Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
মাত্রাতিরিক্ত
অরিন্দম নাথ , 31/08/2017, Agartala

কিছুদিন হল বিনোদ খান্না মারা গিয়েছেন ৷ আজকাল প্রায়ই তাঁর সিনেমা টিভিতে নজরে আসে ৷ আগেও হয়তো আসত, কিন্তু তখন এইভাবে চিন্তা করতাম না ৷ তবে তখন আরেকটি ভাবনা মনে আসত, ‘মাত্রাতিরিক্ত’ স্যারের সাথে তাঁর চেহারার কতটুকু মিল ৷ স্যারের ভাল নাম সুহাস ভট্টাচার্য ৷ পুলিশের এস পি ছিলেন ৷ কয়েক বছর হল গত হয়েছেন ৷ তাঁর স্ত্রী আগেই মারা গিয়েছিলেন ৷ নিঃসন্তান দম্পতি ৷ পুলিশে যোগ দিয়ে প্রথমে তাঁকে অতিরিক্ত এস পি হিসাবে পেয়েছি ৷ ছ`ফুটের উপর লম্বা ৷ আমি বিনোদ খান্নার সাথে তাঁর সাদৃশ্য খুঁজে পেতাম ৷ উচ্চতার কারণেই হয়তো একটু ঢেঙ্গা হয়ে হাঁটতেন ৷ আমাকে খুব স্নেহ করতেন ৷ আমার এক কাকুর সহপাঠী ৷ প্রফেসর কাকু এখনও জীবিত ৷ অবসর জীবন কাটাচ্ছেন ৷

স্যার যৌবনে খুব ভাল ফুটবল খেলতেন ৷ সেন্টার ফরোয়ার্ড ৷ অসঙ্গতি বলতে একটু তোতলামো ৷ পুলিশের চাকুরীতে যোগ দেন সাব-ইন্সপেক্টর হিসাবে ৷ প্রথম থেকেই কড়া ধাতের অফিসার হিসাবে সুনাম অর্জন করেছিলেন ৷ তবে মদও খেতেন অতিরিক্ত ৷ আড়ালে আবডালে সবাই ডাকত ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বলে ৷ স্যারের আরেকটি বিষয় ছিল নজর কাড়ার মত ৷ মুক্তোর মত হাতের লেখা ৷ দাঁড়ি, কমা, যতি, মাত্রা দিয়ে লিখতেন ৷ তাঁর হস্তাক্ষর এখনও হয়তো থানার ভিলেজ ক্রাইম নোট বুক বা ভি সি এন বি-তে মিলবে ৷

গত পরশু ‘মাত্রাতিরিক্ত’-কে নিয়ে এক নতুন মাত্রা সংযোজিত হল ৷ বলা যায়, ‘মাত্রাতিরিক্ত’-এর নূতন ব্যুৎপত্তি ৷ সজল পুলিশের ইন্সপেক্টর ৷ খুবই চৌকস ছেলে ৷ আমি খুবই ভালোবাসি ৷ দেখা হলেই নতুন কিছু একটা শোনাবে ৷ একটি থানার দায়িত্ব নিয়ে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল ৷ ‘মাত্রাতিরিক্ত’ স্যারের উত্তরসূরি ৷ সুতরাং স্যারের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হল ৷ সে এক অদ্ভুত গল্প শোনাল ৷ সুহাস স্যার যৌবনে একটি মেয়েকে ভীষণভাবে ভালোবাসতেন ৷ তখন আজকের মত ফেইসবুক, ইন্টারনেট, মোবাইল ছিল না ৷ ভালোবাসা বিনিময় হত পত্রের মাধ্যমে ৷ সাব-ইন্সপেক্টর ট্রেনিং করতে তখন ত্রিপুরা থেকে যেতে হত পশ্চিম বঙ্গের ব্যারাকপুরে ৷ কথা ছিল প্রশিক্ষণের শেষে তাঁরা বিয়ে করবেন ৷

ব্যারাকপুরে পৌঁছেই, সুহাস স্যার মেয়েটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা জানান দিতে লিখলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে থাকব, তত দিন তোমায় ভালবাসব ৷’

কিন্তু এই চিঠির প্রতিক্রিয়া হল ভিন্নরূপ ৷ প্রেমিকা তাঁর চিঠির কোন উত্তর দিল না ৷ তারপর সুহাস স্যার চিঠির পর চিঠি পাঠাতে থাকলেন ৷ কিন্তু উত্তর আসে না ৷ একদিন শুনলেন মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে ৷ বর শিলং-এ চাকুরী করে ৷ এ জি-তে ৷ ভগ্নহৃদয়ে ভবিতব্যকে মেনে নিলেন ৷ শুধু কাজের মধ্যে কিছু মাত্রাতিরিক্ত করে দেখানোর প্রয়াস ৷

অনেক বসন্ত পেরিয়ে গেছে ৷ সুহাস স্যার তখন বিবাহিত ৷ সরকারী একটি কাজে তিনি গিয়েছেন গৌহাটিতে ৷ হঠাৎ তাঁর প্রেমিকার সাথে দেখা ৷ একটি শপিং মলে ৷ মেয়েটির চাহনিতে যেন আগের মতই টান ৷ দু`জনে কথা হল ৷ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে কেন? কেনইবা আমার চিঠির উত্তর দাওনি?’

- আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি ? আমার এখনো মনে আছে তুমি লিখেছিলে ‘আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ৩৩ দিন তোমায় ভালোবাসব ৷’ ৩৩ দিনের ভালোবাসার আশ্বাসে নিশ্চয় ঘর বাঁধা যায় না !

- কি? আমি হয়তো ‘ত’-এর উপর মাত্রা দিতে ভুলে গিয়েছিলাম ৷

সেই থেকে সুহাস স্যার, মাত্রাতিরিক্ত ৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.