Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
বপ্নাদেশপ্রাপ্ত ছড়ার জল খেয়ে পেটের রোগ সারতে দীর্ঘ লাইন চন্ডিপুরে
দেবাশীষ দত্ত, 28/07/2017, কৈলাসহর
 

বিশ্বাসে কৃষ্ণ মিলে, তর্কে বহুদূর৷ বাংলার এই প্রবাদই এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে কৈলাসহরবাসীদের কাছে৷ শুধু কৈলাসহরবাসীদের কথাই বা বলা কেন? পাশ্ববর্তী অসম, মণিপুর এমনকি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও হাজার টাকা খরচ করে ছুঁটে আসছেন অগণিত ভক্তকূল৷ টানা তিনদিন ছড়ার জল খেলে সেড়ে যাবে পেটের রোগ৷ তাই এক বোতল জলের জন্য দিনরাত এক করে ঠাঁয় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন৷ উদ্দে্শ্য একটাই- ছড়ার জল সংগ্রহ করা৷ সম্ভব হলে পাড়ে দাঁড়িয়েই কয়েক ডুক গলায় ঢেলে এরপর সেই ফাঁকা বোতল আবার পূর্ণ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার তাগিদ৷ এই সময়ের মধ্যেই নাকি কেউ কেউ পেটের রোগ সাড়িয়েও তুলছেন!

ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে টানা লাইনে দাঁড়ানো৷ এরপরও কোনো ক্লান্তি নেই কারোর চোখে মুখে৷ হাতে বোতল, মনে প্রগাড় বিশ্বাস৷ গত প্রায় দুইমাস ধরে টানা ঊনকোটি জেলার চন্ডীপুর ব্লকের মণিপুরী সম্প্রদায় অধ্যুষিত এক অখ্যাত গ্রাম জারুইলতলী এখন ধর্মপ্রাণ অন্ধ বিশ্বাস শত সহস্র মানুষের বদান্যতায় রাতারাতি সংবাদের শিরোনামে৷

আজ থেকে দুইমাস আগে গ্রামের বাসিন্দা নিব্রত সিনহা্ স্বপ্নে দেখেন- মাটির নীচ থেকে উঠা ছড়ার জল পান করলে রোগমুক্তি ঘটবে৷ এই স্বপ্নের কথা প্রথমে পরিবারের লোকজন ও পড়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে জানাজানি হতেই রোগমুক্তির অভিলাষে যে যা হাতের কাছে পা্চ্ছেন তা নিয়েই ছুট দিচ্ছেন ছড়ার জল সংগ্রহ করতে৷ আর এভাবে তা গ্রাম থেকে গ্রামান্তর হয়ে শহর এমনকি পাশ্ববর্তী মণিপুর আসামেও ছড়িয়ে পড়ে৷

ক্রমে ক্রমে মানুষের ভিড় জমতে থাকে৷ অবশেষে ভিড় সামলাতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মাঠে নামে গ্রামের যুবকরা৷ দিন যত যাচ্ছে লাইন তত বড় হচ্ছে৷ কখনো কখনো কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে ভিড় সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে গ্রামের যুবকরাও৷ অনেকের বক্তব্য- ছড়ার জল খেয়ে অনেকেই সুস্থতা বোধ করছেন৷ এভাবে অবৈজ্ঞানিক অযৌক্তিক প্রবণতা বাড়তে চললেও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কারোর তা জানাই নেই৷ মহকুমা শাসক সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন- তিনি এই প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম এমন ঘটনার কথা শুনলেন৷ বিষটিক খোঁজ খবর নেবেন বলেই দায়িত্ব সেড়েছেন৷ দীর্ঘ দুইমাস ধরে দেখা মিলেনি কোনো বিজ্ঞানকর্মীরও৷ এমনকি পুলিশ প্রশাসনেরও কোনো অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷

বলাবাহুল্য যে, এই ছড়াটিতে কেবল ভোরেই একটা নির্দিষ্ট সময়ে মাটির নীচ থেকে জল উঠতে দেখা যায়৷ আর এই ঘটনাকেই অলৌকিক কিছু ভেবে সেখানে প্রতিদিন হাজারে হাজারে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন৷ ছড়ার কর্দমাক্ত জল পান করছেন বিশ্বাস ভরে৷ চিকিৎসকদের মতে, এই অপরিশোধিত জল থেকে মারাত্মক আন্রি্ক, ডায়েরিয়া হতে পারে৷ কিন্তু কে কার কথা শুনে? প্রশাসন এক্ষুনি হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে উঠতে বাধ্য৷

 

 

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.