Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রত্যাশায় জাইকা কর্মীদের বেতনের দায়িত্ব তুলে নিল রাজ্য সরকার
By Our Correspondent, 25/10/2017, Agartala
 

সরকার৷ একথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন বনমন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া৷ তাঁর কথায়, জনজাতিদের জীবনযাত্রার স্থায়ী উন্নয়নের জন্য আটশো কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিতে চলেছে জাপান৷ এরজন্য সমীক্ষা করতে একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসেই ত্রিপুরায় আসতে চলেছে৷ হাওড়াকে নদীকে কেন্দ্র করে জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্পও তৈরি করা হচ্ছে৷ জাইকা প্রকল্পের অধীনেই এই কাজগুলি করা হবে৷ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে একথা জানিয়েছেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া৷

২০১৬ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে জাপান ও ভারতের সমন্বয়ে গড়ে তোলা জাইকা প্রজেক্টের৷ ত্রিপুরাতে জাইকা ইতোপূর্বে চারশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল৷ এই টাকায় হাতিপাড়ায় বনদপ্তরের একটি সুদৃশ্য বিল্ডিং নির্মান করা ছাড়াও সিটি সেন্টারে বিপনী বিতান, তেপানিয়া পার্ক, বড়মুড়া ইকো পার্ক সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা হয়েছে৷ এরমধ্যে মৎস চাষ থেকে শুরু করে ধূপকাটি তৈরি করার মত অনেক প্রকল্প ছিল৷ বিভিন্ন জেএফএম কমিটি এখন এই সম্পদ গুলি দেখবাল করছে৷

কৃষিভিত্তিক বনকে কেন্দ্র করে জনজাতিদের উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা হিসাবে জাইকা এখন পর্যন্ত ত্রিপুরাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে৷ গত দশ বছর ধরে রাজ্যের গ্রামে গঞ্জে জনজাতীদের উন্নয়নের জন্য চারশো কোটি টাকা ব্যয় করেছে জাইকা৷ বর্তমানে ধলাইয়ে জার্মান সরকারের একটি প্রকল্পও চালু রয়েছে৷ যেখানে ব্যয় হবে দুশো কোটি টাকা৷ কিন্তু জাইকা সারা রাজ্যেই কাজ করেছে৷ এবার জাপান আটশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ত্রিপুরায়৷ এরজন্য নতুন করে ভারত সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি সাক্ষর করা হবে৷

বনমন্ত্রী নরেশ জমাতিয়ার মতে, ত্রিপুরা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী জাপান৷ এ কারণে ২০১৮ সাল থেকে নতুন প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে চাইছে জাইকা৷ জনজাতিদের জীবনযাত্রার স্থায়ী মানোন্নয়নের জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে৷ তবে এবার যে প্রকল্প গুলি হাতে নেওয়া হবে তারমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে হাওড়া নদীর দুই পাড়কে কেন্দ্র করে এই সমস্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনজাতিদের স্থায়ী জীবনাযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটানো৷ এরজন্য সমীক্ষা করতে আগামী মাসে জাইকার একটি প্রতিনিধিদল ত্রিপুরা সফরে আসতে চলেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বনমন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া৷ শ্রী জমাতিয়া জানান, জাইকার বিভিন্ন প্রকল্পের ফলে ত্রিপুরাতে ২৮ হাজারেরও বেশি জনজাতি পরিবার উপকৃত হয়েছেন৷ নতুন পরিকল্পনায় আরও ৫০ হাজার পরিবারের স্থায়ী উপার্জনের ব্যবস্থা হবার সম্ভাবনা রয়েছে৷ উল্লেখ্য, এ বছর জাইকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সত্তেও রাজ্য সরকার ৬০ জনেরও বেশি জাইকায় নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বেতনের দায়িত্ব নিয়েছে৷ আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এরজন্য রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে ব্যয় হবে ৪ কোটি টাকারও বেশি৷ ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভবনার কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এই দায়ভার মাথায় তুলে নিয়েছে বলে মহাকরণ সূত্রের খবর৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.