Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
তিন বছরে সাফল্যের নতুন নতুন চূড়ায় ভূ-বিজ্ঞান
রত্নদীপ ব্যানার্জি, 13/07/2017, Mumbai

আমাদের পৃথিবী কেমন। পৃথিবীতে কি আছে। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কি হতে যাচ্ছে এবং পৃথিবীর উপাদানগুলির সঙ্গে মানুষের কিভাবে কাজ করা সঙ্গত। মানবসভ্যতার উচ্চাভিলাষের ফলে জননী বসুন্ধরা প্রচন্ড তোলপাড়ের মধ্য দিয়ে চলছে। সর্বোপরি, জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্ভাবনা ঘনিয়ে আছে আমাদের মনে। খামখেয়ালিপনার সুলুকসন্ধান আর এক দুরন্ত চ্যালেঞ্জ। মানবজাতির এসব গুরুতর ইস্যু ঠাহর করতে রত সরকারের ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক দেশ-বিদেশের বিজ্ঞান গবেষণার অনুসরণ করে চলেছে। বিগত তিন বছরে এর যথেষ্ট সুফলও মিলেছে বইকি!

হিমাচল প্রদেশের স্পিতিতে চার হাজার মিটার উচ্চতায় গড়ে তোলা হয়েছে এক গবেষণা কেন্দ্র। হিমাংশ নামের এই কেন্দ্র থেকে হিমালয়ের হিমবাহে নজর রাখা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হিমাংশ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ এক টুকরো বরফ। হাইড্রলজিক্যাল ব্যালান্স নিয়ে চর্চার জন্য চন্দ্র নদীর ১৩০ কিলোমিটার-ব্যাপী এলাকার পাঁচ পাঁচটি স্থানে বসানো হয়েছে জলস্তর মাপার যন্ত্র (রেকর্ডার)। টেরেসট্রিয়াল লেজার স্ক্যানার ও চালকবিহীন আকাশপোত (এরিয়াল ভেহিকল) ব্যবহার করে, হিমবাহের চলন (মোশন) ও বরফ আস্তরণের রদবদল পর্যবেক্ষণ ও ডিজিটালাইজড্‌ করা যায়।

এছাড়া, পরিবর্তনশীল জলবায়ু ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানগম্যির বহর বাড়াতে, ছ’টি হিমবাহে ফিট করা হয়েছে ১৫০টি এবলেশন স্টেক, হিমবাহের ম্যাস ব্যালান্স জানাই এর উদ্দেশ্য। ভেতরে সেঁধিয়ে যাওয়া (গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং) র‍্যাডার মাপছে আনুমানিক ভর আয়তন (ম্যাস ভলিয়ুম)। এ থেকে ম্যাস ব্যালান্স জানা যায়। হিমাংশে আছে স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র, স্টিম ড্রিল, ডিফারেনশল জিপিএস, ফ্লো ট্র্যাকার এবং আরও কিছু অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক সাজসরঞ্জাম।

সুমেরুতে জলের ১৮০ কিলোমিটার গভীরে গড়ে তোলা হয়েছে ভারতের প্রথম নোঙর বাঁধা গবেষণাগার। এর ফলে, শীতকালে ভূতল জমে থাকার সময় ভূতল লাগোয়া প্যারামিটার (সাব-সারফেস প্যারামিটারস্‌)-এর তথ্য যোগাড় করা যায়। দীর্ঘকালের সংগৃহীত তথ্য জলবায়ু বদলজনিত প্রক্রিয়াগুলির হেরফের এবং ভারতীয় উপ-মহাদেশে বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়াও বুঝতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীদের তো বটেই, সাধারণ মানুষেরও বহু পুরনো ইচ্ছে হচ্ছে পৃথিবীর ভিতরটা এক ঝলক দেখা। গত বছর, ভারতের বোরহোল জিওফিজিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির বোরহোল বা কূপটি এখন ২,৬৬২ মিটার পর্যন্ত গভীর হয়েছে। এর ফলে, বাঁধ বা জলাধারের ইন্ধনে ঘটা ভূকম্প নিয়ে চর্চার মাধ্যমে প্রেডিকটিভ বা আগাম মডেল তৈরি করা যাবে।

এই প্রথম, ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল ওশান ড্রিলিং প্রোগ্রামের অঙ্গ হিসাবে আরব সাগরে গভীর সমুদ্র ড্রিলিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়। পাহাড়-পর্বত গঠন, রোদ, জল হাওয়া লেগে বিকৃতি, ক্ষয় এবং জলবায়ুর পরস্পরযুক্ত বিবর্তনের নথি তৈরি করা ছিল এর উদ্দেশ্য। ভারত ও সেশেলসের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বিবর্তন এবং আগ্নেয়গিরির লাভাজনিত কারণে দাক্ষিণাত্য মালভূমির উঁচু হয়ে ওঠার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নথি বানায় এই কর্মসূচি।

