Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে : আর কে সিনহা
Burue Report, 13/09/2018, Kolkata

সংবাদ পরিবেশনের ঘরানা বদলে যাচ্ছে | এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে| বৃহস্পতিবার কলকাতায় বহুভাষিক সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচারে পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে একথা বলেন সংস্থার চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ রবীন্দ্র কিশোর সিনহা। তিনি কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এখন ডিজিটাল মিডিয়ার যুগ| সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে| সতর্ক থাকতে হবে মিথ্যা সংবাদ থেকে| খবরের গুনমানের পাশাপাশি সাংবাদিক এবং সংবাদ প্রশাসকদের কাছে সততা একটা বড় বিষয়|”

বৃহস্পতিবার কলকাতায় সংস্থার বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিক এবং সংবাদ প্রশাসকদের সঙ্গে এ দিন আলোচনায় বসেন বহুভাষিক সংবাদ সংস্থা ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ রবীন্দ্র কিশোর সিনহা। তিনি বলেন, “সংবাদ পরিবেশনের সময় পক্ষপাতিত্বের কথা মাথায় না রেখে প্রতিটি সংবাদের মধ্যে কী, কখন, কেন, কীভাবে, কে-এ সবের উত্তর দিতে হবে| সেই সঙ্গে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মাবিক দিক তুলে ধরতে হবে | উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর খবর করতে গিয়ে কে সেই যুবক- তাঁর খোঁজ করি, হয়ত দেখা যাবে তিনি এবার আইএএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন| তিনি কোনওচাকুরি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন | সেক্ষেত্রে খবরের দৃষ্টিকোণ বদলে যাবে|”
এদিন ডিজিট্যাল প্রযুক্তি উপর সাংবাদিকদের সাবলীল হওয়ার উপর জোর দেন আর কে সিনহা| তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ এখন ডিজিট্যাল প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। তাই সাংবাদিকদের ডিজিট্যাল প্রযুক্তি নিয়ে আরও বেশি সাবলীল হতে হবে। নিন্দা, নেতিবাচক সাংবাদ থেকেও বেশি ইতিবাচক খবরের উপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সাংবাদিকদের দেশের প্রতি সেবার মনোভাব রেখে খবর করতে হবে। বিচ্ছিন্নবাদীরা চায় নাশকতামূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে সংবাদে থাকতে| দেশবিরোধী এমন কার্যকলাপের খবরকে বেশি গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল। কিন্তু সেই নাশকতায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে হবে। সত্য সংবাদ সেবা প্রদান করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। খবরের সত্যতাসত্যের উপর আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত।

প্রশাসনিক কাজের অযথা নিন্দা নয়, এই মন্তব্য করে তিনি এ দিন বলেন, “প্রশাসনিক কাজের অযথা নিন্দা নয়| দলমত নির্বিশেষে যেসব সরকারি প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে সেই খবরগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত | যারা যথাযথ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেই খবরগুলিও তুলে ধরতে হবে।”
রবীন্দ্র কিশোরবাবু বলেন, “নেপথ্যের খবর পরিবেশন করতে হবে| খবরের মধ্যে মানবিক অংশগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া উচিত| একপেশে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির খবর পরিবেশন করলে সংস্থার নিরপেক্ষতা মার খাবে| চিড় খাবে ভাবমূর্তি| এ ব্যাপারে রাজনীতিকদেরও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী থাকা দরকার|” এই প্রসঙ্গে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে রাজনারায়ণকে রায়বেরিলি থেকে জয়ী বলে ঘোষনা করার পর ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা এবং জরুরী অবস্থা জারির উল্লেখ করে বলেন, চারটি সংবাদ সংস্থা গুটিয়ে একটি ছাতার তলায় নিয়ে আসা হল| স্বাধীনতা হরণ করা হল সংবাদ সংস্থাগুলির| ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরে লালকৃষ্ণ আডবানি আমাদের স্বাধিকার ফিরিয়ে দিলেন| কিন্তু ১৯৮১-তে ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর কোপে পড়ে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’ সমবায় সংস্থা। আইন পরিমার্জন করে এটা ভেঙ্গে দিয়ে তিনি সুভাষ যাদব নামে একজনকে প্রশাসক করে দিলেন। নানাভাবে সমস্যায় পড়তে হল আমাদের।

খবরের স্বার্থে আমরা আপোষের পথে কখনও হাঁটিনি| এই মন্তব্য করে রবীন্দ্র কিশোরবাবু বলেন, “সাংবাদিকদের আমরা পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি| কখনও কোনও ব্যুরো চিফকে বলিনি, এর স্বপক্ষে বা ওর বিপক্ষে খবর কর| বরং বলি, মানবিক খবর, গঠনমুলক খবরের অপর জোর দিতে হবে| সততা, নিষ্ঠা, তত্পরতা দেখালে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি হবেই|”
সংবাদ সংস্থার খবর নিয়ে পত্রিকায় তার স্বীকৃতি প্রকাশের সময় না দেওয়াটা অন্যায় এবং অপরাধ| এই মন্তব্য করে রবীন্দ্র কিশোরবাবু বলেন, “এ ছাড়া, কখনও যদি এজেন্সির দেওয়া খবরে কোনও সংবাদপত্র আইনি জালে জড়িয়ে পড়ে, সংস্থার উল্লেখ না থাকলে তার দায় ওই সংবাদপত্রকেই নিতে হবে| নিজেদের স্বার্থেই খবরের সঙ্গে সংস্থার নামের উল্লেখ থাকা দরকার| এ দিন তিনি জানান, কিছু শহরে 'অটল কাব্যাঞ্জলি' অনুষ্ঠান বিশেষ সাড়া ফেলেছে| কলকাতাতেও এ রকম আয়োজন করা হবে।

এ দিনের আলোচনায় ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর সিইও সমীর কুমার বলেন, “খবরের নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে, পাঠক যেন খবরটির লেখার ধরণ পছন্দ করেন|সতর্ক থাকতে হবে ফেক নিউজের ওপর| সংবাদ সংস্থায় বাংলায় খবর আমরাই একমাত্র সংবাদ পরিবেশন করি| এই সুযোগের সদ্ব্যাবহার করতে হবে আমাদের|”
সংস্থার সম্পাদক অরুণ শ্রীবাস্তব বলেন, “সংবাদে প্রতিযোগিতার মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে| সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে খবর পরিবেশন করতে হবে| মাথায় রাখতে হবে দ্রুততা এবং নিরপেক্ষতা| নিজেদের সংস্থার অস্তিত্ব আরও দক্ষভাবে প্রমাণ করতে হবে|”

সংস্থার অফ ডিরেক্টরসের সদস্য চন্দ্রমোহন অগ্রবাল বলেন, “সংস্থার প্রতি সাংবাদিক-কর্মীদের একাত্মতা একটা বড় বিষয়| ভবতে হবে, আমিও তো সংস্থার একজন| গত ২-৩ বছরে এই সংস্থার যে রকম অগ্রগতি হয়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে দেশের এক নম্বর সংবাদ সংস্থা হয়ে উঠবে এটি|” আলোচনায় সংস্থার তরফে ‘নবোত্থান’ পত্রিকার সম্পাদক তথা বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের সদস্য রথীন্দ্র মোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর কলকাতার ব্যুরো চিফ সন্তোষ মধুপ তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন|

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.