Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বৈঠকে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি
Burue Report, 10/07/2018, New Delhi

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও বেশি সুদঢ় করার লক্ষ্যে ভারত সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জে ইনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে এই শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে স্বাক্ষরিত হয় একাধিক চুক্তি। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান । এর আগে রাইসিনহা হিলসে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাজঘাটে গিয়ে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানী দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি । পরে হায়দরাবাদ হাউজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শীর্ষ পর্যায় বৈঠকে বসেন তিনি । বৈঠক অংশগ্রহণ করেন দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি । বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এগারোটি মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এই এগারোটি চুক্তির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কম্প্রিহেনসিভ ইকনোমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়ানোর এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ভারতের তরফ থেকে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ প্রভু। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম হুয়ং চং। এছাড়াও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজ্যান্স, বাও ডাটা সহ সব মিলিয়ে এদিনের বৈঠকে এগারোটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বৈঠকের পর দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, আমাদের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়া অংশগ্রহণ করেছে। তার ফলে ভারতে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রতিটি বাড়িতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি নিজেদের পণ্যের পরিচয় তৈরি করতে পেরেছে। তারা অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে ।

কোরীয় উপকূলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির অবদানকে প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি মুনের তৎপরতার জন্যই কোরীয় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উত্তর এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বিস্তারের সংযোগকে ভারত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়া প্রচেষ্টায় ভারত অংশীদারি। উত্তেজনা কমানোর জন্য সমস্ত ধরণের সহযোগিতা আমরা করব। আলোচনা এবং সহযোগিতাকেও আমরা গুরুত্ব দেবো।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জে ইন বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে গত ৪৫ বছর ধরে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অনেক উন্নতি করেছে। ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন এলেন তখন দুই দেশের ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-কে আরও শক্তিশালী করা হয়। তিন বছর হল প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘পূবে তাকাও’ নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । আমারাও ‘নতুন দক্ষিণ নীতি’-কে গুরুত্ব দিচ্ছি । তার ফলে সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশ খুব গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে চলেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষিতে প্রধান মোদী এবং আমি রাজি হয়েছি জনগণ, সমৃদ্ধি এবং শান্তির জন্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কোরীয় সফরের জন্য আমি অপেক্ষায় থাকবো। ধারাবাহিকভাবে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধিমূলক সম্মেলন আগামী দিনে আয়োজন করা হবে।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.