Facebook Google Plus Twiter YouTube
   
যুবতীর শ্লীলতাহানি, অগ্নিগর্ভ রানিরবাজারের ভদ্রনিশিপাড়া, আশ্রয় শিবিরে ৭০ পরিবার
By Our Correspondent, 20/10/2018, Agartala

সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হলেও দশমীর রাতে সংঘটিত এক ঘটনায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ ললিতবাজারের ভদ্রনিশিপাড়া। দশমীর রাতে একদিকে যখন দেবী দুর্গার বিসর্জন হচ্ছিল ঠিক তখন এক যুবতীর শ্লীলতাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পরিস্থিতি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, দশমীর রাতে ললিতবাজারের ভদ্রনিশিপাড়ায় এক যুবতীকে শ্লীলতাহানি করে কিছু যুবক। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর গ্রামবাসীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযুক্তদের বাধা দিতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। অভিযুক্তরা গ্রামবাসীদের উপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। ভয়ে নিজেদের প্রাণ রক্ষার্থে ললিতবাজারের ভদ্রনিশিপাড়ার মানুষ রাতে রানিরবাজার থানায় আশ্রয় নেন।
এদিকে পুরো ঘটনা রানিরবাজার থানার পুলিশকে জানানো হলে দ্রুত এলাকায় পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ভদ্রনিশিপাড়ার পরিস্থিতি এখন শান্ত হলেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে, এখনও ভদ্রনিশিপাড়ার মানুষ ভয়ে রয়েছেন। রানিরবাজার থানা সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।
জিরানিয়া মহকুমার এসডিএম শুভাশিস ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজ্যের পশ্চিম জেলার রানিরবাজার থানার অন্তর্গত ললিতবাজার এলাকায় দুটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে ওইসব বাড়ি-সহ আশপাশের প্রায় ৭০টি পরিবারের মানুষজন শুক্রবার আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রথমে জিরানিয়া থানায় আশ্রয় নেন। পরবর্তী সময় কিছু পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়ি ফিরে যেতে রাজি হননি। তাই তাঁদের জিরানিয়া মহকুমা প্রশাসনের তরফে পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলে রাখা হয়েছে। অন্য সূত্রে জানা গেছে, ৩০০-এর বেশি মানুষ ললিতবাজার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
প্রশাসনের তরফে তাঁদের নিরাপত্তা-সহ খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ফাঁকা বাড়িতে যাতে অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষ আক্রমণ না করতে পারে তাই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত জারি থাকবে ১৪৪ ধারা। প্রয়োজনে এর সময় বাড়ানো হতে পারে। নিরাপত্তা কর্মীরা টহল দিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, পুলিশের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময় তাঁদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। এদিকে স্কুলে আশ্রিত মানুষজন জানান, তাঁরা নিজের বাড়িতে যেতে চান। কিন্তু যদি আবার আক্রমণ করে তাই বাড়ি যেতে ভয় পাচ্ছেন। অন্য এক সূত্রে জানা গেছে, ৩০০-এর বেশি মানুষ ললিতবাজার থেকে পালিয়ে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

 
Accessibility | Copyright | Disclaimer | Hyperlinking | Privacy | Terms and Conditions | Feedback | E-paper | Citizen Service
 
© aajkeronlinekagaj, Agartala 799 001, Tripura, INDIA.