Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
দুই চিরশত্রু আমেরিকা-উত্তর কোরিয়ার বৈঠক, ‘দিনটা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম একটা শ্রেষ্ঠ দিন’, জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
Burue Report, 12/06/2018, Singapur

‘অাজকের দিনটা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিনের একটা।’ উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রনায়ক কিম জং উনের সঙ্গে সিঙ্গাপুর শীর্ষ সম্মেলন সেরে পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখব। অতীতের কাজকর্ম ভবিষ্যত নির্ধারণ করে না। এই দিনটা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিনের একটা।’ ট্রাম্পের আশা, কিম উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কাজ শুরু করে দেবেন। কারণ কিম তাঁকে বলেছেন, আমেরিকার আগের কোনও প্রেসিডেন্টের উপর তাঁর কোনও ভরসা ছিল না। সেজন্য তিনি এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্পের থেকেও বেশিভাবে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি কিমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং কিম তা গ্রহণও করেছেন। তাঁর দেশের জন্য সুরক্ষিত ভবিষ্যতের সুযোগ পেয়েছেন কিম জং উন। কারণ যে কেউ যুদ্ধ করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত সাহসীরাই শান্তির পথে পা বাড়াতে পারেন। উত্তর কোরিয়ার উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তখনই সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে, যখন আমেরিকা সম্পূর্ণরূপে আশ্বস্ত হবে, সেখানে আর কোনও পরমাণু অস্ত্র নেই। তিনি নিজেও ওই নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়ার পক্ষপাতী বলে এদিন জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই বৈঠক যেমন উত্তর কোরিয়ার জন্য ভাল, তেমনই ভাল আমেরিকার জন্যও। যারা তাঁকে ঘৃণা করে শুধু তারাই ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তিনি কিমের সঙ্গে দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার সাফল্য দু’জনের পক্ষেই ভাল। মঙ্গলবারের পর থেকে কোরিয়া উপদ্বীপে সবরকম সামরিক মহড়া থামিয়ে দেবে আমেরিকা। জি–৭ বৈঠকে তাঁর সঙ্গে অ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের ছবি নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, তার জবাবে এদিন ট্রাম্প বলেন, তাঁরা সেসময় সবাই বসেছিলেন এবং কিছু গুরুত্বপূ্র্ণ নথিপত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বৈঠকের আগের দিনটাও কার্যত চুপচাপই কাটান দুই রাষ্ট্রনায়ক। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী তথা মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও আশ্বাস দেন, উত্তর কোরিয়া নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটলে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব সহযোগিতা করবে আমেরিকা। এই আবহেই সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও কিম। বৈঠকের টেবিলে বলে কিম বলেন, 'এখানে আসার রাস্তাটা সহজ ছিল না। আমাদের এগোনোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পুরনো কিছু ঐতিহ্য ও অভ্যেস। তবে আমরা সেই সব বাধা কাটিয়ে আজ এখানে এসেছি।'
প্রায় ৪০ মিনিট ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রনেতাকে পাশাপাশি ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এরপর তাঁরা ঢোকের আর একটি বৈঠকে, যেখানে অপেক্ষা করছিলেন দুই দেশের আধিকারিকরা। সেখানেই কিম বলেন, 'আমার মনে হয় গোটা বিশ্ব এই মুহূর্তটা দেখছে। অনেকেই একে রূপকথা বা সায়ান্স ফিকশন মুভির একটি দৃশ্য বলে মনে করছে।' বৈঠক শেষে এদিন একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প ও কিম। বৈঠকের পর ট্রাম্প আশাপ্রকাশ করে বলেছেন, খুব শিগগিরই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করবে উত্তর কোরিয়া।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.