Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
১০,৩২৩ শোকাচ্ছন্ন গোটা ত্রিপুরা, বাতিল শিক্ষকের পাশেই আছি : শিক্ষামন্ত্রী
By Our Correspondent, 02/04/2017, agartala

দেবাশিস মজুমদার    আগরতলা

 

এক আদালতের রায়ে শোকে পাথর হয়ে গেছে গোটা রাজ্য কি শহর আর কি গ্রাম সর্বত্র প্রাথমিক ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছেন না কেওই  যেন বৃহস্পতিবারের দিনটি গোটা ত্রিপুরায়  জাতীয় শোকের দিন হিসাবে পালিত হচ্ছে "চ্যালেঞ্জ"টায় জয়ী হয়েও সেই খুশি প্রকাশ করতে পারছেননা বঞ্চিত বেকাররাও এই একটা দিনের জন্যে যাঁদের দীর্ঘ দশটির বেশি বছর সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে  কেননা এই রায়-  হয়তো নিয়ে এসেছে তাঁদের নিকট কোনো আত্মীয় কিংবা অতি পরিচিতের জীবনে অমানিশার অন্ধকার

 

চাকরি ইস্যুতে মৌনতা ভেঙেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তী তিনি  জা নিয়েছেন- ১০,৩২৩ জনের চাকরি বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা করেছে সরকার কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু করা গেল না. তবু চাকরিচ্যুতদের আস্বস্থ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন - সরকার তাঁদের পাশে আছে. ১০,৩২৩ জনকে নিয়ে কি করা'যায় তা নিয়ে সরকার ভাববে কিন্তু সেটা কি ভাবে সম্ভব তা নিয়েই যত প্রশ্ন কেননা, এই সময়ের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক - বয়সোত্তীর্ণ হয়ে যাবেন সর্বোপরি, আদালতের রায় মতে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন তাঁরা আর মার্চ মাসের মধ্যেই ত্রিপুরা বিধানসভার ভোট. এই অবস্থায় নতুন করে সরকারে এলে তবেই যে সম্ভব তা বলাই বাহুল্য

 

এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরার আগামী বিধানসভার ভোটের প্রধান ইসু যে হতে চলেছে ১০,৩২৩ জনের চাকুরীচ্যুতি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না. শিক্ষকদের চাকরি হাঁরানোর দায় বিরোধী নেতা সুদীপ রায় বর্মনের ঘাড়ে চাপাতে আগে থেকেই তত্পর রয়েছেন মেলারমাঠের নেতারা কেননা এই ইস্যুতে অনিয়ম এর অভিযোগ তুলে টেট পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে সরব হয়েছিলেন তত্কালীন কংগ্রেস পরিষদীয় নেতা তদুপরি বঞ্চিত বেকারদের হয়ে আদালতে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে মেলারমাঠের নেতারা মনে করছেন, সুদীপ রায় বর্মন বঞ্চিতদের সহযোগিতা না করলে জল এতদূর গড়াতো না.

 

যদিও বঞ্চিত বেকারদের মতে এই পরিস্থিতির জন্যে দায়ী শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তী নিজেই তাঁদের নেতা তন্ময় নাথের মতে, সেইদিন মন্ত্রী আমাদের 'চ্যালেঞ্জ' ছুঁড়ে না দিয়ে উচ্চ আদালতের রায় মেনে একটা কমিটি গঠন করে দিলেই আজ এই পরিস্থিতি হতো না. তা না করে তখন তিনি বঞ্চিত বেকারদের বলেছিলেন- পারলে হাইকোর্ট ,কিংবা সুপ্রিম কোর্টে যেতে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট- দুই আদালতেই জয় এসেছে বঞ্চিতদের অনুকূলে তা সত্ত্বেও খুশি হতে পারছেন না বেকাররা তন্ময় নাথের কথায়- আমরা এমনটা হোক কখনোই চাইনি যাঁরা এই রায়ে চাকরি হারিয়েছেন তাঁদের সাথে আমরাও সমব্যাথি

 

ইতিমধ্যে শাসক দল সিপিএম কিংবা রাজ্য সরকার প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে একাধিক বন্দোবস্থ করে রেখেছে এলাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ক্ষতে মলম লাগাতে লোক্যাল কমিটির নেতাদের মাধ্যমে চাকরিচ্যুতদের বোঝনোর চেষ্টা শুরু হবে. তবে এই ঘাঁ যে সহজে মিটছে না তা রাজনৈতিক দলগুলির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ঠ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব বলেছেন- 'শিক্ষামন্ত্রীকে এই রায়ের পর পদত্যাগ করা উচিত ত্রিপুরা সরকার কতটা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এই রায়ে তা প্রমাণিত হলো.' বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেস এই ঘটনার জন্যে একতরফাভাবে শাসক বামফ্রন্টকেই দায়ী করছে যদিও শাসকদল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর সরাসরি এই রায়ের পর আদালতের বিরুদ্ধেই বিষোদগার করেছেন তাঁর কথায়- ' ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরিচ্যুতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে এই রায় অত্যন্ত অমানবিক এর ফলে কয়েক লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন'.

 

শিক্ষা মন্ত্রীর পর বিজন ধরও ছাঁটাই শিক্ষকদের আস্বস্থ করতে গিয়ে বলেছেন- পার্টি চাকরিচ্যুতদের পাশে আছে. তাই সেইদিকেই তাকিয়ে আছেন সকলে- কীভাবে এই ক্ষতি পূরণ করে সরকার।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.