মেরু গবেষণায় তার বৈজ্ঞানিক অবদান ও প্রচেষ্টার স্বীকৃতিরূপে সুমেরু পরিষদে ভারত পেয়েছে পর্যবেক্ষণের মর্যাদা। ভারতের ৩৫ ও ৩৬তম অ্যান্টার্কটিকা বা কুমেরু অভিযাত্রী দলের সদস্য ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অভিযানের প্রকল্পগুলি ছিল – বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর, জ্যোতিঃ পদার্থবিদ্যা, ভূ-পদার্থবিদ্যা, আবহবিদ্যা, হিমবাহবিদ্যা, ভূ-বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, শরীরবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান। গত বছর জোর দেওয়া হয় জলবায়ু রদবদল ও হিমবাহ বিদ্যায়। ভারতের তৃতীয় স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র ভারতী হিমবাহ, বায়ুমণ্ডল, প্রত্ন-প্রস্তরযুগীয় জলবায়ু ও মেরু প্রাণী নিয়ে চর্চার কাজ শুরু করে দিয়েছে।

২০১৫ সালে কুমেরু’তে ১০০ মিটার গভীরে দূর থেকে চালিত মেরু যান চালুর কাজ সফল হয়। মরু অঞ্চলে এবং জলের ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধানে সাহায্য করে এই যান। ২০১৬-তে আন্দামানের প্রবাল দ্বীপে এই যান নামানো হয়। উত্তাল সমুদ্রে চমৎকারভাবে কাজ করে জলের তলায় প্রবাল প্রাচীর জীব বৈচিত্র্যের উচ্চমানের ছবি তোলে।ভারত হয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা – ওশান এনার্জি সিস্টেম্‌স-এর সদস্য। এর সুবাদে গোটা বিশ্বে উঁচুমানের গবেষণা-বিকাশ ও প্রযুক্তি সুযোগ খুলে যাবে ভারতের সামনে। ভারত মহাসাগরে পলিমেটালিক সালফাইডসের খোঁজ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটির সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারতের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রক।মন্ত্রক সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড় ও বর্ষার পূর্বাভাস। শুধু চাষবাস নয়, এতে ঢের উপকার হচ্ছে জলসম্পদ, শক্তি উৎপাদন, পরিবহণ এবং নিশ্চিত রূপেই ভারতীয় অর্থনীতির।

দেশের মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এতকাল ভরসা করে আসছে তাঁদের সহজাত বোধের ওপর। এটা কিন্তু মাছ ধরার পক্ষে খুব ভালো উপায় বলা চলে না। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস গড়ে রোজ ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার ধীবরকে সমুদ্র মাছের ঝাঁকের অবস্থান সম্পর্কে খবরাখবর দেয়। হরেক কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) মারফৎ পাওয়া তথ্য কেন্দ্রটি এ ব্যাপারে কাজে লাগায়। তাদের পাঠানো বার্তায় সমুদ্রে ভারতের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সীমানারও উল্লেখ থাকে। মৎস্যজীবীরা যাতে অজান্তে সেই সীমানা পেরিয়ে হ্যাপায় না পড়ে। জানানো হয়, সমুদ্রে ঢেউ ওঠাপড়ার আগাম বৃত্তান্তও।

ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের সঙ্গে একযোগে ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রক ৬০৮টি জেলায় ২ কোটি ১০ লক্ষ চাষিকে আঞ্চলিক ভাষায় আবহাওয়ার খবর দেয়।পুণের ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের জলবায়ু কেন্দ্রকে আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রের স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। কেন্দ্রটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে আঞ্চলিক জলবায়ু সংক্রান্ত পরিষেবা যোগানই এর উদ্দেশ্য। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ষষ্ঠ আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)-র আসন্ন জলবায়ু বদল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জন্য এক আর্থ সিস্টেম মডেল বানিয়েছেন পুণের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ মিটিয়রলজির বিজ্ঞানীরা। এটা হবে ভারত থেকে আইপিসিসি-তে পাঠানো প্রথম মডেল।

বিজ্ঞান ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অর্থানুকূলে অর্জিত কৃতিত্ব মানুষের উপকারে লাগা দরকার। বিজ্ঞানের উচিৎসমাজের উন্নতি ও সকলের কাছে উপকার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা। কিছু কিছু গবেষণায় সময় লাগে ঢের কিন্তু সমাজে তাদের প্রভাব আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়। বৈজ্ঞানিক দক্ষতার দৌলতে ভারত বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা আরও উন্নত করতে রেখেছে প্রচুর

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.