Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সম্ভাব্য ভবিষ্যতের আক্রমণের জন্য একটি বিকল্প কৌশল এবং 'ধারণার প্রমাণ'
PIB, 29/09/2018, New Delhi

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জম্মু-কাশ্মির ভিত্তিক উড়ি ব্রিগেড সদর দফতর আক্রমণের পরিণতিতে ভারত সরকার কর্তৃক পাকিস্থানের বিরুদ্ধে অনেক সামরিক ও অসামরিক প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' এর পদক্ষেপটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এবং জাতির সাথে অনুরক্ত হয়ে উঠেছে৷ ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ইং রাতে ভারতীয় সেনা কর্তৃক কাশ্মীরের বিতর্কিত ভারত-পাক লাইন অব কন্টোল অতিক্রম করে পর্যায়ক্রমে একাধিক লঞ্চ পেড-এ আক্রমণ শানানো হয়৷ পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘটনা উন্মোচিত করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন তথা ডিজিএমও৷

নিঃসন্দেহে কাশ্মিরকে উপ প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্র হিসাবে পরিগণিত করতে পাকিস্তান উরি বেসের উপর যে হত্যাকারী আক্রমণ নামিয়ে এনেছিল ভারত তাকে ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসাবেই মনে করেছে৷ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মধ্যে কোনো নতুনত্ব ছিল না৷ কিন্তু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের বার্তা দিতে গিয়ে ভারত প্রথম বারের মত এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে৷ পাকিস্তানি সেনাদের উস্কানির বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল জাতীয় স্তরের একটি সমন্বিত উদ্যোগ, যা প্রতিরক্ষা ও বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন ডিজিএমও৷

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর নর্দান কমান্ড কর্তৃক কৌশলগত কর্মকাণ্ড তুলে ধরা। লেঃ জেঃ ডিএস হোদা (অবসরপ্রাপ্ত) মেনে নিয়েছেন, “এই স্ট্রাইক আমাদের প্রতিক্রিয়ার পরিসীমার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর বিকল্প যুক্ত হয়েছে৷” সম্ভাব্য ভবিষ্যতের আক্রমণের জন্য এটি একটি বিকল্প কৌশল এবং 'ধারণার প্রমাণ' হিসাবে কাজ করার উদ্দেশ্যে ছিল বলে উল্লেখ করেছেন৷ এই স্ট্রাইকের পর পাকিস্তানের সেনাদের অন্তর্বর্তী রেডিও বার্তা থেকে পাওয়া ভয়, আতঙ্ক এবং জওয়ানদের ছুটি বাতিল করে দেওয়ার ঘটনা তাই প্রতীয়মান হয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন জেনারেল হুদা৷

আন্তঃসীমান্ত আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে ভারতের ইচ্ছা ও সক্ষমতার প্রদর্শক হিসাবে ব্যবহার করা এবং ভারতের আক্রমনাত্মক কৌশলগত প্রতিক্রিয়া ও ভবিষৎতে এই ধরণের আক্রমণের সম্ভাবনার প্রশ্নে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সম্পূর্ণ সফল হয়েছিল৷ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্রমবর্ধমান শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন এবং নতুন করে জঙ্গি আক্রমণের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান দেশবাসীকে বোঝাতে মরীয়া চেষ্টা করেছিল যে তাদের উপর কোনো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়নি, যা হয়েছে তা বরাবরের মতই৷ কিন্তু নাগরোটায় শেষ জিএএসপি’র পর আক্রমণের তীব্রতা ও মাত্রা উভয়ই কমে এসেছে, যা ইঙ্গিত করে  জ্ঞাত রাষ্টে্র আচরণ থেকেই৷

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সঙ্গে সিএফভি এটাও দেখতে শুরু করেছে যে বৃহত্তর কৌশলের অঙ্গ হিসাবে সীমান্ত পরিকাঠামো নষ্ট করে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটাতে ও রসদ সরবরাহ করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে৷ এই ধারণা পাকিস্তানীদের ভাবতে বাধ্য করছে একটি প্রতিকূল এলওসি এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে খরচের বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে৷

ইতোপূর্বে একটি অত্যন্ত কার্যকর নজরদারী গ্রিড-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনারা” অপেক্ষা কর এবং দেখ” এই পদ্ধতি অনুসরণ করে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের জন্য সুযোগ করে দিত৷ কিন্তু ভারত সরকার গোটা উপত্যকাকে ইন্টিগ্রেটেড কাউন্টার ইনসারজেন্সি গ্রিডে যুক্ত করায় এবং উপত্যকায় অত্যন্ত কার্যকরী এন্টি ইনফিলট্রিশন অবস্টাকল সিস্টেমের কারণে অধিকাংশ সন্ত্রাসবাদী ভারতীয় সীমানায় নির্দিষ্ট স্থানে পৌছুবার আগেই হয় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে নয় মারা যাচ্ছে৷ এই কৌশল থাকা সত্বেও নিরাপত্তাবেষ্টনীকে এড়িয়ে কিছু সংখ্যক জঙ্গি ভারতীয় এলাকায় ঢুকে উরি, পাঠানকোট, গুরুদাসপুরের মত কিছু স্থানে ক্ষতি করতে সক্ষম হচ্ছে৷  উরি’র ঘটনার পর ভারত সরকার একটি সম্মিলিত কৌশল নিয়েছে পাকিস্তানকে দুর্বল ও আলাদা করার৷ আর সেনারা সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে ব্যাপক প্রচারে নিয়ে এবং এলওসি’র ওপারে জঙ্গিদের আস্থানা ধ্বংস করে এই বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে – সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ভারত আগ্রাসী ভূমিকা নিতেও পিছপা হবে না৷

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.