেলো, কে কোথায় গেলো তা নিয়ে।

এই পরিস্থিতিতে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে বাঁচতে সরকার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংবিধানের ৩০৯ ধারায় একটি রুলস প্রনয়ণ করেছে। রুলস'টি হলো  -জেনারেল ফিনান্সিয়াল রুলস (জিএফআর) রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরের ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর ও পঞ্চায়েত দপ্তরের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বিধায়কের মতে -ওই রুলস আনতে চাইলে সরকারের উচিত বিল আনা। তা না করে যেমন নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে, তদুপরি একই রাজ্যে একেক দপ্তরের জন্য একেক রকম নিয়মের ঘটনা ভারতের আর কোনো রাজ্যে নেই। গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য সরকার এই অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শ্রী নাথ।

ত্রিপুরার গ্রামে যখন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে তখন দপ্তরের সচিব জিএসজি আয়েঙ্গারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একটি সরকারি আদেশের কপি দেখিয়ে তিনি বলেন- সচিব গত ২৫ এপ্রিল একটি চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের সমস্ত দপ্তরকে এই মর্মে ১৫ মে'র মধ্যে জানাতে আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত তাঁদের কি কি সামগ্রী লাগবে তা কিনে নিতে। বিধায়ক শ্রী নাথ বলেন- এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। এই সরকারের মেয়াদ রয়েছে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে নতুন সরকার এসে ঠিক করবে কার কি দরকার। তার চেয়েও বড় কথা হলো - একটা অর্থ বর্ষের মেয়াদ থাকে মার্চ পর্যন্ত। গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব কি করে নির্দেশ দেন পরবর্তী অর্থ বছরের জন্য কি লাগবে তা আগাম কিনে নিতে ? বিধায়কের বক্তব্য -সরকার আগে থেকেই বুজতে পারছে -পরবর্তী নির্বাচনে আর ক্ষমতায় আসবে না। এ কারণে যতটা সম্ভব দুর্নীতি করে পার্টি ফান্ড স্ফীত করে নিতে যাতে নির্বাচনে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় আসা যায়।

 

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.