Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
কুলভূষণের মা ও স্ত্রীকে হেনস্থা করায় আইএসআই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাফিজ সাঈদ, সভায় প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্রদূত
Burue Report, 30/12/2017, Islamabad

পরিকল্পনা করেই কুলভূষণের পরিবারকে হেনস্থা করেছে পাক প্রশাসন। ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে যে দাবি ভারতের তরফে তোলা হয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট করল লস্কর-ই-তৈবা এবং জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সইদ।

সাক্ষাতের নামে কুলভূষণের পরিবারকে হেনস্থা এবং অভব্য আচরণের জন্য প্রকাশ্য জনসভায় পাক গুপ্তচর সংস্থা (আইএসআই)-র ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল হাফিজ সইদের মুখে। শুক্রবার রাউয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনার সদর দফতর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে এই প্রকাশ্য জনসভা করে হাফিজ। সেই জনসভারই একটি ভিডিও ভারতের হাতে এসে পৌঁছেছে।

আইএসআইয়ের নজরকে চিতার সঙ্গে তুলনা করেছে হাফিজ। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘যে মুহূর্তে আইএসআইয়ের চোখে চেতনকূল (কুলভূষণের স্ত্রী)-এর জুতোয় অস্বাভাবিকত্ব নজরে এসেছে, তা খুলে নিয়েছে। আইএসআই ভীষণ স্মার্ট।’’

এই জনসভায় হাফিজ সইদের সঙ্গে মঞ্চে হাজির ছিল লস্কর ই তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা হাফিজে ঘনিষ্ঠ আমির হামজা। হামজাও একই ভাবে আইএসআইয়ের প্রশংসা করে বলে, ‘‘ভারত পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছিল তাঁর (কুলভূষণের) মা ও স্ত্রীকে দেখা করতে দেওয়ার জন্য। পাকিস্তান করুণা দেখিয়ে তাঁদের দেখা করার আমন্ত্রণ জানায়। ভারত বোধহয় ভেবেছিল কুলভূষণের সঙ্গে একই সোফায় তাঁরা মুখোমুখি হবেন। কিন্তু আইএসআই তা হতে দেয়নি।’’

কুলভূষণের পরিবারকে হেনস্থা করা পাক প্রশাসনের পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। গত ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানে কুলভূষণের মা ও স্ত্রী পৌঁছনোর পর থেকেই তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল ভারতের কাছে। কারণ সাক্ষাতের দিন আতঙ্কের পরিবেশে কাচের দেওয়ালের দুই দিকে কুলভূষণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁর পরিবারকে। ওই ঘরে ঢোকানোর আগে পায়ের জুতে থেকে কপালের টিপ সবই খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁদের। তাঁদের মাতৃভাষাতেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এর কড়া সমালোচনাও করা হয়। সাক্ষাতের নামে পাকিস্তান নিষ্ঠুর রসিকতা করেছে, এমন অভিযোগ আনে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।

সেই অভিযোগ যে কতটা সত্য, হাফিজ সইদের জনসভাই তার প্রমাণ, সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বলছেন ভারতের প্রাক্তন মেজর জেনারেল জি ডি বক্সী। লস্কর-ই-তৈবা এবং জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সইদ ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত। ভারত দীর্ঘ দিন ধরেই হাফিজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ চেয়ে চাপ দিচ্ছে পাকিস্তানকে। আমেরিকা তাঁর মাথার দাম ধার্য করেছে এক কোটি ডলার। রাষ্ট্রপুঞ্জ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে তাকে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা হাফিজকে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা। জি ডি বক্সীর মতে, এমন একজন সন্ত্রাসবাদী পাক সেনার সদর দফতরের কাছে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য জনসভায় আইএসআইয়ের প্রশংসা করছে, এটাই প্রমাণ করে যে হাফিজ আসলে আইএসআই এবং পাক প্রশাসনের ছত্রছায়াতেই রয়েছেন।

তবে হাফিজের এই সভার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আরও একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সভামঞ্চে হাফিজের পাশে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানে নিযুক্ত প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্রদূতকে। ভারত এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। নয়াদিল্লি কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত ওয়ালিদ আবু আলিকে ফিরিয়ে নিল প্যালেস্তাইন। একই সঙ্গে এই ঘটনার জন্য ‘গভীর ভাবে দুঃখপ্রকাশ’ও করল তারা।

শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডিতে লস্কর প্রধান হাজিফ সইদের সভায় গিয়েছিলেন প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্রদূত। ২৬/১১-র মূল চক্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে পাশাপাশি দেখা যায় তাঁকে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার নয়াদিল্লি প্রতিবাদ জানায় ভারত।কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নয়াদিল্লিতে প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।” দ্রুতই সরকারি ভাবে এই ক্ষোভের বার্তা প্যালেস্তাইনকে পাঠায় দিল্লি।

শনিবার বিকেলেই কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “প্যালেস্তাইন এই কর্মকাণ্ডের জন্য গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছে। ওই রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা।” এর পরেই জানা যায় পাকিস্তান থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত ওয়ালিদ আবু আলিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে প্যালেস্তাইন।
প্যালেস্তাইনের এই সিদ্ধান্তে একটা বড় অস্বস্তির হাত থেকেও রক্ষা পেল নয়াদিল্লি। ক’দিন আগেই যে দেশটার পক্ষে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে জেরুসালেম ইস্যুতে ভোট দিয়েছে ভারত, সেই প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্রদূতে কাণ্ড বিড়ম্বনায় ফেলেছিল বেশ কিছুটা। কারণ জেরুজালেম ইস্যুতে ভারত রাষ্ট্রপুঞ্জে ভোট দিয়েছে নিজের ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’ আমেরিকা এবং ক্রমশ আরও ভাল ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হয়ে ওঠা ইজরায়েলেকে চটিয়ে ফেলার ঝুঁকি নিয়েই।

এ মাসের গোড়ায় জেরুসালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী বলে স্বীকৃতি দিয়ে বিবৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঝড় ওঠে বিশ্ব জুড়ে। যে শহরকে ঘিরে ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ, ট্রাম্পের বিবৃতিতে তা আবার উঠে আসে সামনে। বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি পর্যন্ত গড়ায়। প্রায় একঘরে হয় আমেরিকা, ইজরায়েল। ১২৭টি দেশ আমেরিকা আর ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। এর মধ্যে ভারতও ছিল। মোদী সরকারের মধ্যেও অনেকে কিন্তু ভারতের এই ভোটদানের পক্ষে ছিলেন না। অনেকেরই মত, ভারত ভোটদানে বিরত থাকালেই ভাল করত।

এ বছরের শুরুতেই প্যালেস্তাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভারত সফরে এসেছিলেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্যালেস্তাইনের রামাল্লায় মোদীর যাওয়ার কথা রয়েছে। যদি যান, এটাই হবে প্যালেস্তাইনে তাঁর প্রথম সফর। যখন নয়াদিল্লি ও রামাল্লার মধ্যে মোদীর সফর নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই হাফিজ সইদের সভায় প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে একটা টানাপড়েন তৈরি করে ফেলেছিল আচমকাই। রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে প্যালেস্তাইন অবশ্য ভারতের প্রতি সুসম্পর্ক রাখার ইতিবাচক বার্তাই দিল।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.