Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
বলিউডের তারকা শ্রীদেবীর প্রয়াণ, ভাইপোর বিয়ের অনুষ্টানে গিয়ে দুবাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হোটেলেই মৃত্যু, শোক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বলিউডের
Burue Report, 25/02/2018, Dubai

ভাইপোর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী শ্রীদেবী। শনিবার রাত ১১টা ৩০মিনিট নাগাদ দুবাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪।
ভাইপোর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুবাই গিয়েছিলেন শ্রীদেবী।  সাথে ছিলেন স্বামী বনি কাপুর ও ছোট মেয়ে খুশি। সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যু খবর পাওয়া মাত্রই শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউডে এমনকি গোটা দেশজুড়ে।
বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে  রাত ১১টা ৩০মিনিট নাগাদ হোটেলের শৌচাগারে বুকে ব্যাথা অনুভব করেন শ্রীদেবী। সেখানেই পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। রবিবার মৃতদেহের ময়না তদন্ত  হবার পর তাঁর মৃতদেহ আসবে ভারতে। এরজন্য একটি চার্টাড বিমান দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ান হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট তামিলনাড়ুতে জন্ম হয়েছিল শ্রীদেবীর। পারিবারিক নাম ছিল শ্রী আম্মা আয়াঙ্গার ইয়াপ্পান। শিশুশিল্পী হিসেবে তামিল ছবি ‘থুনাইভান’য়ে তার অভিনয়ের শুরু। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের মন জয় করে এই অভিনেত্রী খ্যাতি পান বেবি ডল নামে।
মালায়ালাম সিনেমা ‘পুমপাত্তা’তে অভিনয় করে পান কেরালার সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার। পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে ভারতের বিভিন্ন ভাষার দেড় শতাধিক চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন শ্রীদেবী।
১৯৭৫ সালে সুপারহিট হিন্দি সিনেমা ‘জুলি’তে নায়িকার ছোটবোনের চরিত্রে অভিনয় করে বলিউডের পরিচালদের দৃষ্টি কাড়েন শ্রীদেবী। পরের বছরই তামিল সিনেমায় তাকে দেখা যায় নায়িকার চরিত্রে। কমল হাসান ও রজনীকান্তের মত অভিনেতাদের সঙ্গে তার জুটি দর্শকপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৯ সালে‘সোলভা সাওয়ান’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে নায়িকা চরিত্রে অভিষেক ঘটে শ্রীদেবীর। তবে ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হিম্মতওয়ালা’র মাধ্যমে বলিউডে তার জয়যাত্রা শুরু হয়। জিতেন্দ্রর বিপরীতে শ্রীদেবীর অভিনয়, বিশেষ করে তার নাচ ঝড় তোলে দর্শক-হৃদয়ে। ওই সিনেমায় ‘নয়নে সে স্বপনা’ গানের সঙ্গে শ্রীদেবীর নাচ এখনও স্মরণ করেন পুরানো দিনের হিন্দি ছবির দর্শকরা।এরপর একের পর এক মুক্তি পায় শ্রীদেবী অভিনীত ‘তোহফা’, ‘মাওয়ালি’, ‘মাকসুদ’, ‘জাস্টিস চৌধুরি’। প্রতিটি ছবিই বাণিজ্যিক সাফল্য পায়।
১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় ‘নাগিনা’। ঋষি কাপুরের বিপরীতে সেই সিনেমায় শ্রীদেবীর অসামান্য সৌন্দর্য, তার নাচ ও অভিনয় দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। ছবিটি ছিল ব্লকবাস্টর হিট। এর সিকুয়েল‘ নিগাহে নাগিন’ও ছিল বাণিজ্যিকভাবে সফল। ক্যারিয়ারের ওই সময়েই শ্রীদেবী হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার সুপারস্টার। ‘কার্মা’, ‘জাঁবাজ’ এর মতো বহু তারকা অভিনেতার সিনেমাতেও মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন তিনি। রোমান্স, অ্যাকশন, কমেডি- তিন ধরনের অভিনয়েই বলিউডে তিনি তখন সেরা। অনিল কাপুরের সঙ্গে শ্রীদেবীর কমেডি সিনেমা ‘মি. ইন্ডিয়া’ দর্শকপ্রিয় হওয়ার পর এ দুই তারকার জুটিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
জিতেন্দ্র, মিঠুন চক্রবর্ত্তী, অনিল কাপুর, ঋষি কাপুর, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধে শ্রীদেবী উপহার দেন ব্লকবাস্টার সব সিনেমা। ‘খুদা গাওয়া’তে তরুণী বেনজীরের ভূমিকায় তিনি হয়ে ওঠেন শক্তিময়ী ও কোমল আফগান নারীর সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘লাডলা’ সিনেমায় অহকাংরী শিল্পপতির চরিত্রে শ্রীদেবী ছিলেন আবেদনময়ী। ‘জুদাই’ ছবিতে লোভী গৃহবধূ কাজলের চরিত্রেও তার অভিনয় ছিল নজরকাড়া। বৈচিত্র্যময় এ অভিনয়শিল্পী ১৯৯৭ সালে জুদাই চলচ্চিত্রের মুক্তির পর বিরতি নেন। ২০১২ সালে চলচ্চিত্রে ফেরেন ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ নিয়ে।
২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে। অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পাঁচবার। ২০১৫ সালে পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার গ্ল্যামার অ্যান্ড ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড। বলিউডের এই অভিনেত্রীর আকস্মিক প্রয়ানে গভীর শোক নেমে আসে সারা দেশে। সাতসকালেই খবর পেয়ে মুষড়ে পড়েন দেশবাসী। শোক নেমে আসে বলিউডে।
শ্রীদেবীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কবিন্দ, উপ রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শেষ ছবি (ডানে )

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.