Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে কি পৃথিবী, এবারই কি অন্ত হবে এই গ্রহের! যা নিয়ে চিন্তিত নাসাও।
Burue Report, 30/08/2017, Washington

পৃথিবীর আয়ু কি শেষ হতে চলেছে? এ নিয়ে অবশ্য  কৌতূলের অন্ত নেই । পৃথিবী ধ্বংসের বহু অনুমান হয়েছে এর আগে. কখনও নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যৎবাণী।  কখনও বিশালাকার গ্রহাণুর ধাক্কা। কখনও আবার ভিনগ্রহীদের আক্রমণ। বলিউডি কিংবা হলিউডি সিনেমায়ও  পৃথিবী ধ্বংসের এমন নানা ছবি রয়েছে। তবে এবার সত্যি সত্যিই বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের মতে, আন্টার্কটিকার এমন একাধিক সুপার -ভলক্যানো জাগার অপেক্ষায়।

আমেরিকার ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের নীচে ফুটছে সুপার ভলক্যানো। বিজ্ঞানীদের মতে,  যে কোনও সময়ে জেগে উঠতে পারে ভয়াবহ এই আগ্নেয়গিরি।  বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস, অ্যাসিড রেন, উড়ন্ত গরম ছাইয়ে অর্ধেক পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।  সুপার ভলক্যানো নিয়ে চিন্তার শেষ নেই নাসারও।

নাসার নজরে রয়েছে আমেরিকার ওয়োমিংয়ে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক।  সারা বছর লক্ষাধিক পর্যটকের ভিড়ে সড়গরম থাকে এই জায়গা।  আকর্ষণের কেন্দ্রে গরম জল ও বাষ্পের প্রাকৃতিক ঝরনা আর  নজরকাড়া বন্য প্রাণের বৈচিত্র্য।  সেই প্রাচীন যুগ থেকে এই এলাকায় মাটির নীচ ফুঁড়ে বেরোচ্ছে গরম জল ও বাষ্প।

প্রাকৃতিক এই ঘটনার পিছনেই এখন চরম বিপদ দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এই বাষ্প  আর গরম জলের কার মাটির নীচেই গলিত লাভার বিশাল ভাণ্ডার। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক আসলে সুপার ভলক্যানোর মুখ।  একবার ফাটলে যা বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করাবে গোটা  পৃথিবীকে। কেমন সে বিপদ?  বিজ্ঞানীদের দাবি, সাধারণ আগ্নেয়গিরির থেকে এর শক্তি কয়েকশো গুণ বেশি। তাই ক্ষয়ক্ষতিও হবে অকল্পনীয়।

 কি হতে পারে এই সুপার ভলক্যানোর প্রভাব ?

সুপার ভলক্যানোর অগ্ন্যুৎপাতে পৃথিবীর অর্ধেকাংশে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। ২৪০ মাইল বৃত্তে ছড়াতে পারে এর প্রভাব। বিশাল পরিমাণ সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে। তৈরি হবে মাশরুম ক্লাউড , যা পৃথিবীর একটা বড় অংশ ঢেকে ফেলবে। অ্যাসিড রেনে নষ্ট হবে ফসল। সূর্যালোক পরিমণ্ডলে ঢুকতে বাধা পেলে গ্লোবাল কুলিং এফেক্টের সম্ভাবনা। অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে উড়ন্ত গরম ছাই।

জুন ১২ থেকে জুন ১৯-এর মধ্যে ৪৬৪ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইয়েলোস্টোনের মাটি। গত পাঁচ বছরে যা সর্বাধিক বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিপদ বাড়ছে। জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। চিন্তিতি নাসার বিজ্ঞানীরাও। সুপার ভলক্যানোর মুখে ড্রিল করে হাই প্রেসার ওয়াটার জেট দিয়ে ভিতরটা ঠাণ্ডা করার কাজ শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে ম্যাগমা ঠাণ্ডা হলে কিছুটা বিপদ এড়ানো যাবে বলে মনে করছে নাসা।

ইয়েলোস্টোনে বিপদ

ড্রিল করলে ম্যাগমা চেম্বারের ক্যাপে ফাটল ধরতে পারে। এর ফলে আরো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হতে পারে। একাধিক মুখ তৈরি হলে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বাড়বে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এক লক্ষ বছরে একবার পূথিবার কোথাও না কোথাও জেগে ওঠে সুপার ভলক্যানো। ২৭ হাজার বছর আগে শেষবার এটা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের টউপো দ্বীপে। ছ’লক্ষ বছর আগে ইয়েলোস্টোনেও অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল এই সুপার ভলক্যানোতেই। এবার ফের জেগে ওঠার ইঙ্গিতে তাই বাড়ছে আতঙ্ক। আশঙ্কা বাড়িয়ে ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন আন্টার্কটিকার এমন একাধিক সুপার -ভলক্যানো জাগার অপেক্ষায়। যা থেকে এখন প্রমাদ গুনছেন বিজ্ঞানীরা।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.